শিরোনাম

৩৪৯ সদস্য বিশিষ্ট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটি সংশোধনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, ০২ নভেম্বর ২০২১ | পড়া হয়েছে 217 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটি সংশোধনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদ্য ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের ৩৪৯ সদস্যের কমিটি সংশোধনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।

২রা নভেম্বর, ২০২১ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পৌর এলাকার ভাদুঘর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল সড়ক পর্যন্ত পদবঞ্চিরা মোটর সাইকেলযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।আগামী ৭দিনের মধ্যে এই কমিটি সংশোধনের দাবি জানান তারা।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩০ অক্টোবর ৩৪৯ সদস্য বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি অনুমোদন দেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। পরদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ফেসবুক পেইজে এই কমিটি প্রকাশ করা হয়।

কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে ৯০ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ১১ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ১১ জন, উপ-সম্পাদক ১৩৬, সহ-সম্পাদক ৫৯জন ও সদস্য ৪০জন স্থান পায়। কমিটিতে জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার বেশ কয়েকজন নেতার নাম রয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা ছাত্রলীগের ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনেন প্রায় ৪৫ মাস পর ৩৪৯সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনার পর পরই কমিটি নিয়ে শুরু হয় বির্তক। এই ধাউস কমিটি নিয়ে ফেসবুকে বইছে সমালোচনা ঝড়। অভিযোগ রয়েছে অছাত্র, বিবাহিত, আপন দুই ভাই, ছাত্রদলের ছেলেরা স্থান পেয়েছে কমিটিতে।

এদিকে নব-ঘোষিত কমিটি সংশোধনের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।

বিকেলে শহরের ভাদুঘর থেকে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা অর্ধশতাধিক মোটর সরাইকেল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে।

প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জুয়েল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লাভলু চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বলেন, ওয়ান পাশ, টু পাশ ও যারা এসসসি পাস করেনি, যাদের বয়স ৩০এর বেশি, বিবাহিত, অছাত্র, মাদক ব্যবসায়ী, বিভিন্ন মামলা-হামলার সাথে জড়িত ও বিএনপি-ছাত্রদলের বিভিন্ন কমিটিতে ছিল এমন নেতাকর্মীরা জেলা ছাত্রলীগের এই কমিটিতে রাখা হয়েছে।

বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কিছু বর্তমান ও সাবেক নেতাদের সমর্থন ও ইন্ধনে এমন কমিটি হয়েছে।

আমরা চাই জেলা ছাত্রলীগ একটি পরিচ্ছন্ন ও ছাত্রজনতার কমিটি হউক। যারা মেঘে রোদে বৃষ্টিতে ভিজে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করছে, যারা রাজপথে বিএনপির আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মাঠে ছিল তাদের এই কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়নি। ছাত্রলীগের কমিটি সংশোধন করে বিবাহিত, অছাত্র, মাদক ব্যবসায়ীদের কমিটি থেকে বিলুপ্ত করতে হবে। যদি আগামী সাতদিনের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের এই কমিটি সংশোধন করা না হয়, তাহলে আমরা এর চেয়ে বড় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিবাহিত, অছাত্র, মাদক ব্যবসায়ী, মাদক মামলা জড়িত এমন ১০০জন এই কমিটিতে রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ১০-১২জন, ২০-২৫জন বিবাহিত, ৮-১০অছাত্র, ছাত্রদল থেকে এই কমিটিতে এসেছে এমন ৫-৭ জন রয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে এত বড় কমিটি জমা দেয়নি। তবে কমিটিতে পদ পাওয়া যে কোনো ছাত্রলীগের সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের বিষয়ে কেউ যদি সুনির্দিষ্ট প্রমান দেখাতে পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০