[count_down]

শিরোনাম

আতশবাজি ও গান-বাজনায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন ॥ পুলিশী হস্তক্ষেপে বন্ধ

শফিকুল ইসলাম সোহেল | বুধবার, ০১ জানুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 245 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন ॥ পুলিশী হস্তক্ষেপে বন্ধ

২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের অভ্যন্তরে চিকিৎসকরা থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহায় হাসপাতালে থাকা রোগীরা। অনুষ্ঠানে গান-বাজনা ও আতশবাজি ফুটানোর কারনে অনেক রোগী রাতে ঘুমাতে পারেনি। এতে করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন চিকিৎসকরা। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ও পিঠা উৎসব উদ্বোধন এবং থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে হাসপাতালের অভ্যন্তরেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয়ার ফটকের সামনে গানের মঞ্চ করা হয়। এর উল্টোদিকেই পিঠা উৎসবের প্যান্ডেল করা হয়। দুই আয়োজনের মাঝখানের খালি জায়গায় থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষে আতশবাজি ফুটানো হয়। হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস নামে একটি ওষুধ কোম্পানী পুরো অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।


অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শাহ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ডাঃ মোঃ আবু সাঈদ, ডাঃ ফৌজিয়া আখতার, ডাঃ হুমায়ুন কবিরসহ আরো কয়েকজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন চিকিৎসক অনুষ্ঠানে আতশ বাজি ফুটান। আতশ বাজির আওয়াজে প্রকম্পিত হয় হাসপাতাল ক্যাম্পাস। অনুষ্ঠানে কয়েকজন চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

তবে হাসপাতালে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করার বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেয়া হয়নি।
হাসপাতাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, রাতের বেলা গানের শব্দকে মানিয়ে নিয়েই বিছানাতে শুয়ে ছিলাম। তবে পরে আতশ বাজির শব্দে আর ঘুমাতে পারিনি। তিনি বলেন, প্রথমে তো ভয়ই পেয়েছিলাম। পড়ে শুনি ডাক্তাররা থার্টি ফাস্টের আনন্দ করছে। কাজটি মোটেও ঠিক হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি থাকা রোগী নবীনগর উপজেলার বড়াইল গ্রামের এলু মিয়া ও সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছের আবু তালেব মৃধা বলেন, ‘এমনিতেই ঘুমের সমস্যা। তার উপর গানের ও বাজির আওয়াজে আমাদের আরো সমস্যা হয়।’ শিশু ওয়ার্ডে থাকা সুহিলপুরের মালেক চাঁন বেগম জানান, বিকট শব্দের সময় তাঁর নাতিকে কোলে নিয়ে বসে ছিলেন।
উইস ফর বেটার ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামে একটি ফেসবুক পেইজে চিকিৎসকদের থার্টিফাস্ট নাইট আয়োজনের সমালোচনা করে একাধিক পোস্ট হয়। এতে অনেকেই তাঁদের মন্তব্যে চিকিৎসকদের কঠোর সমালোচনা করেন। এমনকি চিকিৎসকদেরকেই রোগী বলে আখ্যায়িত করেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডাঃ মোঃ শওকত হোসেন বলেন, “চিকিৎসকদের রিফ্রেশের জন্য মূলত পিঠা উৎসব ও ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। গানের আয়োজনের কথা জানা ছিলো না। কিছু সময় গান চললে আমরা বন্ধ করে দেই। আমাদের পরিবারের ছোট বাচ্চারা আতশ বাজি ফুটাতে চাইলে আমরা ‘না’ করে দেই।’

এ ব্যাপারে হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের আঞ্চলিক বিপনন ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম বলেন, এটা সদর হাসপাতালের অনুষ্ঠান ছিল। আমরা শুধু স্পন্সর করেছি। হাসপাতালের ভেতরে অনুষ্ঠানের অনুমোদন ছিল কি-না সেটা তত্ত্বাবধায়ক এবং সিভিল সার্জন বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সেলিম উদ্দিন জানান, আয়োজনের বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। বিকট শব্দে গান ও পরে আতশ বাজি ফুটানোর শব্দ পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেই।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অপরাধ) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, অনুষ্ঠান করার জন্য আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। হাসপাতালে অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেই।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১