শিরোনাম

দুই শিশুকে হত্যার কাহিনী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অবিশ্বাস্য ঘটনা

ডেস্ক ২৪ | বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ | পড়া হয়েছে 742 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অবিশ্বাস্য ঘটনা

এ কথা নতুন নয়।বাবা-মায়ের কোলে সন্তানরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে এ কথা। কবে, কোন প্রেক্ষিতে এ বাক্যের শুরু তা সঠিকভাবে বলা কঠিন। বিশ্বের নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষের কাছে বাক্যটি বেশ প্রচলিত।

বিবর্তনের এ পৃথিবীতে চিরঞ্জীব থাকছে না সব কিছু। হয়তোবা সে ধারাবাহিকতার প্রভাব পড়েছে বাবা-মায়ের আদর-স্নেহের। নিরাপদ বলে বাবা-মায়ের চিরচেনা এ কোলও সন্তানদের জন্য কখনও হয়ে উঠে ভয়ঙ্কর।


এটি ব্যতিক্রম। তারপরও ঘটছে না তা নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবিশ্বাস্য এরকম ঘটনা ঘটিয়েছেন মো. মনির হোসেন। নিজের দুই মেয়েকে নদীতে ফেলে হত্যা করলেন। প্রচার হলো বিদেশ যেতে টাকার জন্যে দুই মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছেন মো. মনির হোসেন।

ঘটনার কদিনের মধ্যে তাকে আটক করা হলে জানা গেল আসল ঘটনা। বিদেশ যেতে টাকার জন্যে মেয়েদের বিক্রি করেননি তিনি। মেরে ফেলতে নদীতে ফেলে দিয়েছেন মেয়েদের। সেটা পরকীয়ার টানে।

১১ দিন রিমান্ড শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে নৃশংসভাবে দুই শিশুকে হত্যার কাহিনী বলেন তিনি। যদিও গ্রেপ্তারের সময় তিনি পুলিশের কাছে দাবি করেছিলেন বিদেশ যাওয়ার জন্য তার দুই সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছে।

পাষণ্ড বাবা মনিরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর থেকেই পুলিশ ও দুই কন্যাশিশুর লাশ খুঁজতে থাকে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে বিষয়টি ভৈরব থানা পুলিশের নজরে আসে।

অবশেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে ভৈরব থানার ওসি আশুগঞ্জ থানায় ফোন করে জানান, ১৭ জানুয়ারি মেঘনা নদী থেকে তারা এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে। খবর পেয়ে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ভৈরব থানায় যোগাযোগ করে। মৃতশিশুর পরনে থাকা জামা-কাপড় ও ছবি সংগ্রহ করে নিয়ে আসে তারা। পরে রত্না বেগম ছবি ও জামা-কাপড় দেখে তার মেয়ে মারিয়া আক্তারের লাশ সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ওই বাবার ফাঁসির দাবি করেছে এলাকাবাসী।

মামলার বাদী, পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মো. মনির হোসেন। রত্নার সঙ্গে প্রায় ৮ বছর আগে বিয়ে হয় তার। বিবাহিত জীবনে তাদের সংসারে ১ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তিন সন্তান নিয়ে ভালোই চলছিল তাদের সংসার। তবে এ কথা গোপন করে ৮ মাস ধরে একই এলাকার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ূয়া এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

প্রেমের শেষ পরিণতি হিসাবে গত ২ মাস আগে দুজনই বিয়ে করার সিদ্বান্ত নেয়। প্রেমিকার কাছে নিজেকে অবিবাহিত প্রমাণ করতে এবং তার পথের কাঁটা সরিয়ে ফেলতে বিবাহিত জীবনের ৮ বছরের সব স্মৃতি মুছে ফেলার উদ্যোগ নেয় মনির। সে অনুযায়ী স্ত্রী ও ৩ সন্তানকে জীবন থেকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ১৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টায় ২ শিশুকন্যা মারিয়া (৬) ও সামিয়াকে (৪) ভৈরব ব্রিজে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় মনির। ভৈরবের একটি খাবারের হোটেলে ২ শিশু কন্যাকে নিয়ে দুপুরের খাওয়া শেষ করে বিকেলে তাদের নিয়ে আসে আশুগঞ্জ-ভৈরব মেঘনা নদীর উপর নির্মিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর মাঝখানে। ব্রিজের উপর থেকে তার দুই সন্তান মারিয়া ও সামিয়াকে ফেলে দেয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে মনির। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ব্রিজের উপর মানুষের আনাগোনা কমতে থাকলে একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে প্রথমে মারিয়াকে ও পরে সামিয়াকে ব্রিজের উপর থেকে ফেলে দেয় পাষণ্ড বাবা মনির। পরবর্তী টার্গেট ছিল স্ত্রী ও শিশুছেলেকে সুযোগ বুঝে হত্যা করার।

এ ঘটনার পর থেকে রত্না ও তার পরিবারের লোকজন মনির ও তার দুই সন্তানকে বিভিন্ন যায়গায় খুঁজতে থাকে। এভাবে ঘটনার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও মনির ও তার দুই সন্তানের কোনো খোঁজ-খবর না পেয়ে অস্থির হয়ে হয়ে পড়েন তার স্ত্রী রত্না। পরে নবীনগর উপজেলার বীরগাঁওয়ে মনির হোসেনকে এলাকাবাসী দেখতে পেয়ে তাকে আটক করে। এ সময় মনিরের সঙ্গে তার দুই সন্তান ছিল না। সন্তান কোথায় আছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এলোমেলো কথা বলতে থাকেন। এরপর বারবার তাকে জিজ্ঞেস

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০