শিরোনাম

হেফাজতি তান্ডব

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৬ মামলায় গ্রেপ্তার-৩৮৭

স্টাফ রিপোর্টার | বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১ | পড়া হয়েছে 257 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৬ মামলায় গ্রেপ্তার-৩৮৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের কর্মসূচী চলাকালে শহরজুড়ে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত ৫৬টি মামলায় এ পর্যন্ত ৩৮৭জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অধিকাংশই হেফাজতের কর্মী-সমর্থক। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জামাত-বিএনপির নেতা-কর্মীও রয়েছেন।

তান্ডবের ঘটনার ১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের প্রথম সারির কোন নেতাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে হেফাজতে ইসলামের মধ্যম সারির তিনজন নেতাসহ বিভিন্ন মসজিদের ৪/৫জন ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তারকৃত হেফাজত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার সহকারি প্রচার সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ার শিক্ষক মুফতি জাকারিয়া খান-(৪৩), হেফাজতে ইসলাম আশুগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি ওবায়দুল্লাহ ও সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়ন ছাত্র ওলামা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ক্বারী মোঃ মোজাম্মেল হক, সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা হরিনাদী জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুর রাকিব, ঘাটুরা বঙ্গবন্ধু হাই স্কুল জামে মসজিদের ইমাম ও হেফাজত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ওরফে বেলালি এবং একই এলাকার হরিনাদি মসজিদের ইমাম ও হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসেন।

বৃহস্পতিবার ২৯শে এপ্রিল, ২০২১ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হেফাজত ইসলামের বিক্ষোভ কর্মসূচি ও হরতাল চলাকালে তান্ডবের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার রাতে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনই হেফাজতের কর্মী-সমর্থক। তান্ডবের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিয়ে তান্ডবের ঘটনায় দায়েরকৃত ৫৬ মামলায় ৩৮৭জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তান্ডবের ঘটনায় দায়েরকৃত ৫৬টি মামলায় ৪১৪ জন এজাহারনামীয় আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ হাজার লোককে আসামী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালায়।

এসময় হামলাকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, পৌরসভা কার্যালয়, সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, এসিল্যান্ডের কার্যালয়, সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, জেলা মৎস্য অফিস, সার্কিট হাউজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, মাতৃ সদন, সরকারি গণগ্রন্থাগার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের বাসভবন, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর দুটি ম্যুরালসহ তিনটি ম্যুরাল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে উন্নয়ন মেলার প্যান্ডেল, একই চত্বরে থাকা শহর সমাজসেবা প্রকল্পের অফিস, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের অফিস, পৌর মেয়রের বাসভবন, সার্কিট হাউজ, হাইওয়ে থানা ভবন, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্যাম্পাস, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কালীবাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বাসভবন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন, আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা, সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সহ সরকারি, বেসরকারি প্রায় অর্ধশতাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মৃত্যুপুরিতে পরিনত করে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১