শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে হামলায় অংশ নেয় প্যান্ট- শার্ট পড়া যুবকরাও ॥ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ ২০২১ | পড়া হয়েছে 236 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে হামলায় অংশ নেয় প্যান্ট- শার্ট পড়া যুবকরাও ॥ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রোববার ২৮শে মার্চ, ২০২১ হওয়া তান্ডবে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের সাথে শার্ট-প্যান্ট পড়া যুবকরাও অংশ নেয়। তাদের হাতে দা, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে।

বেলা ১১টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত হামলাকারীরা সরকারি ও বে-সরকারি প্রায় অর্ধশত স্থাপনা ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাদ যায়নি আওয়ামীলীগ নেতাদের বাড়ি, হিন্দুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কালীবাড়ি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব।
প্রায় ৪ ঘন্টাব্যাপী শহরে তান্ডব ও ধংসযজ্ঞ চালালেও আইন-শৃংখলা বাহিনীর কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।


রোববার বেলা ১১টা দিকে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা শহরে ধংসযজ্ঞ শুরু করে। তারা পর্যায়ক্রমে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন শোভনের সরকারপাড়ার বাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেলের মৌড়াইলের বাড়ি, পৌনে ১২ টার দিকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে জেলা প্রশাসন আয়োজিত উন্নয়ন মেলার প্যান্ডেল, একই কম্পাউন্ডে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের কার্যালয়, সদর মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমী ভবনে আগুন দেয়।

পরে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা ভবনে, জেলা পরিষদ কার্যালয়, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, শহরের হালদারপাড়ায় অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ( সংসদ সদস্যের কার্যালয়), শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবিরের বাসভবন, মুন্সেফাড়ায় অবস্থিত জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি, বাগানবাড়িতে অবস্থিত জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের শ্বশুরের বাড়ি, শহরের দক্ষিণ মৌড়াইলে অবস্থিত পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জামাল খাঁনের বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

পরে হামলাকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব ভবন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অবস্থিত ব্যাংক এশিয়া, গনগ্রন্থাগার, শহরের হালদারপাড়ায় অবস্থিত বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিমা লুৎফুর রহমান মুকাই আলীর বাসভবন, শহরের টি.এ.রোডে অবস্থিত বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আয়কর উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে। তারা হালদারপাড়ায় অবস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে পুরাতন মন্দির আনন্দময়ী কালীবাড়িতেও হামলা চালিছে মূর্তি ভাংচুর করে। বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিকদেরকে প্রেসক্লাবে অবরোধ করে রাখে ও প্রেসক্লাবের সভাপতি ও চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের স্টাফ রিপোর্টার রিয়াজ উদ্দিন জামিকে মারধোর করে। তার মাথায় ৬টি সেলাই লাগে । এক পর্যায়ে তারা শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় ও বিরাসারে অবস্থিত বিজিএফসিএলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর ও করে। পরে তারা তারা শহরের বণিক পাড়ায় অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত চৌধুরী আফজল হোসেন নিছারের বাসভবন ও একই এলাকায় অবস্থিত মোকতাদির চৌধুরী মহিলা কলেজেও ব্যাপক ভাংচুর করে।

হেফাজতের হরতাল উপলক্ষে শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবিসহ অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হলেও নৈরাজ্যকর হিংসাত্মক কার্যক্রম চলাকালে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।

শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর নয়, সরাইলে হাইওয়ে থানা ও আশুগঞ্জে টোল প্লাজায় হামলার সময় শত শত প্যান্ট শার্ট পড়া যুবককে দেখা যায়। হামলাকারি অনেকের মাথায় হেলমেটও পড়া ছিলো।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আল-মামুন সরকার গত তিনদিনের তান্ডবের নিন্দা জানিয়ে বলেন, তাদের তান্ডবের ঘটনা ৭১ এর বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধংসযজ্ঞের সকল দায়-দায়িত্ব হেফাজতে ইসলামকে নিতে হবে। তিনি হামলার ঘটনায় আইন-শৃংখলাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও নির্লিপ্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হামলার সময় তারা কেন কোন ধরনের ভূমিকা নেননি সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি বলেন, হামলার সময় আমি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ উর্ধ্বতন অনেকের সাথেই কথা বলেছি, তারা কোন ভূমিকা নেননি। তিনি এসব ঘটনার বিচার-বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১