শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদন্ড

শামীম-উন-বাছির | মঙ্গলবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 1077 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদন্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌতুকের জন্য স্ত্রী ফেরদৌসা বেগমকে-(২০) হত্যার দায়ে স্বামী শাহিন মিয়াকে-(৩৪) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল -১ আদালতের বিচারক মাফরোজা পারভীন এই আদেশ দেন।

রায়ে মামলার অপর তিন আসামী শাহিনের বাবা নাছির মিয়া (৬১), মা রোশনা বেগম (৫৪) ও বোন খাদিজা বেগমকে (৩১) মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শাহিন মিয়া পৌর এলাকার গোকর্ণঘাট গ্রামের নাছির মিয়ার ছেলে। ফেরদৌসা বেগম সদর উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে।


মামলার এজহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে পারিবারিকভাবে ইসলামী শরীয়াহ মতে শাহিনের সঙ্গে ফেরদৌসার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ফেরদৌসার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবির প্রেক্ষিতে দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬৫ হাজার টাকা ও ২০ হাজার টাকার আসবাবসহ মোট এক লাখ ৩০টাকার টাকার যৌতুক প্রদান করে ফেরদৌসার বাবা।

বিয়ের পর থেকেই শ্বশুড়বাড়ির অন্যান্য লোকজনের প্ররোচনায় স্বামী শাহিন বিদেশ যাওয়ার জন্য ফেরদৌসার কাছে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে না দেয়ায় বিভিন্ন সময় ফেরদৌসাকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা শুরু করে শাহিন।

২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল দুপুরে বিদেশ যাবার কথা বলে ফেরদৌসাকে বাবার বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দেয় শাহিন। সে সময় ফেরদৌসা অপারগতা প্রকাশ করে। পরে এদিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শাহিন তার বাবা নাছির মিয়া, মা রোশনা বেগম ও বোন খাদিজা বেগমকে নিয়ে ফেরদৌসাকে মারধর করে। মারধোরে ফেরদৌসার মৃত্যু হলে তার পুরাতন শাড়ী দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে বসতঘরে তিরের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

পরে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফেরদৌসা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফেরদৌসার বাবা হাবিবুর রহমান পুলিশসহ শ্বশুরবাড়ির বসতঘর থেকে ফেরদৌসার লাশ উদ্ধার করে।

এঘটনার পরদিন হাবিবুর রহমান নিহতের স্বামী শাহিন মিয়া (৩৪), শ্বশুর নাছির মিয়া (৬১), শ্বাশুড়ি রোশনা বেগম (৫৪) ও ননদ খাদিজা বেগমকে (৩১) আসামী করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর ২০১১ সালের ২৫ মে নিহতের স্বামী শাহিন হত্যার দায় স্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আদালতে ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১১ সালের ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান জানান, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
এ ব্যাপারে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌসুলী (পিপি) মফিজুর রহমান বাবুল জানান, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এই আদেশের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে আসামী পক্ষের আইনজীবী উসমান গণি জানান, রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১