শিরোনাম

হেফাজতি তান্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরভবন পুড়িয়ে দেয়ায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেবা কার্যক্রম বন্ধ ॥ রাস্তা ঘাটে ময়লার স্তুপ ॥ ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি দাবি মেয়রের

স্টাফ রিপোর্টার | শনিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২১ | পড়া হয়েছে 171 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেবা কার্যক্রম বন্ধ ॥ রাস্তা ঘাটে ময়লার স্তুপ ॥ ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি দাবি মেয়রের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতি তান্ডবের সময় চারতলা বিশিষ্ট পৌরভবনটি পুড়িয়ে দেয়ায় গত ১ সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে সেবা কার্যক্রম। এতে করে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ও বাসা-বাড়ির সামনে এখন ময়লার স্তুপ।

গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের হরতাল চলাকালে ১৬০ বছরের পুরানো ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পৌরভবনটি পুড়িয়ে দেয় হেফাজতের নেতা-কর্মীরা। ওই দিন বেলা ১১টার পর হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা এশটি মিছিল নিয়ে এসে চারতলা বিশিষ্ট পৌরভবনে ধরিয়ে দেয়। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আগুনে পৌরভবনের প্রতিটি রুমের কাগজপত্র, আসবাবপত্র, কম্পিউটার, নিত্যপ্রয়োজনীয় ফাইলপত্রসহ পৌরসভার সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। একই সময়ে হামলাকারিরা পৌরসভার নীচতলার গাড়ির গ্যারেজ, পৌরসভার মালিকানাধীন সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনও আগুনে পুড়িয়ে দেয়। আগুনে পৌর মেয়রের গাড়ি, নির্বাহী প্রকেšশলীর গাড়িসহ পৌরসভার সেবা কার্যক্রমে ব্যবহৃত ১২টি ছোট-বড় ট্রাক সম্পূর্ন ভস্মীভূত হয়ে বলে দাবি করেছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।

পৌরভবন পুড়িয়ে দেয়ার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে পৌরসভার সবধরনের সেবা কার্যক্রম। এতে করে সাধারণ মানুষ পৌরসভা থেকে জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট, মৃত্যুসনদ, জাতীয়তার সনদপত্রসহ নাগরিক সেবাগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে শহরের বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা আবর্জনা না নেয়ায় ও সড়ক, ড্রেন পরিস্কার না করায় সাধারন মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পৌর সভার বিভিন্ন মহল্লার রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনাস্তুপাকারে পড়ে আছে। ময়লা-আর্বজনার গন্ধে রাস্তা-ঘাটে চলাচল করতে লোকজনকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে পৌর সভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উর্ধ্বতন কর্তপক্ষ ক্ষতির বিষয়গুলো দেখে না যাওয়া পর্যন্ত তারা সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ রাখবেন।


পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়লা-আবর্জনা অপসারণের মতো সক্ষমতা এই মুহুর্তে তাদের নেই। ময়লা অপসারণের জন্য যেসব গাড়ি ব্যবহার করা হতো সেগুলো ২৮ মার্চ তান্ডবের সময় পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে শনিবার ৩রা এপ্রিল, ২০২১ দুপুরে পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবিরের শহরের পূর্বপাইকপাড়ার বাসায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পৌর কর্তৃপক্ষ দাবি করেন তান্ডবে তাদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার একজন প্রকৌশলী জানান, কমপক্ষে তাদের ৭০ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়রের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌরসভার সচিব মোঃ শামসুদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তান্ডবে তাদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পৌরসভার একটি সূত্র থেকে জানা গেছে,ক্ষয়-ক্ষতির মধ্যে পৌরসভার মূলভবন (চারতলা ভবন) পুড়ে ক্ষতি হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা, পৌর ভবনের আসবাবপত্র/ডেকোরেশন পুড়ে ক্ষতি হয়েছে ৫০ লাখ, ২০টি স্টিলের আলমিরা পুড়ে ১০ লাখ টাকা, ২৫টি কাঠের আলমীরা পুড়ে ২০ লাখ টাকা, ১৮টি ডেস্কটপ কম্পিউটার পুড়ে ১৬ লাখ টাকা, পাঁচটি ল্যাপটপ সাড়ে তিন লাখ টাকা, চারটি ফটোকপি মেশিন ছয় লাখ টাকা, ৩৪টি টেবিল ১৭ লাখ টাকা, সাতটি সেক্রেটারিয়েট টেবিল সাত লাখ টাকা, ১১৪টি চেয়ার পুড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা, দুই টন এসি পাঁচটি ৩০ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য শাখার ১২টি ডিপ ফ্রিজ ১২ লাখ টাকা, নরমাল ফ্রিজ চারটি দেড় লাখ টাকা, ভ্যাকসিন পাঁচ কোটি টাকা, সিলিং ফ্যান ২০টি, স্টোরে রক্ষিত ১০ হাজার এলইডি বাতি ৩৫ লাখ টাকা, ৫০০টি এলইডি টিউবলাইট তিন লাখ টাকা, ৩০০০টি বাতি শেড ৩০ লাখ টাকা, বৈদ্যুতিক তার ৫০ কয়েল ৫০ লাখ টাকা, ৫০ লাখ টাকার কঞ্জারভেন্সি মালামাল (শাবল, বেলচা, ঝাড়ু, টুকরি, ঘামবুট ব্লিচিং পাউডার, মশক নিধনের ফগার মেশিন পাঁচটি), ৫০ লাখ টাকার পৌর ভবনের ইলেক্ট্রিফিকেশন ক্ষতি হয়। বিভিন্ন মডেলের ৮টি গাড়ি ৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, ৮টি মোটর সাইকেল ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, গার্বেজ ট্রাক দুইটি ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, প্রায় আড়াই কোটি টাকার তিনটি রোডরোলার, ৩৫ লাখ টাকার মশক নিধন গাড়ি, ১৪ লাখ টাকার ২০টি রিক্সা ভ্যান, ভান্ডারে রক্ষিত তিন কোটি টাকার খুচরা যন্ত্রাংশ, এর বাইরে পৌরসভার মালিকানাধীন সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনের ছয় কোটি টাকার ভবন, ১১ লাখ টাকা মূল্যের ৫৫০টি চেয়ার, ১০ লাখ টাকার ২০ সেট সোফা, এক কোটি টাকা মূল্যের ২০টি পাঁচ টনের এসি, ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ১০টি দুই টনের এসি, ছয় লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ টি সিলিংফ্যান আগুনে পুড়ে যায়।

এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়র মিসেস নায়ার কবির বলেন, পৌরসভার কার্যালয় পুড়িয়ে দেয়ার কারনে নাগরিক সেবা দিতে না পারায় তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তিনি অবিলম্বে পৌরভবন সংস্কার করে অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সকল কর্মকর্তাগন, কাউন্সিলরগন উপস্থিত ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৮৬৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মিউনিসিপ্যালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর চার বছর পরেই এর নামকরণ হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভাটি ১৬০ বছরের পুরানো পৌরসভা। প্রায় সাড়ে ১৮ বর্গকিলোমিটারের এই পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় তিন লাখ মানুষ বসবাস করেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০