শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ॥ কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক

শামীম-উন-বাছির | বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 95 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ॥ কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলতি বছর সদর উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে মুখে হাসির ঝিলিক কৃষকদের।
আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় কোন ধরনের ক্ষতি হয়নি তৈল জাতীয় এই ফসলের। তাই ফলন ভালো হবে বলে আশাবাদি কৃষকেরা।
মাঠে মাঠে এখন হলুদের সমারোহ। সরিষার জমির হলুদিয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে বিস্তৃর্ন ফসলী মাঠ। এ যেন প্রকৃতির অপরূপ খেলা। ফলন ভালো হওয়ায় সম্ভাবনা থাকায় চাষীদের মুখেও তৃপ্তির হাসি।

প্রতিদিনই শহর ও আশপাশ এলাকা থেকে মানুষ দল বেধে সরিষা জমিতে যান সৌন্দর্য উপভোগ করতে। অনেকেই জমির মধ্যে গিয়ে শখ করে ছবি তুলেন। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলার ২৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। গত বছর আবাদ করা হয়েছিলো ২৬০ হেক্টর জমি। চলতি বছর বছর ১৫ হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা চাষ করা হয়েছে।


সরজমিনে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের সুহিলপুর, তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম, সুলতানপুর ইউনিয়নের গজারিয়া, নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের কালীসীমা, রামরাইল ইউনিয়নের রামরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃর্ণ ফসলী মাঠে সরিষার হলুদের সমারোহ। সরিষা জমিতে মধু সংগ্রহের জন্য ভন ভন করছে মৌমাছি।

সদর উপজেলার উত্তর সুহিলপুর গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, সরিষা চাষে দ্বিগুন লাভ। সরিষার ফুল ও পাতা ঝরে জমিতে জৈব সার তৈরী হয়। সে কারনে জমিতে পরবর্তী ধানের ফলনও ভালো হয়। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

একই ধরনের কথা বলেছেন, অষ্টগ্রাম গ্রামের কৃষক রিপন হোসেন বলেন, এ বছর সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে কৃষকরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, ধানের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, গত বছর আমি এক কানি (৩০শতক) জমিতে সরিষা চাষ করেছিলাম, এবার দেড় কানি জমিতে সরিষা চাষ করেছি।

সদর উপজেলার গজারিয়া গ্রামের কৃষক সোহেল মিয়া জানান, আশা করি আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার সরিষার ভালো ফলন হবে। তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে চাষীদের সার্বিক সহযোগীতা করা হচ্ছে। তিনি জানান, এক কানি (৩০শতক) জমিতে সরিষা চাষ করে সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৪/৫ হাজার টাকা লাভ হবে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মুন্সী তোফায়েল হোসেন বলেন, সদর এলাকার মাটি সরিষা আবাদের জন্য খুবই উপযোগী। এ বছর সদরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। ধানের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় এ বছর সদরে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সদর উপজেলায় প্রণোদনার আওতায় ২৫০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদেরকে প্রযুক্তিগত ও সার্বিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০