শিরোনাম

তিতাস মডেল কলেজের অধ্যক্ষকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন

শামীম-উন-বাছির | সোমবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 137 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের তিতাস মডেল কলেজের অধ্যক্ষকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ও ঘটনায় জড়িত কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং ইউপি চেয়ারম্যান রাজীব আহমেদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার (১৩জানুয়ারি ২০২০) সকালে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এলাকার লোকজন ও শিক্ষকরা এই মানববন্ধন করে।


অভিযুক্ত রাজীব আহমেদ সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
মানববন্ধন চলাকালে জেলা বে-সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এ.মোনেম মহাবিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইন কলেজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাসেল হাজারী, নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের দানবীর মহেশ ভট্টাচার্য কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ বাহাউদ্দিন ও তিতাস মডেল কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম রামজান আলী প্রমুখ।

মানববন্ধনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় তিতাস মডেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেখানে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান রাজিব আহমেদ কলেজের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা অনুদান সংগ্রহ করেছেন।
কলেজের নামে তিনি ৩০-৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কোনো টাকাই তিনি কলেজের নামে করা ব্যাংকের হিসাব নম্বরে জমা দেননি।

অধ্যক্ষ গত ৭ জানুয়ারি দুপুরে সভাপতির কাছে কলেজের লেনদেনের বিবরনীর হিসাব চান। এতে সভাপতি ও তাঁর দুই সহযোগী ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষকে তাঁর কক্ষে আটকে রেখে মারধর করেন।

বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক সমাজের আয়না। তিনি মানুষকে শিক্ষা দেন। একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত বা মরধর করা অনেক বড় একটি অপরাধ। একজন অধ্যক্ষ সভাপতির কাছ থেকে কলেজের লেনদেনের বিবরনীর হিসাব চাইতেই পারেন। তাই বলে অধ্যক্ষকে আটকে রেখে মারধর কোন ধরণের সংস্কৃতি। বক্তারা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষমতা দেখিয়ে যা ইচ্ছা তা করবেন আর সমাজের শিক্ষক ও ছাত্র সমাজ তা মেনে নিবে না। বক্তারা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন, এঘটনার জন্য জড়িত ইউপি চেয়ারম্যানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।

মারধোরের শিকার অধ্যক্ষ এ কে এম রমজান আলী বলেন, কলেজের নামে মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা টাকা সভাপতি ব্যাংকের হিসাব নম্বরের জমা দেননি। কিছু টাকা কলেজের জন্য খরচ করেছেন। তবে বাকি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এখন তিনি বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে ইউপি চেয়ারম্যান হুমকি দিচ্ছেন। ইউপি চেয়ারম্যানের ভয়ে আমি এখন কলেজে যেতে পারছি না।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জানুয়ারি তিতাস মডেল কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম রমজান আলীকে মারধরের ঘটনায় কলেজের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান রাজীব আহমেদসহ তিনজনকে আসামী করে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শাহবাজপুর গ্রামের শেখ ফয়জুল হক ও রোমান মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১