শিরোনাম

দিন দিন বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভাস্কর্য শিল্প

ষ্টাফ রিপোর্টার | বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1091 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভাস্কর্য শিল্প

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইলের সেতুটির কাছে গেলেই চোখ আটকে যায় সৌরভ সেনিটারি মিউজিয়ামে। বিশাল বিশাল বাঘ, হরিণ, দোয়েল পাখি। হাত তিনেক দূরে দূরে ফুটে থাকা শাপলা। আছে আরো জীব জন্তু, নানান নকশা।
এ গুলো রড, সিমেন্ট, বালু ইত্যাদির তৈরি। গায়ে রং লাগার পর যেন ‘জীবন্ত’। আর এ ভাস্কর্য গুলো তৈরি হয় মোঃ মনিরুজ্জামন মনিরের সৌরভ সেনিটারি মিউজিয়ামে। বাড়ি, বাগান ইত্যাদির সৌন্দর্য্য বাড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজন এসে এসব ভাস্কর্য কিনে নিয়ে যান।
মনিরুজ্জামান জানান, ছোট বেলা থেকেই ভাস্কর্য তৈরির প্রতি তাঁর নেশা। প্রবাস থেকে ফিরে বছর ছয়েক আগে থেকে ভাস্কর্য তৈরিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। দিনকে দিন তাঁর তৈরি ভাস্কর্য জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। নিজের কারখানায় তৈরি বাদেও অর্ডার পেলে বাড়িতে, অফিসে গিয়ে তৈরি করে  দেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সৌরভ সেনিটারি মিউজিয়ামে চলছে ভাস্কর্য তৈরির কাজ। কারখানায় প্রবেশের মুখেই বড় আকারের হরিণ ও বাঘ রাখা আছে। ডান পাশে রং করা বেশ কয়েকটি শাপলা। ভেতরে রাখা আছে, জিরাফ, ময়ূর, ঈগল। প্রতিষ্ঠানের মূল অফিসের সামনে রাখা রাখে একটি বিমান।
এই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পাশের আরেকটি প্রতিষ্ঠান হৃদয় সেনিটারিতেও গত চারমাস ধরে এসব ভাস্কর্য তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোঃ বাহার মিয়া।
সৌরভ সেনিটারি মিউজিয়ামের কারখানায় ভাস্কর্যে রং করতে থাকা মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত দু’বছর ধরে এখানে কাজ করি। তৈরি করা ফর্মার মধ্যে কংক্রিট, সিমেন্ট, বালু ও রড দিয়ে এসব ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। কারখানার মালিক মনিরুজ্জামান এসবের ফর্মা তৈরি করে  দেন। তবে ফর্মা ছাড়াও তৈরি করা যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবু সাঈদ বলেন, বিভিন্ন জীবজন্তু, পাখি, ফুল বানিয়ে রাখা কারখানাটি (সৌরভ সেনিটারি) এখন একটা পার্কে পরিণত হয়েছে। যে কারণে আমি প্রায় দিন বিকেলেই এখানে ছুটে আসি।
রামরাইল গ্রামের বৃদ্ধ মোঃ আলী আকবর খান মিলন বলেন, মনিরের এসব কাজের অনেক খ্যাতি আছে। তাঁর কাজগুলো আমাদের অনেক ভালো লাগে। একই গ্রামের মোঃ নূর আলম বলেন, এসব ভাস্কর্য যখন আমাদের এলাকা থেকে অন্যত্র যায় তখন কিন্তু আমরা গর্ব করি। শ্রীরামপুর গ্রামের মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, এখানকার কারুকাজ অনেক সুন্দর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ভাস্কর্য নূন্যতম আটশ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়। একটি হরিণ সর্বোচ্চ ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে সৌরভ স্যানিটারি থেকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাইরেও নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ এলাকায় বিক্রি হয় মনিরের ভাস্কর্য। এছাড়া বাড়ির গেট, পিলার ইত্যাদির নকশাও করে দেন মনিরুজ্জামান। আগে তাঁর প্রতিষ্ঠানে শুধু সিমেন্টের তৈরি সেনিটারি সামগ্রী বিক্রি হতো।
মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, এসব ভাস্কর্য সব সময় বিক্রি হয় না। প্রতি মাসে দু’তিন জন কাস্টমার পাই। অনেকে বাড়ির সামনের খোলা জায়গা, ফটকের সামনে, বাগানে এসব ভাস্কর্য স্থাপন করেন। তবে দিনকে দিন এর চাহিদা বাড়ছে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০