শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ী বাহার হত্যা মামলার রায় ॥ চারজনের মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার | সোমবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 230 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ী বাহার হত্যা মামলার রায় ॥ চারজনের মৃত্যুদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ঢাকার কসমেটিক ও ইমিটেশন ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান বাহার-(৪৫) হত্যা মামলার রায়ে চারজনের মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রদান করেছেন বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

সোমবার (০৬জানুয়ারি ২০২০) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সফিউল আজম এই রায় প্রদান করেন।


মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কনিকারা গ্রামের মরহুম আবু মিয়ার ছেলে মোঃ নূরু মিয়া, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার মকলিশপুর গ্রামের মরহুম আবদুস সাত্তারের ছেলে মোঃ জিয়াউল হক, একই উপজেলার বাঙ্গরা গ্রামের শব্দের খান ওরফে ভুট্টো খানের ছেলে লোকমান খান ও একই উপজেলার কামারচর গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে মোঃ কাদির হোসেন।

এই মামলার অপর আসামী মোঃ বাবুল মিয়া কারাগারে থাকাবস্থায় ২০১৮ সালের ১৬ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়কের প্রতিবেদনের আলোকে গত ২০১৮ সালের ৫ আগষ্ট মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

রায় ঘোষনাকালে আসামী মোঃ জিয়াউল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামীরা এই মামলা থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরনী থেকে জানা গেছে, নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার আম্বরনগর গ্রামের হাজী আবদুল লতিফের ছেলে আবদুল হান্নান বাহার ঢাকার চকবাজারে তার মালিকানাধীন “ বিপুল এন্টারপ্রাইজ” নামক দোকানে কসমেটিক ও ইমিটেশনের ব্যবসা করতেন।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা বাহারের দোকান থেকে পাইকারী মালামাল কিনতেন।
গত ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর তিনটার দিকে ব্যবসায়ী বাহার তার বকেয়া টাকা আনার জন্য কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে তার পাইকার লোকমান খানের কাছে যান। লোকমান খান পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন বলে বাহারকে বাঙ্গরা বাজারে ডেকে নেন।

এদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ব্যবহৃত ( ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বাহার) মোবাইল ফোন থেকে স্বজনদের কাছে মুক্তিপন হিসেবে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়।

মামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন সময়ে আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানান, ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান বাহার গত ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে বাঙ্গরা বাজারে লোকমানের দোকানে যাওয়ার পর লোকমান তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে বাহারকে একটি ইঞ্জিনের নৌকায় তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে নৌকায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য বাহারের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে মুক্তিপন দাবি করেন। আসামিরা ৪ আগস্ট থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাহারকে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করে।

কিছু টাকা আদায়ের পর আরো টাকার জন্য বাহারকে হত্যার হুমকি দেয় আসামিরা। ৬ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা বাহারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর লঞ্চ ঘাটের বিপরীত দিকে তিতাস নদীতে ফেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। ৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে নদী থেকে বাহারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান বাহারের ছোট ভাই বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ৯ আগস্ট বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যার ঘটনা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

পরে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে আসামী মোঃ নুরু মিয়া ও মোঃ জিয়াউল হককে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ সময় তারা হত্যা ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামীদের নাম বলেন।

দীর্ঘ শুনানী শেষে সোমবার দুপুরে বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে মামলার চার আসামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

এ ব্যাপারে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী অ্যাডভোকেট এস.এম ইউসুফ বলেন, এই আদেশের ফলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার কাছে মনে হয় রায়টি সঠিক হয়নি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

এদিকে রায় ঘোষনার পর পরই আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহতের স্ত্রী, কন্যাসহ স্বজনরা। তারা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০