শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ শিশুপার্ক

ষ্টাফ রিপোর্টার : | শনিবার, ০৭ এপ্রিল ২০১৮ | পড়া হয়েছে 705 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ শিশুপার্ক

অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে শিশু পার্ক। জেলা শহরের দক্ষিণ প্রান্তে ভাদুঘরে এন্ডারসন খালের (কুরুলিয়া খাল) তীরে ‘আবি ফিউচার পার্ক’ নামে এই শিশু পার্কটি নির্মিত হচ্ছে। পার্কটি নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে বিদ্যুৎ সংযোগ সংযোজন ও শেষ দিকের সংস্কার কাজ। পার্কটি নিয়ে জেলায় ইতিমধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে শিশুদের জন্য পূর্ণাঙ্গ কোনো বিনোদন কেন্দ্র বা শিশু পার্ক নেই। শহরের দাতিয়ারা এলাকায় রয়েছে রেজা ই রাব্বী ফারুকী পার্ক। ১৯৬৫-৬৬ সালে তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার প্রশাসক আর আর (রেজা ই রাব্বী) ফারুকী সরকারি খাস ভূমির উপর পার্কটি নির্মাণ করেন। সরকারি এই জায়গাটি নামেমাত্র শিশু পার্ক। একটি দোলনা ও স্কেটিং ছাড়া শিশুদের জন্য কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই এই পার্কে। সারাদিন লেগে থাকে বখাটে ছেলেদের আনাগোনা। জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি শিশুদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পার্ক। শিশু পার্ক তো পায়নি, পেয়ে আসছেন ক্ষমতায় থাকা জনপ্রতিনিধিদের শিশু পার্ক নির্মাণের একের পর এক প্রতিশ্রুতি।


আবি ফিউচার পার্কটি নির্মাণ করছেন পৌর এলাকার পৈরতলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলমগীর। ৪৮০ শতক জায়গার উপর নির্মিত হচ্ছে এই শিশু পার্কটি। প্রথম অবস্থায় নাগর দোলা, টয় ট্রেইন ও নৌকা দোলনাসহ ৬টি রাইড নিয়ে চালু হচ্ছে আবি ফিউচার পার্ক। পর্যায়ক্রমে আরো রাইড সংযুক্ত হবে। পার্কে ঢুকতে চোখে পড়বে বিশাল আকৃতির ডাইনোসর। মাঝে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ডলফিনের পানির ঝরনা। ভেতরে পেডেল নৌকা চালাতে তৈরি করা হয়েছে ছোট একটি লেক। স্থাপন করা হয়েছে একটি ক্যান্টিন। এক কোণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা হচ্ছে কনভেনশন সেন্টার। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে পার্কের ভেতরে এন্ডারসন খালের তীরে হাঙর মাছের মাথার আকৃতির নৌকা ঘাট। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে নৌ ও সড়ক উভয় পথে আসা যাবে পার্কটিতে। তবে, নির্মাণ কাজের যেন ব্যাঘাত না ঘটে তাই আপাতত কাউকে পার্কের অভ্যন্তরে ঢুকতে দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

পার্কের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবসরে সময় কাটানোর বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। আমি নিজেও আমার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে কোনো জায়গায় ঘুরতে যেতে পারি না। আমার অনেক দিনের পরিকল্পনা ছিল এই শিশু পার্ক স্থাপন করার। প্রায় দুই বছর ধরে এই পার্কটি নির্মাণ হচ্ছে। পার্কটি নিয়ে আরো অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, জেলা শহরের উত্তর প্রান্ত থেকে যেন পার্কে সহজে আসতে পারে তার জন্যে স্পিডবোট সার্ভিসের পরিকল্পনা রয়েছে। পৌর এলাকার মেড্ডা থেকে তিতাস নদী দিয়ে এন্ডারসন খাল হয়ে স্পিডবোট পার্কের ঘাটে থামবে। এর ফলে তিতাস নদীতে স্পিডবোট ভ্রমণ ও পার্কে আসা দু’টিই হবে। এছাড়াও কাউতুলী ও শিমরাইলকান্দি থেকে নৌকা দিয়ে আসার ব্যবস্থা থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বাচ্চারা বায়না করে ঘুরাঘুরি করতে। নতুন শিশু পার্কটি চালু হলে শিশু-কিশোরদের চিত্ত বিনোদনের একটি সুযোগ তৈরি হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১