শিরোনাম

যমুনা ওয়েল কোম্পানির কর্মচারি কারাগারে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 502 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজের ধর্ম ও বিয়ের কথা গোপন রেখে এক গৃহবধূকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় অপু দে-(৪২) নামে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মচারি এখন কারাগারে রয়েছেন।

প্রতারিত ওই নারীর দায়েরকৃত মামলায় গত ৭ নভেম্বর অপু দে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরন করেন।
জেলহাজতে থাকা অপু দে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ সড়কের কেলি শহর মুন্সেফবাজারের প্রয়াত ননী গোপাল দে’র ছেলে।


তিনি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিঃ এর চট্টগ্রাম প্রধান কার্যালয়ে উচ্চমান সহকারি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি তার পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের আন্দরকিল্লার ফুলকলি,ফরচুনার ফ্লাট নং- সি-৩ এ বসবাস করতেন।

আদালতের দায়েরকৃত গৃহবধূর মামলা থেকে জানা গেছে, অপু দে কয়েকবছর আগে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপোতে চাকুরী করতেন। ওই সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামের এক গৃহবধূর সাথে তার পরিচয় হয়। অপু দে তখন তার ধর্মীয় পরিচয় এবং স্ত্রী সন্তানের তথ্য গোপন রেখে নিজেকে অপু আহাম্মদ পরিচয় দিয়ে ওই গৃহবধূর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন।
এক পর্যায়ে অপু দে ওই মহিলাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে তার স্বামীকে তালাক দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।

অপুর প্রেমের ফাঁদে পড়ে ও সুখের জীবনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ওই মহিলা তার স্বামীকে তালাক দেন। (হলফনামা রেজিঃনং- ১৩৮, তারিখঃ ২৯/৯/২০১৪ইং)।
প্রতারিত গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, তাদের প্রেমের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর অপু তার বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন।

২০১৭ সালের ১০ জুন বিকেলে অপু ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তার সাথে শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হন। এ সময় তার চিৎকারে বাড়িঘরের লোকজন ঘটনাস্থলে চলে আসলে অপু দে দৌড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর ওই নারী অন্তঃসত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি অপুকে অবহিত করে তাকে বিয়ে করার জন্য অনুরোধ করেন।

গত ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট অপু দে ওই নারীকে মোবাইল ফোনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দমীয় কালীবাড়িতে ডেকে এনে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে বলেন, তিনি হিন্দু এবং হিন্দু শাস্ত্র মতে ওই নারীকে বিয়ে করতে চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে অপু সেখান থেকে চলে যান। এরই মধ্যে অপু দে ভৈরব থেকে চট্টগ্রামে প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে যান।

এক পর্যায়ে ২০১৮সালের ১০ এপ্রিল ওই নারী একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। সন্তান জন্ম দেয়ার বিষয়টি ওই নারী অপু দে কে মোবাইলে অবহিত করে এবং ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তাকে বিয়ে করার জন্য অপুকে অনুরোধ করলে অপু তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে প্রতারণার শিকার ওই নারী চলতি বছরের ১৭মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নেওয়ায় তিনি গত ২০ মে অপু দে’কে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩১৮/১৯)। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হওয়ার পর আসামী অপু দে তার দুই নূরুল আমিন ভূইয়া ও কুতুবউদ্দিন হোসেনকে সাথে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসেন।
পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক অপু দে চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন রাস্তার পূর্ব পাশে ওই মহিলার সাথে দেখা করে তাকে মাইক্রোবাসে করে অপহরনের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে কয়েক ওই নারীকে মাইক্রোবাসে করে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে খুন করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ওই নারীর কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫০ টাকা মূল্যমানের ৫টি নন-জুডিসিয়াল খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন।

এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অপু তাকে ফেলে মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর উপরোক্ত তিনজনকে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন (মামলানং- সিআর-৭৫৫/১৯) । বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

এদিকে গত ৭ নভেম্বর আসামী অপু দে নারী ও শিশু নিযাতন ট্রাইব্যুনালের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ জজ সাইফুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১