শিরোনাম

পবিত্র ঈদ-উল আজহায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাজারে আসছে “সুলতান”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০ | পড়া হয়েছে 204 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাজারে আসছে “সুলতান”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পবিত্র ঈদ-উল আজহায় বাজারে আসছে বিশালদেহী দেশী ষাড় “ সুলতান”। জেলার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক রতন ঈদ-উল আজহায় বিক্রির জন্য প্রায় আড়াই বছর ধরে লালন-পালন করে আসছেন।

দেখতে কুচকুচে কালো ও সুঠামদেহী সুলতানকে দেখলে “সুলতান” এর মতোই মনে হয়। মালিক মোজাম্মেল হক রতন বলেন, সুলতানের ওজন হবে প্রায় ২৫ মন।


ইতিমধ্যেই এই সুলতানকে কিনতে ক্রেতারা যাচ্ছেন রতনের বাড়ি। চাহিদা মতো দাম না পাওয়ায় তাকে বিক্রি করছেন না মালিক রতন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ইসলাম উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক রতন একজন ব্যবসায়ী। স্থানীয় নোয়াগাঁও বাজারে দীর্ঘদিন ধরে তিনি একটি কনফেকশনারি পরিচালনা করে আসছেন। পাশাপাশি বাড়িতে গড়ে তুলেছেন একটি গরুর খামার। এই খামারে সুলতান, রাজা, শমলাসহ তার ৬টি গরু আছে। রতন ও তার স্ত্রী গরুগুলোর পরিচর্যা করেন। ৬টি গরুর মধ্যে তিনটি ষাড় ও তিনটি গাভী।

মোজাম্মেল হক রতন জানান, প্রায় তিন বছর আগে তিনি দেশীয় ক্রস জাতের এই বাছুরটিকে কিনে আনেন। এরপর থেকেই আদর ও যত্নসহকারে ষাড় বাছুরটিকে লালন পালন করে আসছেন। নাদুস-নুদুস ষাড়টির নাম দিয়েছেন “সুলতান”।

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদ-উল আজহায় তিনি সুলতানকে বিক্রি করে দেবেন। দাম চান ৮ লাখ টাকা। তিনি বলেন, তার সুলতানের ওজন প্রায় ২৫ মন। তিনি বলেন, বড়ই আরাম-আয়েশে বড় হয়েছে সুলতান। তার খামারের ৬টি গরুর জন্য তিনি নির্মান করেছেন তিনটি ঘর। তিনি বলেন, কোন ধরনের ক্ষতিকর খাবার ও ইনজেকশন ছাড়াই দেশীয় খাবারের মাধ্যমে তিনি গরুগুলো লালন-পালন করে আসছেন। প্রতিদিন গোয়ালঘর তিনবেলা পরিষ্কার করেন। খৈল,ভুষি, খড়, রাব ও ঘাস খাওয়ানো হয় গরুগুলোকে।

তিনি বলেন, গরুগুলো যাতে গরমে কষ্ট না করে সেজন্য গোয়ালঘরে সিলিং ফ্যান লাগানো হয়েছে। গরুর গোসলের জন্য বাড়িতে মোটরপাম্প বসানো হয়েছে। প্রতিদিন শেম্পু দিয়ে গরুগুলোকে গোসল করাই। তিনি বলেন, সুলতান ছাড়াও রাজা, শমলাসহ বিভিন্ন নামে তার আরো ৫টি গরু আছে। তবে কোরবানীর ঈদে তিনি শুধুমাত্র সুলতানকেই বিক্রি করবেন।

মোজাম্মেল হক রতন বলেন, খবর পেয়ে আশপাশ থেকে প্রতিদিনই ক্রেতারা তার বাড়িতে আসেন সুলতানকে কেনার আশায়। দামদরে না মেলায় তিনি সুলতানকে বিক্রি করছেন না। তিনি বলেন, তিনি এখনো সুলতানকে বাজারে তুলেন নি। ঈদের আগে বাজারে তুলবেন। এর আগে যদি বাড়ি থেকে বিক্রি হয় তাহলে আর বাজারে তোলার প্রয়োজন হবেনা। রতন বলেন, ইতিমধ্যেই ক্রেতারা সুলতানের দাম বলে গেছেন। তিনি এর দাম চান আট লাখ টাকা। তবে কত টাকায় তিনি তাকে বিক্রি করবেন তা বলতে রাজী হননি তিনি। বললেন নিজের সন্তানের মতো আদর করে সুলতানকে লালন-পালন করেছেন। তার টার্গেট পূরন হলে সুলতানকে বিক্রি করে দেবেন।

রতন জানান, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি গরুগুলো লালন-পালন করে আসছেন।

তিনি বলেন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ধারনা করেছেন এর ওজন ১ হাজার কেজি হবে। কিন্তু আমার ধারনা এর ওজন হবে ২৫ মান।

তিনি বলেন, কেউ যদি সুলতানকে কিনতে চান তাহলে তার মোবাইল ফোনে (০১৭১৫৯৬৮৯৩০) যোগাযোগ করতে পারেন।
এ ব্যাপারে বিজয়নগর উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক মোঃ এনামুল হক খোকন বলেন, সুলতান আসলেই দেখতে সুলতানের মতো। তার চলাফেরায় আলাদা বৈশিষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, মোজাম্মেল হক রতন খুবই যত্ন সহকারে সুলতানকে লালন পালন করেছেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১