শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফুটপাতে জমে উঠেছে গরম কাপড়ের হাট ॥ ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড়

শামীম-উন-বাছির | মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 259 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফুটপাতে জমে উঠেছে গরম কাপড়ের হাট ॥ ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড়

শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফুটপাতে জমে উঠেছে গরম কাপড়ের হাট। শীত নিবারনের জন্য নিম্ন আয়ের লোকজন ভীড় জমাচ্ছে এই হাটে। কিনছেন পছন্দসই কাপড়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, সদর হাসপাতাল রোড, পৌর এলাকার কাউতলী জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে, শহরের কোর্ট রোড, স্টেশন রোড, জেল রোডসহ শহরের বিভিন্ন রাস্তার ফুটপাতে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গরম কাপড় বিক্রি করছেন। তবে সবচেয়ে বেশী ব্যবসায়ী বসেছে শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের ফুটপাতে। ব্যবসায়ীরা ভ্যানে করে কাপড় বিক্রি করছেন। ফুটপাতের গরম কাপড়ের মধ্যে অধিকাংশ ব্যবসায়ী বিক্রি করছেন বিদেশ থেকে আমদানী করা পুরাতন কাপড়।

এসব হাটে ছোট বাচ্চাদের থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের কাপড় পাওয়া যায়। দামে সস্তা হওয়ায় ও গরমের জন্য টেকসই হওয়ায় বেচা-বিক্রি হচ্ছে বেশ ভালো।


গত ১ মাস আগ থেকে ফুটপাতে গরম কাপড় বিক্রি শুরু হলেও গত ১৫দিন ধরে এসব দোকানে থাকে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড়। এসব হাটে চামড়ার জ্যাকেটসহ, বিভিন্ন ধরনের জ্যাকেট, ব্লেজার, স্যুট, সুয়েটার, জাম্পার, মাফলার, মোটা কাপড়ের শার্ট, কান টুপি, মোজা, বাচ্চাদের জ্যাকেটসহ ওলের তৈরী বিভিন্ন ডিজাইনের কাপড় পাওয়া যায়।

আবার অনেক ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে গার্মেন্টেসের রিজেক্টেড হওয়া কাপড় এনেও এখানে বিক্রি করছেন। ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকার মধ্যে এসব কাপড় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত পুরাতন ভালো মানের জ্যাকেটের দাম একটু বেশী। ৮০০/১০০০ হাজার টাকায় এসব জ্যাকেট বিক্রি করা হয়।

প্রতিদিন শহর ও আশপাশ এলাকা থেকে নিম্ন আয়ের মানুষ এসব দোকানে এসে পরিবারের লোকজনের জন্য কাপড় কিনে নিয়ে যায়।

সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব দোকানে চলে বেচা-কেনা। এসব দোকান পুরুষ ক্রেতার চাইতে মহিলা ক্রেতাই বেশী দেখা যায়।

শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের ফুটপাতের দুই ব্যবসায়ী নিজাম আলী ও রাসেল মিয়া জানান, তারা ঢাকার বিভিন্ন ছোট-বড় গার্মেন্টস থেকে এসব শীতের কাপড় কিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্রি করি। বেচা-কেনা ভালোই হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেচা-বিক্রি ভালো। তবে এ বছর ঢাকা থেকে কাপড় একটু বেশী দামে কিনতে হচ্ছে।

শহরের পৌর আধুনিক সুপার মার্কেটের সামনে ফুটপাতের কাপড় বিক্রেতা জীবন মিয়া বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে শীত একটু বেশী পড়ায় বেচা-বিক্রি বেড়েছে। প্রতিদিন ৬/৭ হাজার টাকার কাপড় বেচা-বিক্রি হচ্ছে।

অপর বিক্রেতা কামাল মিয়া বলেন, ফুটপাতের কাপড়ের অনেক চাহিদা। শুধু নিম্ন আয়ের লোকজনই নয়, ধনীরাও ফুটপাত থেকে কাপড় কিনেন।

ফুটপাতের অপর বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, তিনি চট্টগ্রাম থেকে পুরাতন কাপড়ের গাইড কিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনে বিক্রি করেন। ভাগ্য ভালো থাকলে গাইডে অনেক ভালো ভালো জ্যাকেট, সুয়েটার পাওয়া যায়। এসব বিক্রি করে লাভও হয় ভালো। আবার অনেক সময় গাইডে ভালো কাপড় পাওয়া যায়না।

ফুটপাত থেকে কাপড় কিনতে আসা গৃহিনী নাজমা বেগম বলেন, ফুটপাত থেকে গত বছরও কাপড় কিনেছি। কাপড়ের মান ভালো তাই এবছরও বাচ্চাদের জন্য কাপড় কিনতে এসেছি। সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো কাপড় পাওয়া যায়।

একই কথা জানালেন সরকারি চাকুরীজীবী তৌহিদ আলম। তিন বলেন, এখান থেকে বাচ্চার জন্য ৩০ টাকায় একজোড়া মোজা কিনেছি। শপিং মল থেকে কিনলে লাগে একশত টাকা।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১