শিরোনাম

কনকনে শীতে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফুটপাতে জমে উঠেছে পিঠার ব্যবসা ॥ ক্রেতাদের ভীড়

শামীম-উন-বাছির | রবিবার, ১২ জানুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 178 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফুটপাতে জমে উঠেছে পিঠার ব্যবসা ॥ ক্রেতাদের ভীড়

কনকনে এই শীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন রাস্তার ফুটপাতে জমে উঠেছে হরেক রকমের পিঠার ব্যবসা। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০/১১টা পর্যন্ত চলে তাদের পিঠা বিক্রি। প্রতিটি দোকানেই থাকে ক্রেতাদের ভীড়। শহরের নিম্নবিত্তের লোকজন ছাড়াও উচ্চ বিত্তের লোকেরাও ফুটপাত থেকে হরেক রকমের পিঠা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের বাসা-বাড়িতে। পরিবার পরিজন নিয়ে খাচ্ছেন এসব পিঠা।

সারা বছরই শহরের ২/৩টি রাস্তার ফুটপাতে ভাসমান ব্যবসায়ীরা পিঠা বিক্রি করলেও শীত পড়ার সাথে সাথে বেড়েছে দোকানের সংখ্যা। বর্তমানে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের ফুটপাত ছাড়াও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার অলি-গলিতে ভাসমান বিক্রেতারা পিঠা বিক্রি করছেন।


সকাল ১০টা থেকে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত চলে তাদের পিঠা বিক্রি। শহরের শ্রমজীবী মানুষই তাদের প্রধান ক্রেতা। তবে বিভিন্ন এলাকার থেকে উচ্চ বিত্তের লোকেরাও এসে তাদের পরিবার-পরিজনের জন্য ফুটপাত থেকে হরেক রকমের পিঠা কিনে নিয়ে যান। পিঠার জন্য প্রচুর ক্রেতা থাকায় অনেকক্ষন অপেক্ষা করেও পিঠা কিনতে হয়।

সরজমিনে দেখা গেছে, শীত পড়ার সাথে সাথে শহরের পৌর সুপার মার্কেট, সিটি সেন্টার, আধুনিক পৌর সুপার মার্কেট, কোর্ট রোড, মসজিদ রোড, হাসপাতাল রোড, কুমারশীল মোড়, সাবেরা সোবহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, রেলওয়ে ষ্টেশন রোড, কান্দিপাড়া মাদরাসা রোড, কাজীপাড়া জেলা ঈদগাহ ময়দান, ডাঃ ফরিদুল হুদা রোড, কাউতলী জেলা পরিষদের মার্কেটের সামনে সহ শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোডের ফুটপাত ও শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তার মোড়ে পিঠা বিক্রি হচ্ছে।

সকাল ১০টার পর থেকেই দোকানীরা ফুটপাতে মাটি, এলপি গ্যাস ও কোরোসিনের চুলা নিয়ে বসে যান। এসব দোকানে চিতই পিঠা, মেরা পিঠা (চোয়া পিঠা), ভাঁপা পিঠা, পোয়া পিঠা (তেলের পিঠা), পাটিসাপটা পিঠা বেশী বিক্রি হয়। তবে কনকনে এই শীতে ভাপা পিঠারই কদর বেশী। ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী খেজুরের গুড়, ধনেপাতা ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাঁপা পিঠা তৈরী করে দেয়া হয়। এছাড়া চিতই পিঠার সাথে ক্রেতাদেরকে সরিষার ভর্তা ও শুটকির ভর্তা দেয়া হচ্ছে। গরম গরম পিঠা পেয়ে ক্রেতারাও দারুন খুশী। প্রতিটি বড় ভাঁপা পিঠা ১০টাকা ও প্রতিটি ছোট ভাঁপা পিঠা ৫ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি বড় সাইজের চিতই পিঠা ১০টাকা এবং ছোট সাইজের চিতই পিঠা ৫ টাকা করে বিক্রি করা হয়।

শহরের আধুনিক পৌর সুপার মার্কেটের সামনের পিঠা বিক্রেতা আকবর আলী জানান, প্রতিদিন তিনি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করেন। এতে তার লাভ হয় ৫০০/৬০০ টাকা। তিনি বলেন, আগে তিনি প্রতিদিন ৫/৬ কেজির চালের গুঁড়ার পিঠা বিক্রি করলেও বর্তমানে ৭/৮ কেজি চালের গুড়ার পিঠা বিক্রি করতে পারেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন বেলা ১১টার পর তিনি দোকান নিয়ে বসেন। রাত ১০/১১টা পর্যন্ত চলে তার বেঁচা কেনা। তিনি বলেন, তার এখানে চিতই ও ভাঁপা পিঠাই বেশী বিক্রি হয়। ধনে পাতা ও কাঁচা মরিচ দিয়ে তৈরী ভাঁপা পিঠা এবং নারকেল-খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরী ভাঁপা পিঠার চাহিদাই বেশী। তিনি জানান, অনেকেই তার কাছ থেকে পিঠা কিনে বাসা-বাড়িতে নিয়ে যান।

পৌর এলাকার কাজীপাড়া জেলা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রি করেন আসমা বেগম নামে এক মহিলা। তিনি মূলত চিতই পিঠা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে বেচা-বিক্রি ভালো হচ্ছে। তিনি জানান, চিতই পিঠার সাথে ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী সরিষার ভর্তা ও শুটকির ভর্তা দেন তিনি। তিনি জানান, প্রতিদিন ৬/৭ কেজি চালের গুড়ার পিঠা বিক্রি করতে পারেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী তানিয়া আক্তার ও তোফা ইসলাম বলেন, তাদের বাড়ি আশুগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে। তারা দু’জনই কলেজের হোষ্টেলে থাকেন। তারা বলেন, শীতের দিনে বাড়িতে মা-চাচীরা তাদেরকে হরেক রকমের পিঠা বানিয়ে খাওয়াতেন। হোষ্টেলে থাকায় তারা এখন মা-চাচীর হাতে তৈরী পিঠা খাওয়া থেকে বঞ্চিত। তারা বলেন, সুযোগ পেলেই তারা শহরের ফুটপাত থেকে চিতই পিঠা ও ভাঁপা পিঠা কিনে নিয়ে যান হোষ্টেলে।

পৌর এলাকার কাজীপাড়ার বাসিন্দা মোঃ আবদুল্লাহ জানান, তিনি সরকারি চাকুরী করেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে ইচ্ছে করলেই গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেন না। তাই তিনি ফুটপাত থেকেই হরেক রকমের পিঠা কিনে বাসায় নিয়ে যান।

কয়েকজন দোকানী জানান, ক্রেতাদের কাছে চিতই পিঠার চাহিদাই বেশী। চিতই পিঠার সাথে তারা নিয়ে যান সরিষা ভর্তা, ধনেপাতার ভর্তা অথবা শুটকির ভর্তা। কয়েকজন দোকানী আক্ষেপ করে বলেন, তারা ফুটপাতে প্রতিদিন বসতে পারেন না। পুলিশ ও পৌর সভার লোকেরা তাদেরকে ফুটপাত থেকে তুলে দেয়।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, শহরের যানজট নিরসনে মাঝে মাঝে ফুটপাতের দোকানীদেরকে উচ্ছেদ করা হয়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১