শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্ষিতা বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী জন্ম দিলেন পুত্র সন্তান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 158 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্ষিতা বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী জন্ম দিলেন পুত্র সন্তান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ধর্ষনের শিকার বাক প্রতিবন্ধী কিশোরী পুত্র সন্তানের মা হয়েছেন। গত শনিবার (২৮ডিসেম্বর ২০১৯) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে তিনি শিশু পুত্র জন্ম দেন। এদিকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর সন্তান জন্মদানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার। পরিবারের সদস্যরা ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পুলিশ জানায়, ধর্ষনের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশক্রমে ধর্ষিতা ও তার সন্তানের ডিএনএ টেষ্টের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বাকদিয়া গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী ও কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষন করে একই এলাকার শামীম মিয়া-(২২) নামের এক যুবক। পরে বিষয়টি জানতে পারেন ধর্ষিতার পরিবার। এনিয়ে এলাকায় একাধিক সালিশ হলেও কোন সুরাহা হয়নি। এক পর্যায়ে ওই কিশোরী গর্ভবতী হয়ে গেলে চলতি বছরের ২ অক্টোবর কিশোরীর পিতা বাদী হয়ে ধর্ষক শামীম মিয়া এবং তার সহযোগী নূর আলমকে আসামী করে বিজয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্ত শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরন করে। বর্তমানে শামীম মিয়া কারাবাস করছে।

এদিকে গত শনিবার সকালে ওই কিশোরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পুত্র সন্তান জন্ম দেন। হাসপাতালে মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ওই কিশোরীর মা অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষনের শিকার আমার মেয়েটি বাক প্রতিবন্ধী। স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারে না। মেয়েটির শারিরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে ধর্ষক শামীমের সহযোগী নুর আলমের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি তাকে শামীম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক বার ধর্ষন করেছে। এনিয়ে আমাদের গ্রামে একাধিক শালিস-বৈঠক হলেও শামীমের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।

কিশোরীর পিতা জানান, আমার মেয়েকে ধর্ষনের পর ধর্ষক শামীমের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়ার জন্যে আমাকে অনেক ভয়ভীতি ও চাপ দেয়া হয়। আমি তাদের হুমকি-ধামকিতেও থেমে যাইনি। শামীমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছি। পরে পুলিশ শামীমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। পুলিশর আমার মেয়েকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা জানান, আমার মেয়ে ২৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্বা। তিনি বলেন, আমি দিন-মজুর। আমার স্ত্রী অন্যের বাড়ীতে কাজ করে। এখন কি করবো বুঝতে পারছিনা। আমি ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন জানান, চলতি বছরের অক্টোবর ওই কিশোরীকে প্রথম হাসপাতালে আনা হয়। তখন আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখি সে ২৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্বা। পরে গত শুক্রবার রাতে প্রসবজনিত ব্যাথা নিয়ে ওই কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়। গত শনিবার সকালে তার পুত্র সন্তান জন্ম হয়। বর্তমানে শিশু ও তার মা সুস্থ্য আছে। তার সকল চিকিৎসার ব্যয় আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করবো।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, ধর্ষনের ঘটনায় মামলা হলে অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে শামীম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। বর্তমানে ডিএনএ টেষ্টের মাধ্যমে ওই শিশুর পিতৃত্ব নির্ধারন করা হবে। আদালতের আইন আনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১