শিরোনাম

জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে দুই মেম্বারসহ আহত-৫ ॥ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 333 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে দুই মেম্বারসহ আহত-৫ ॥ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সালিশ সভায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে দুই ইউপি সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মহসিন খন্দকার-(৩৪), সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার আনোয়ারা বেগম-(৬০), সিরাজ খন্দকার-(৪০), এমরান খন্দকার-(২৮) ও নাদিম খন্দকার-(২৫)।


আহতদের মধ্যে ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগম ও তার ছেলে নাদিম খন্দকারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় গত শনিবার (২৮ডিসেম্বর ২০১৯) বিকেলে সদর মডেল থানায় পাল্টা-পাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা গ্রামের খন্দকার বাড়ির শিশু মিয়া খন্দকার ১৯৯১ সালে তার বাড়ির দুই শতাংশ জায়গা তারই ছোট ভাই হুমায়ূন কবির খন্দকার ওরয়ে কালু মিয়া খন্দকারের কাছে বিক্রি করে দেন। কিন্তু জায়গাটি তৎকালীন সময়ে শিশু মিয়া খন্দকার কালু মিয়া খন্দকারকে রেজিষ্ট্রি করে দেননি। গত ১০/১২ বছর আগে শিশু মিয়া খন্দকার মারা যান।
শিশু মিয়া খন্দকার মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগম এবং তার ছেলেরা জায়গাটি কালু মিয়া খন্দকারকে রেজিষ্ট্রি করে না দিয়ে টাকা ফেরত দিতে প্রস্তাব দেন। কিন্তু কালু মিয়া খন্দকার ও তার ভাতিজা মহসিন খন্দকার টাকা ফেরত নিতে অস্বীকার করেন। এর পর থেকেই ভাবী আনোয়ারা বেগমের সাথে দেবর কালু মিয়া খন্দকারের বিরোধ চলে আসছিল।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কালু মিয়া খন্দকারের বাড়িতে এনিয়ে পারিবারিকভাবে শালিস সভা বসে। সালিশ সভায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মৃত শিশু মিয়া খন্দকারের ছেলে জনি খন্দকার কালু মিয়া খন্দকারের উপর হামলা করলে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগম, ইউপি সদস্য মহসিন খন্দকার, হুমায়ূন কবির খন্দকার কালু, সিরাজ খন্দকার, এমরান খন্দকার ও নাদিম খন্দকার আহত হন।

আহত আনোয়ারা বেগমের ছেলে জনি খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাচা কালু খন্দকার ও চাচাতো ভাই মহসিন খন্দকারের সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরেই চাচাতো ভাই মহসিন খন্দকারের নেতৃত্বে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের উপর হামলা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মহসিন খন্দকার বলেন, জায়গা সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার চাচী আনোয়ারা বেগম ও তার ছেলেদের সাথে তার অপর চাচা কালু খন্দকারের বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধ নিষ্পত্তিকল্পে শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা পারিবারিকভাবে বসলে তার চাচাতো ভাই জনি ও নাদিম খন্দকারের নেতৃত্বে তাদের উপর হামলা করা হয়। এতে তিনি নিজেও আহত হন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, হামলার ঘটনায় গত শনিবার বিকেলে থানায় দুটি (পাল্টা-পাল্টি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলা দায়ের করেছেন ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগমের ছেলে জনি খন্দকার। অপর মামলাটি করেছেন ইউপি সদস্য মহসিন খন্দকারের চাচা হুমায়ূন কবির কালু খন্দকার। তিনি বলেন, তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১