শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই লাশ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার | বুধবার, ০৬ অক্টোবর ২০২১ | পড়া হয়েছে 476 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই লাশ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অহেদ মিয়া-(৫০) নামে এক ব্যবসায়ী ও রিমা আক্তার-(২৩) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে জেলার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের শেরপুর ও বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। উভয় পরিবারের পক্ষ থেকেই তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে কসবার ঘটনায় থানায় ইউডি মামলা হয়েছে।

গৃহবধূ রিমা আক্তার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের আবদুল বাছিরের মেয়ে ও একই গ্রামের জুনায়েদ মিয়ার স্ত্রী। অপর দিকে অহেদ মিয়া কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের মৃত জয়নাল উদ্দিনের ছেলে। গত মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে লাশ দুটোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা গ্রামের আবদুল বাছিরের মেয়ে রিমা আক্তারের সাথে প্রায় ৩ বছর আগে একই গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে জুনায়েদ মিয়ার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

রিমার পরিবারের দাবি সোমবার সন্ধ্যায় স্বামী জুনায়েদ মিয়া রিমাকে মারধোর শেষে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। পরে স্বামীর বাড়ির লোকজন সে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচার শুরু করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে গৃহবধূ রিমার ভাই মুফতি কেফায়েত উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, রিমার সাথে তার স্বামী জুনায়েদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিলো। প্রায়ই রিমাকে মারধোর করতো জুনাইদ।

রোববার রাতেও রিমাকে মারধোর করে জুনায়েদ। এনিয়ে সোমবার সকালে উভয় পরিবারের মধ্যে সালিশও হয়। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় জুনায়েদ আবার রিমাকে মারধোর করার এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলে রিমা আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকায় মিথ্যা প্রচার শুরু করে। তিনি তার বোনের হত্যার বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ সাব্বির হোসাইন বলেন, রিমা ফাঁসিতে ফুলে আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হয়না। তার মৃত্যুটি রহস্যজনক বলেই ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজা মোহাম্মদ হাসান বলেন, আমরা গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে। তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।
অপর দিকে সোমবার সকালে জায়গা সম্পত্তির বিষয় নিয়ে অহেদ মিয়ার সাথে তার ভাইদের কথাকাটি হয়। এর পর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে অহেদ মিয়া। রাত ৯টার দিকে অহেদ মিয়াকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এ ব্যাপারে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলমগীর ভূইয়া বলেন, জায়গা সম্পত্তি নিয়ে ভাইদের সাথে অহেদ মিয়ার বিরোধ ছিলো। সোমবার সকালে সম্পত্তি নিয়ে ভাইদের সাথে তার কথাকাটি হয়। রাত ৯টার দিকে অহেদ মিয়া মারা যান। তিনি বলেন, অহেদ মিয়া স্টোক করে মারা গেছে। এ ঘটনায় তার ছেলে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা থানায় একটি ইউডি মামলা করেছি। অহেদ মিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১