শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোর তান্ডবে দেড় শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত ॥ নিহত-১ ॥ আহত-২৫

স্টাফ রিপোর্টার | শনিবার, ০৬ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 317 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোর তান্ডবে দেড় শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত ॥ নিহত-১ ॥ আহত-২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও সরাইলে উপজেলার ১৫টি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টর্নেডোর তান্ডবে দুই উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে একজন নিহত ও ২৫জন আহত হয়।

নিহতের নাম সোহেল আহমেদ-(৫০)। তিনি নাসিরনগর উপজেলাপর আশুরাইল গ্রামের রাশিদ মিয়ার ছেলে। তিনি পোষ্ট মাস্টার ছিলেন। সোহেল আহমেদ বিধ্বস্ত ঘরের নীচে চাপা পড়ে আহত হলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।
টর্নেডোর ছোবলে অসংখ্যা গাছপালা ভেঙ্গে যায়, বিধ্বস্ত হয় বিদ্যুতের খুঁটি, উপড়ে গেছে একটি নলকূপ

শনিবার সকাল ৮টার দিকে নাসিরনগর উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়া, গাঙ্কুলপাড়া, উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর আশুরাইল, বেনিপাড়া, সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আইরল (শান্তিনগর), কুচনি ও বুড্ডা গ্রামসহ ১৫টি গ্রামের উপর দিয়ে টর্নোডো বয়ে যায়। টর্নোডোতে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া বাড়ি ঘরের বাসিন্দারা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন।


টর্নোডের পর দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা আশরাফী, সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মোসা।

এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাসিরনগর উপজেলার সদরের পশ্চিম পাড়া, ডাংকবাংলো, গাংকলপাড়া, মহাখালপাড়া ও বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল, শ্রীঘর, বেনীপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের উপর দিয়ে টর্নেডো বয়ে যায়। কয়েক মিনিটব্যাপী স্থায়ী টর্নেডোতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় কয়েকটি গ্রামের শতাধিক কাচাঁ-পাকা ঘরবাড়ি, গাছপালা,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ, গৌরমন্দিরের টিনের চালা, নৌকা ও বিদ্যুতের খুটি। এ সময় বিধ্বস্ত ঘরে চাপা পড়ে সোহেল আহমেদ-(৫০) নামে এক পোষ্ট মাষ্টার নিহত হন ও আহত হন কমপক্ষে ১০ জন।

টর্নেডোর তান্ডবে ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়া নাসিরনগর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা বিধবা অনিতা দাস বলেন, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার বসতঘর, রান্না ঘরটি টর্নেডো উড়িয়ে নিয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরের আসবাবপত্রসহ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। তিনি এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। তিনি সরকারের কাছে সহায়তা কামনা করেছেন।
একই গ্রামের জালাল মিয়া, রতিলাল দাস, মুল চান বেগম বেগমের ঘরও টর্নেডোতে উঠে যায়। ঘরের নিচে চাপা পড়ে আহত হন রতিলাল এবং মুলচাঁন বেগম।

বুড়িশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম মোজাম্মেল হক সরকার বলেন, আশুরাইল গ্রামে টর্নেডোর তান্ডবে পোষ্ট মাস্টার সোহেল আহমেদ মারা গেছেন। তিনি বলেন, তার ইউনিয়নে ৩০/৪০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
অপরদিকে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের জব্বার মিয়া ও আহাদ মিয়া বলেন, গতকাল শনিবার সকাল থেকেই ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছিল। সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে আইরল গ্রাম থেকে শুরু হয় টর্নেডোর তান্ডব। এটি আঘাত হানে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে। কয়েক মিনিট স্থায়ী এই টর্নেডোতে ইউনিয়নের কুচনি, বুড্ডা ও শান্তিনগর গ্রামের ২০/৩০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়। ভেঙ্গে যায় বেশ কয়েকটি বাড়ির প্রতিরক্ষা দেওয়াল। মুচড়ে উপড়িয়ে নিয়ে যায় একটি নলকূপ। কুচনি গ্রামের ‘মসজিদুল আশরাফি’ নামের একটি মসজিদের চাল ভেঙ্গে গেছে।

তিনি বলেন, এতে ৬ শিশুসহ ১৫জন আহত হয়। এরা হলেন, বাছির মিয়া (৩০), রাজিয়া বেগম (৩৪), তাবাসসুম (০৩), সাদিয়া (১০), মাহাবুব (১২), শিহাবুর রহমান (১০), মোজাহিদ (০৮) ও শায়লা (০৯)। আহতদের মধ্যে রাজিয়া বেগম সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে টর্নোডের শেষে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা আশরাফী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদেরকে সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি টর্নেডোতে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টর্নেডোর আঘাতে দুটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়ি, গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। বেশ কয়টি নৌকাও ভেঙে গেছে। পুরোপুরি না জেনে ক্ষতির সঠিক পরিমান বলা যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যারকে বলা হয়েছে। এ সময় এসময় নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শম্ভুনাথ আচার্য সহ সরকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল ম্যানেজার হিমেল কুমার সাহা জানান, ৩৫ পয়েন্টে বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেছে। দুটি স্থানে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেছে। ঝড়ের পর পরই আমরা লাইন মেরামতের চেষ্টা করছি।
অপরদিকে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএসএম মোসা তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের প্রত্যেক পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন বলেন, ঘূর্নীঝড়ে নাসিরনগরের ১০টি গ্রামের শতাধিক এবং সরাইল উপজেলার দুটি গ্রামের ৩০টির বেশি বাড়ীঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমাদের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরির্দশন করেছেন। প্রতিটি পরিবারকে নগদ টাকা, ঢেউটিন, খাদ্য সামগ্রী দেয়া হবে। তিনি বলেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা প্রয়োজন সবই করা হবে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে আছি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০