শিরোনাম

স্বামীর বিচার দাবিতে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জয়িতা নারীর আমরণ অনশন

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারি ২০২২ | পড়া হয়েছে 112 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জয়িতা নারীর আমরণ অনশন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বামীর বিচারের দাবিতে ১০ বছর বয়সী কন্যা মিথিলাকে খাতুনকে নিয়ে আমরণ অনশনে বসেছেন নাটোরের জয়িতা নারী মরিয়ম খাতুন।

গত সোমবার বেলা ১১টার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনশনে বসেন তিনি।
বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী- এই ক্যাটাগরিতে ২০১৩ সালে জয়িতা সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন মরিয়ম খাতুন।


নাটোরের বড়ইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর করা ওই সম্মাননা পত্রটি হাতে নিয়ে বলছিলেন তিনি। পিছনেই বিভিন্ন দাবির কথা উল্লেখ করে আমরণ অনশনের ব্যানার টানানো। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন মরিয়ম।

অনশন চলাকালে সোমবার সন্ধ্যায় মরিয়ম খাতুন বলেন, তার বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে। তার পিতার নাম সিতাব আলী মন্ডল। ২০০৮ সালের ২৯ আগস্ট পাবনা জেলার আটঘরিয়া গ্রামের রামেশ্বর গ্রামের সুরমান মিয়ার ছেলে মোঃ শাহ আলমের সাথে তার বিয়ে হয়। শাহআলম পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লাইনম্যান পদে চাকুরি করেন। শাহআলম বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় কর্মরত।

মরিয়ম খাতুন বলেন, বিয়ের পর তাদের ঘরে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ২০১১ সালে কন্যার বয়স যখন ৬ মাস তখন শাহআলম পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে তাকে ডিভোর্স দেন। পরে তার ঠাঁই হয় বাপের বাড়িতে। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে তিনি মাস্টার্স পাস করেছেন। পরে মরিয়ম এরপর ব্র্যাকের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার হিসেবে চাকুরি নেন। অনৈতিক আবদার মেটাতে না পারায় এক কর্মকর্তার মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার চাকরি চলে যায়। এরপর থেকে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন।

মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘আদালতের রায় অনুযায়ি শাহআলম আমার কাবিননামার টাকা দিয়ে দেন। আদালতের রায় অনুযায়ী শাহআলম মেয়ের জন্য মাসে এক হাজার টাকা করে খরচ দেয়। কিন্তু এ টাকার খরচ চালানো সম্ভব না। ব্যাংকে থাকার টাকার লাভ ও ওই এক হাজার টাকা দিয়ে আমার মা সহ তিনজনের সংসার চালানো খুব কষ্টকর।

তিনি বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন মেয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করানো নিয়ে। কেন না, ভর্তির জন্য পিতার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু মিথিলার বাবা সেটা দিচ্ছে না। অনেকে বলছে বাবাকে মৃত দেখাতে। কিন্তু সেটাও আমি করতে চাই না। এছাড়া জীবিত মানুষের মৃতের সার্টিফিকেট কে দিবে।’

তিনি বলেন অনেক ভেবে চিন্তে তিনি কন্যাসহ স্বজনদেরকে নিয়ে শাহআলমের জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি আনার জন্যে শাহআলমের কর্মস্থলে যান। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি না দিয়ে শাহআলম তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করে তাড়িয়ে দেন।

মরিয়ম অভিযোগ করে বলেন, এখনো তাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। শাশুড়ি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করলে তার নামে হত্যা মামলা দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্তে সেটি মিথ্যা মামলা হিসেবে প্রমাণিত হলে রক্ষা পান। ডিভোর্স দেওয়ার পর শাহ আলম আরেকটি

তিনি বলেন, শাহআলমের বিচার দাবিতে কন্যাকে নিয়ে তিনি অনশনে বসেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শাহআলম নারী শিশু নির্যাতন মামলার আসামী। মানব পাচার মামলার আসামী।

অনশন চলাকালে মরিয়মের কন্যা মিথিলা খাতুন বলেন, আমি ছোট থাকতেই বাবা আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর থেকেই আমরা মামার বাড়িতে থাকি। বাবা আমার কোন খোঁজ-খবর নেয়না। এখন আমি স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য বাবার আইডি কার্ডের প্রয়োজন। কিন্তু তিনি আমাকে আইডি কার্ড না দিয়ে আমাদের অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। পিতা হিসেবে তিনি আমার শিক্ষা খরচ প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা ও স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য তাঁর আইডি কার্ড দেয়ার জন্য অনশনে বসেছি।

মরিয়মের আত্মীয় ও বাংলাদেশ নারী মুক্তি আন্দোলনের সদস্য রুপালী খাতুন বলেন, শাহআলম আমার ফুফুকে (মরিয়ম) বিয়ের পর অনেক অত্যাচার নির্যাতন করেছেন। এক পর্যায়ের তাকে তালাক দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে শাহআলম প্রতি মাসে তার মেয়ের খরচ বাবদ ১ হাজার টাকা দেয়। এক হাজার টাকা দিয়ে কিছু হয়না। বর্তমানে তার মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করতে হলে বাবার পরিচয়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু শাহআলম পরিচয়পত্রে ফটোকপি দিচ্ছেন না। আমরা চাই শাহআলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

এ ব্যাপারে মোঃ শাহআলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মরিয়মকে পাওয়া যায়নি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১