শিরোনাম

জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসকদের সুরক্ষায় ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বার’

শামীম-উন-বাছির | শুক্রবার, ০৮ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 229 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসকদের সুরক্ষায় ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বার’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসকদের সুরক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আগত কোনো রোগী বা স্বজনদের মাধ্যমে চিকিৎসকরা যাতে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত না হন, সেজন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে “ডক্টরস সেফটি চেম্বার” করে দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ।
বাক্সের আদলে তৈরি করা চেম্বারটির ভেতরে থাকবেন চিকিৎসক আর বাইরে থাকবেন রোগীরা। হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনেই চেম্বারটি করা হয়েছে।

আগামীকাল রোববার (১০ মে) চেম্বারটি আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, স্বচ্ছ কাঁচ এবং স্টিল দিয়ে “ডক্টরস সেফটি চেম্বারটি” তৈরি করা হয়েছে। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ৭দিন।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় জেলা ছাত্রলীগ চেম্বারটি তৈরী করেছেন। চেম্বারটি তৈরিতে খরচ হয়েছে এক লাখ টাকা।
(০৮মে ২০২০)শুক্রবার বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বহির্বিভাগের সামনে “ডক্টরস সেফটি চেম্বারটি” রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও রোগীদের কথোপকথনের জন্য চেম্বারের ভেতরে এবং রাইরে পৃথক দুটি মাইক্রোফোন সংযুক্ত করা হয়েছে। কোনো রোগীকে স্পর্শ করার প্রয়োজন হলে কাঁচের ভেতর দিয়ে গ্লাভসও লাগানো হয়েছে। এছাড়াও চেম্বারের ভেতরে চিকিৎসকদের বিশ্রামের জন্য বেঞ্চও রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন বলেন, বর্তমান সংকটকালে চিকিৎসকরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে আমাদের স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন। সেজন্য তাদের সুরক্ষার বিষয়টিও আমাদেরকেই ভাবতে হবে। হাসপাতালে আসা কোন রোগীর মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ আছে কিংবা আক্রান্ত সেটি বুঝার কোনো উপায় নেই। অনেক সময় রোগীরা তথ্য গোপন করার কারণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। সেজন্যই আমরা চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এই সেফটি চেম্বার করেছি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ শওকত হোসেন বলেন, ‘রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যেহেতু করোনাভাইরাস এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েগেছে। তাই আমরা জানি না কে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বা কে আক্রান্ত না। সেক্ষত্রে চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য এই চেম্বারটি কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। এই চেম্বারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা নিরপাত্তা বজায় রেখে রোগীদের সাথে কথা বলতে পারবেন, সেবা দিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রবাসীসহ ৫৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন দুইজন। আর সুস্থ্য হয়েছেন ২৮ জন। বাকিরা আইসোলেশনে রয়েছেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০