শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনিষ্ঠ করোনাযোদ্ধা রুদ্রজিৎ পাল

আখাউড়া প্রতিনিধি | শনিবার, ০২ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 190 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনিষ্ঠ করোনাযোদ্ধা রুদ্রজিৎ পাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবরোধে স্বাস্থ্য সচেতনতায় প্রচারে নেমেছে প্রথম শ্রেণীর ছাত্র রুদ্রজিৎ পাল নামে এক শিশু।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সে আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ঘুরে ঘুরে মাইকিং করে মানুষকে ঘরে থাকার আহবান জানায়। পাশাপাশি জনগনের মধ্যে নিজের হাতে লেখা সচেতনতামূলক লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ করে।


এদিকে একজন শিশুকে এমনভাবে প্রচার করতে দেখে প্রশংসায় সরব হয়েছেন আখাউড়াবাসী। যেভাবে শিশুটি রাস্তায় অটোরিক্সা করে মাইকে প্রচার করছেন তা দেখে উচ্ছসিত হয়েছে মানুষ। সকলেই তার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা ‘দৈনিক কালের কন্ঠ’ পত্রিকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি ও শিশু সংগঠক বিশ্বজিৎ পাল বাবুর ছেলে রুদ্রজিৎ পাল। আখাউড়ার মেধা বিকাশ প্রি ক্যাডেট স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে পড়ে সে।

রুদ্রজিৎ প্রায় তিন ঘন্টা করা মাইকিংয়ে বলেছে, ‘শুনুন শুনুন শুনুন। একটি ঘোষণা শুনুন। আপনারা স্বাস্থ্য সচেতন থাকবেন। অকারণে ঘর থেকে বের হবেন না। ঘর থেকে বের হলে মুখে পড়ুন মাস্ক, হাতে পড়ুন গ¬াভস। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। নিয়মিত হাত ধোবেন। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। এ সময় রুদ্রজিতের কাকা প্রসেনজিৎ পাল সান্টু ও সুরজিত পাল অর্ণব এবং ধারাভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত খোরশেদ আলম বাবু তার সাথে ছিলেন।

শিশু রুদ্রজিতের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার রেইনা। তিনি বলেন, এটি আখাউড়াবাসীর জন্য একটি ভালো উদাহরণ। স্বাস্থ্য সচেতনায় তার মাইকিং, নিজের হাতে লেখা লিফলেট বিতরণ, মাস্কও বিতরণ করছে। আশা করি এই শিশুর আহবানে সাড়া দিয়ে মানুষ সচেতন হবে।

আখাউড়া পৌর সভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ‘শিশু রুদ্রজিতের এই কার্যক্রম আমাদের বিবেককে নাড়া দিবে, জাগ্রত করবে। আশা করবো ওই শিশুর কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলবো। সত্যিই শিশুর উদ্যোগটি প্রশংসার দাবিদার।

আখাউড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম ভূঁইয়াকে লিফলেট দেয়ার সময় তিনিও এ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। রুদ্রজিতের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলেন দেন জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ আতাউর রহমান নাজিম।

মেধা বিকাশ প্রি ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম সাগরও বেশ খুশি হয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেছেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে এটি আলোচিত ঘটনার মধ্যে একটি।’ তার পড়াশুনা আর মেধার বিষয় নিয়েও তার শিক্ষক প্রশংসা করেছেন।

রুদ্রজিতের বাবা বিশ্বজিৎ পাল বাবু জানান, টিভি দেখে সে স্বাস্থ্য সচেতনতার ডায়লগ মুখস্থ করে প্রায়ই বাসায় বলতো। পরে মুখস্থ করা ডায়ালগ কাগজে লিখলো। সঙ্গে নিজের পরিচিতির কথা যোগ করে দিলাম। লিফলেটের পাশাপাশি মাস্ক বিতরণের আবদার করলে সেটিও দেয়া হয়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০