শিরোনাম

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আওয়ামীলীগের ৮ “বিদ্রোহী” প্রার্থী

শামীম উন বাছির | রবিবার, ১৭ মার্চ ২০১৯ | পড়া হয়েছে 428 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আওয়ামীলীগের ৮ “বিদ্রোহী” প্রার্থী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে ৭টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগামী ৩১ মার্চ। এর মধ্যে দুই উপজেলায় (আখাউড়া ও কসবা) চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে বাকি পাঁচ উপজেলাতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা রয়েছেন। ওই পাঁচ উপজেলায় দলের ৮জন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করতে হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের।

ওই ৫ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মূলত আওয়ামী লীগ ও তাদের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে ‘বিদ্রোহী’ থাকায় দল মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে এখন চিন্তার ভাজ। অপরদিকে সারাদেশে বেশ কিছু ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও বিদ্রোহী প্রার্থীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। তার সাথে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও। ফিরোজুর রহমান ওলিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে পর পর পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন।


নাসিরনগর উপজেলা পরিষদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ডাঃ রাফি উদ্দিন আহমেদ। তিনি নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই উপজেলায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ টি এম মনিরুজ্জামান সরকার।

আওয়ামীলীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাফি উদ্দিন অসুস্থতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তি। এই উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুজ্জামানের পক্ষে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ।

সরাইল উপজেলায় আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর তালিকা বেশ দীর্ঘ। এই উপজেলায় নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী শফিকুর রহমান। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শের আলম (মোটর সাইকেল প্রতীক) এবং আওয়ামী লীগ নেতা মোখলেছুর রহমান ( চিংড়ী মাছ)।

আশুগঞ্জ উপজেলায় নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক হানিফ মুন্সী। এই উপজেলায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিসুর রহমান। এই উপজেলায় আওয়ামীলীগের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই আনিসুর রহমানের পক্ষ নিয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন।

নবীনগর উপজেলা পরিষদে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক কাজী জহির উদ্দিন সিদ্দিক টিটু। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ নাসির উদ্দিন (আনারস প্রতীক) ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ মনিরুজ্জামান (দোয়াত-কলম প্রতীক)।

এদিকে আখাউড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাশেম ভূঁইয়া ও কসবায় আইনমন্ত্রীর সহকারি একান্ত সচিব ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাওসার ভূইয়া জীবন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

আখাউড়া উপজেলায় আওয়ামীলীগের ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ বোরহান উদ্দিনের মনোনয়ন পত্র ছিনতাই হয় বলে অভিযোগ উঠে।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘উপজেলা থেকে তৃণমূলের মতামত নিয়ে আমরা কেন্দ্রে তালিকা পাঠাই। কোথাও একক প্রার্থী কোথাও তিনজন করে প্রার্থীর নাম পাঠানো হয়। তালিকার সাথে আওয়ামী লীগের মতামতও তুলে ধরা হয়। সেখান থেকে কেন্দ্র সাত উপজেলায় সাতজনকে মনোনয়ন দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘নাসিরনগরে বর্তমান চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়ে অসুস্থ থাকা রাফি উদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়ায় ক্ষোভ আছে। সদর উপজেলাতেও মনোনয়ন বঞ্চিত ফিরোজুর রহমান নির্বাচন করছেন। তবে আওয়ামী লীগ থেকে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন দলের নেতা-কর্মীরা তাদের পক্ষেই কাজ করবে। এ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। যারা দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করবেন তাদেরকে সব সময় বাইরে রাখা হবে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১