শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩ উপজেলার ৩১টি ইউপিতে ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ

প্রতিনিধি | বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০১৬ | পড়া হয়েছে 799 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩ উপজেলার ৩১টি ইউপিতে ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ

নবীনগর, সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলার ৩১টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। এ উপলক্ষে এখন দিন-রাত প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনটি উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনটি উপজেলার ৩১টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য (মেম্বার) প্রার্থীরা এখন দিনরাত প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময়
পার করছেন। প্রচণ্ড খরতাপ উপেক্ষা করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরে ভোট চাইছেন, বিনিময়ে দিচ্ছেন এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি। তিন উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি, জাসদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও ভোটের লড়াইটা মূলত নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যেই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান জানান, তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে অরুয়াইলকে একটি আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সকলের সহযোগীতা নিয়ে কাজ করবেন। ২৩ তারিখের নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলেও আশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা করছেন প্রার্থী ও ভোটাররা। নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফিরোজ মিয়া আহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে বিএনপি প্রার্থী গোলাপ মিয়ার ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ গোলাপ মিয়াকেই গ্রেফতার করেছে। নবীনগর থানা পুলিশের দাবি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর উপর হামলার অভিযোগেই বিএনপির প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অপরদিকে নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক ও হরিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংসদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রার্থীদের অভিযোগ মন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দিয়ে মন্ত্রী নানাভাবে হয়রানি করছেন।
এ বিষয়ে গুনিয়াউক ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম সামদানী জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর নির্দেশে নাসিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদের তার কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। ইতোমধ্যে মন্ত্রীর নির্দেশে গোলাম সামদানীর দুই কর্মীকে পুলিশ মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করেছে বলেও অভিযোগ তার।
এছাড়াও হরিপুর ইউনিয়নে চিহ্নিত রাজাকার তাজুল ইসলাম ওরফে তাইজুদ্দিনের ছেলে ফারুক আহমেদকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগের পর নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
এসব ঘটনায় গত রোববার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে জেলা আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মন্ত্রীর নির্দেশে দলীয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে নাছিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদেরের প্রত্যাহারের দাবি জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার।
নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কার কথা স্বীকার করে জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, আমাদের কাছে অনেকেই ফোন করে বলছেন কয়েকটি ইউনিয়নে সহিংসতার আশঙ্কার কথা। তবে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রকেই সমানভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, যেসব কেন্দ্রগুলো বেশি ঝুঁকিপুর্ণ সেসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে থাকবেন।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তিনজন পুলিশ ও ১৪জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন এবং র্যাব-বিজিবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১