শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক দুর্ঘটনায় একবছরে নিহত ৩৯

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 581 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক দুর্ঘটনায় একবছরে নিহত ৩৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহাসড়কে ৩৯ মৃত্যু হয়েছে একবছরে। ২০১৯ সালে ঢাকা-সিলেট এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর আগের বছর মহাসড়ক দু’টিতে দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলো ৩৬ জন। তবে হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের দাবি- আগের চেয়ে দুই মহাসড়কে দুর্ঘটনা অনেক কমেছে। হাইওয়ে থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে সবচেয়ে বেশি ১০ জন নিহত হয় বিদায়ী বছরের প্রথমেই জানুয়ারি মাসে। আহত হয়-১৯ জন। এর মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বীরপাশা এলাকায় সিলেটমুখী বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস খাদে পড়ে ৫ জন নিহত হন। ফেব্রুয়ারি মাসে ৫ দুর্ঘটনায় মারা যায় ৪ জন।

মার্চ মাসে ২ জন। এপ্রিলে ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৪ জনের। মে মাসে একটি দুর্ঘটনায় মারা যায় ৩ জন। জুন মাসে ৪টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে ২ জনের। জুলাই মাসে ২ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ২ জন, আগস্ট মাসে ৮ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৫ জনের। সেপ্টেম্বরে একটি দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরে ৪ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৪ জন। নভেম্বরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ২ জন। ডিসেম্বরে কোন প্রাণহানি নেই। তবে হাইওয়ে পুলিশের এই হিসাবের বাইরে জেলার অন্যান্য সড়কেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতও হয়েছেন অনেকে। তবে হাইওয়ে থানা নিয়ন্ত্রিত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব থেকে মাধবপুর পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার এবং সরাইল বিশ্বরোড থেকে কালামুড়া ব্রিজ পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ৪৩ কিলোমিটার এলাকায় যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর তথ্যই তাদের কাছে রয়েছে। এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে রয়েছে বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। সরাইলের বৈশামোড়ার বাঁক যার অন্যতম।


২০১৮ সালেও দুর্ঘটনা ঘটেছে এখানে। এলাকার অনেকেই জানান, বাঁক ঘুরতে গিয়ে গাড়ি কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে। উল্টে গিয়ে ভাটিতে পড়ে। ৪-৫টা গাড়ি একত্রে বাঁক ঘুরতে গিয়ে একটা আরেকটাকে চাপ দিয়ে দুর্ঘটনার মুখে ঠেলে দেয়। এমন আরো ৪টি বিপদজ্জনক বাঁক রয়েছে শাহবাজপুর থেকে মাধবপুর পর্যন্ত। রামপুর, বীরপাশা, সাতবর্গ এলাকার এসব বাঁকেও অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে।

বিদায়ী ২০১৯ সালের শুরুতে বীরপাশার বাঁকে একটি বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়লে মৃত্যু হয় ৫ জনের। ১৫ই জানুয়ারির এ ঘটনার আগে ১৩ই জানুয়ারি একজন, ১৯শে জানুয়ারি ২ জন এবং ২৩শে জানুয়ারি আরো ২ জন মারা যায় ঢাকা-সিলেট এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায়। এর মধ্যে ৩টি দুর্ঘটনাই ঘটেছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। জানুয়ারির ১০ দিনে এই দুই মহাসড়কে ৪ দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১০ জন।

এর আগে ২০১৮ সালে মহাসড়ক দুটিতে মোট ৩৮টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মারা যায় ৩৬ জন। এসব দুর্ঘটনার জন্য মহাসড়কের ওই কয়েকটি বাঁক এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যানের অবাধ চলাচলকে দায়ী করেন যানবাহন চালক, বাস মালিক সমিতির নেতা এবং স্থানীয় লোকজন। জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: হানিফ বলেন, আমাদের ৭৭ কিলোমিটার মহাসড়কে যে পরিমাণ গাড়ি চলাচল করে সেই তুলনায় সড়ক অপ্রতুল। রোডের ক্যাপাসিটির বাইরে যানবাহন চলাচল করে। তাছাড়া অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণেও দুর্ঘটনার পরিমান বাড়ছে। পরিবহন মালিক সমিতির আরেক নেতা নিয়ামত খান বলেন, নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক চলাচলের কারণে বড় বাসগুলো ঠিকভাবে চলতে পারছে না। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের শাহবাজপুর থেকে মাধবপুর পর্যন্ত ৫টি পয়েন্টে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তবে বাঁকগুলোতে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড দিয়েছে বলে জানান তারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাঈনুল ইসলাম বলেন, আগের চেয়ে দুর্ঘটনা অনেক কমেছে। কোন কোন মাসে একটি দুর্ঘটনাও ঘটেনি। আমরা মহাসড়কে তৎপর থাকায় থ্রি-হুইলার, নসিমন, করিমন চলতে পারছে না। আর সে কারণেই দুর্ঘটনা হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শামীম আল মামুন জানিয়েছেন, বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক টু লেনের। এটি ফোর লেনে উন্নীত করার সময় বাঁক সরলীকরণে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১