শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান ডা. মাতিন রাশিয়া বিশ্বকাপে ডোপিং কন্ট্রোল টিমে

স্টাফ রিপোর্টার : | বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮ | পড়া হয়েছে 478 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান ডা. মাতিন রাশিয়া বিশ্বকাপে ডোপিং কন্ট্রোল টিমে

রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপ-২০১৮ এর ডোপিং কন্ট্রোল টিমে একমাত্র বাংলাদেশী ‘ডোপিং কন্ট্রোল চ্যাপেরন’ হিসেবে রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে চিকিৎসক দলে আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জাঙ্গাল গ্রামের কৃতি সন্তান ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (সেলিম)। ওই স্টেডিয়ামে ডোপিং টেস্টের দায়িত্ব পালন করবেন চারজন। তাদের মধ্যে একজন তিনি। ফিফার সবচেয়ে ক্ষমতাধর যে কয়েকটা উইং আছে তার মধ্যে একটা হলো, অ্যান্টি ডোপিং ডিপার্টমেন্ট। এমনকি বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীনও তাদের যে কোনো স্থানে প্রবেশাধিকার আছে।

কাউকে সন্দেহ হলে তার স্যাম্পল পাওয়া পর্যন্ত ওয়াশরুম পর্যন্ত যেতে হয় এ দলের সদস্যদের। মেসি, নেইমার, রোনালদো, সালাহদের মতো তারকারাও এই তালিকা থেকে বাদ যায় না। মোহাম্মদ আবদুল মতিন এই দলের সদস্য। সারা বিশ্ব থেকে এই টিমের সদস্য হতে আবেদন জমা পড়েছিল সাড়ে সাতাশ হাজার। এর মধ্য থেকে বার বার (১১ বার) সাক্ষাৎকার নিয়ে মাত্র ৪৪ জন সেরা ডাক্তারকে বেছে নেয় ফিফা। এ যেন সিন্দু সেঁচে মুক্তো পাওয়ার মতোই ব্যাপার! ফিফার মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি যে দেশকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। ফুটবলের জমজমাট এই আসরে ডোপিং কন্ট্রোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি টিমে একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারায় তিনিও নিজেকে গর্বিত মনে করছেন।


মোহাম্মদ আবদুল মতিন (৩২) বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন ডাক্তারি পড়তে। এরপর থেকে একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছে গেছেন অনেকটা উঁচুতে। দেশকে তুলে ধরেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জাঙ্গাল গ্রামের হাফেজ মোঃ আব্দুর রহিমের দ্বিতীয় ছেলে মোহাম্মদ আবদুল মতিন (সেলিম)। তিনি রাশিয়ার রুস্তভ স্টেইট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস শেষ করেন। পরে স্কলারশীপ পেয়ে কার্ডিওলজি বিভাগে পিএইচডি করছেন এই সেইন্ট পিটার্সবার্গ শহরেরই ঐতিহ্যবাহী নর্থ ওয়েস্টার্ন স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি’তে। এছাড়া এ শহরের পাত্রোভ্সকায়া এলাকার সিটি হসপিটালে কার্ডিওলজি ডিপার্টমেন্টে হার্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রায় দুই বছর। এর মাঝেই রাশিয়া বিশ্বকাপ-২০১৮ এর প্রস্তুতি শুরু হলে ফিফা ও অর্গানাইজেশন কমিটির বিভিন্ন অডিশনে অংশ নিয়ে যোগ্যতা ও কৃতিত্বের সাথে জায়গা করে নিয়েছে ফিফার অত্যন্ত শক্তিশালী ও সংবেদনশীল এই টিমে।

এ বিষয়ে ডাঃ মাতিন অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, রাশিয়া বিশ্বকাপের ডোপিং কন্ট্রোল টিনের একজন চ্যাপেরন হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। তিনি বলেন, মেডিকেলে পড়াশুনা করতে গিয়ে আমি রাশিয়ায় দীর্ঘ ১০ বছর কাটিয়েছি। এ সময়ের মাঝে পড়াশুনাসহ বিভিন্ন বিভাগে আমি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি এবং বিভিন্ন সাফল্য অর্জন করেছি। আমি সবার নিকট দোয়া চাই। তবে ফুটবল মহাযজ্ঞের জমজমাট এই আয়োজনে ডোপিং কন্ট্রোল টিমের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল টিমের একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০