শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর বাতিঘর মোকতাদির চৌধুরী এমপি

শামীম উন বাছির | মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1479 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর বাতিঘর মোকতাদির চৌধুরী এমপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভাবনীয় উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন ও দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সু-সংগঠিত করে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে বাতিঘরে পরিণত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব, বিশিষ্ট লেখক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি গড়ে প্রতিমাসেই নির্বাচনী এলাকায় ৮/১০দিন অবস্থান করে উন্নয়ন কর্মকান্ড ও দলীয় কর্মকান্ডে যোগদান করছেন।
সদর ও বিজয়নগর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও লেগেছে তার উন্নয়নের ছোঁয়া। যেখানে উন্নয়ন সেখানেই মোকতাদির চৌধুরী এম.পি। তিনি কথামালায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, টেন্ডারবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, ভুমিদস্যূ, দুর্নীতিবাজ, ইভটিজার তথা সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে তার বলিষ্ঠ অবস্থানের কারনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও ভূমিদস্যুরা কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছে। তার এসব গুনাবলীর কারনে তার প্রতি জনগনের সমর্থন দিন দিন বাড়ছে।
র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ২০১১ সালের ২৮ জানুয়ারি বিপুল ভোটের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন। এর পর থেকে তিনি একের পর এক উন্নয়ন কর্মকান্ড করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের চেহারা পাল্টে দেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিটি সেক্টরেই ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর আশা-আকাংখার প্রতিক।
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দ্বিধা-বিভক্ত জেলা আওয়ামীলীগ ও দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে সু-সংঠিত করে দলকে ঐক্যবদ্ধ করে। তার নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামীলীগ অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ ও সু-সংগঠিত।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি একের পর এক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে চলেছেন। বিজয়নগরবাসীর কাছে পদ্মা সেতুখ্যাত বিজয়নগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যে সরাসরি সংযোগ সড়ক “শেখ হাসিনা সড়ক” এর নির্মান কাজ এখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফ্লাইওভার নির্মান কাজ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির বহুতল ভবন, ৮তলা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ ডুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, বহুতল বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অর্নাস কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বহুতল বিশিষ্ট শেখ হাসিনা একাডেমিক ভবন, চিনাইরের বহুতল বিশিষ্ট ট্যাকনিকেল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ডিগ্রি কলেজের বহুতল বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের বহুতল বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, বিজয়নগর উপজেলা প্রাণী সম্পদ হাসপাতাল নির্মান তার সময়ে নির্মিত উল্লেখযোগ্য কাজের কয়েকটি। বর্তমানে বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিজয়নগর থানা ভবনের নির্মান কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে একটি মানসম্মত শিশু পার্ক নির্মান কাজ প্রক্রিয়াধীন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার নির্মান কাজ চলছে। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পৌর এলাকার কুরুলিয়া খাল ও রামরাইলে নির্মিত হয়েছে দুটি বিশাল ব্রীজ। চান্দুরা-আখ্উাড়া সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। সদর-আখাউড়ার সংযোগ সড়ক ( হেলিডে সড়ক) এর সংস্কার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এগিয়ে চলছে বিজয়নগরের রামপুর-মনিপুর রাস্তার কাজ।
বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুনিয়াউট থেকে সদর উপজেলার রামরাইল পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের প্রশস্তকরনের কাজ চলছে। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের সৌন্দর্যবধণ ও সম্প্রসারন কাজ বাস্তবায়ন করেন। সদর ও বিজয়নগরে নির্মান করেন শতাধিক ব্রীজ ও কালভার্ট। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন ভবন। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদ্যুৎ সেক্টরে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগরের বিদ্যুত বিহীন গ্রামগুলো বিদ্যুতায়িত হয়েছে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর মোকতাদির চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আশুগঞ্জ উপজেলা, সরাইল উপজেলা ও নব-গঠিত বিজয়নগর উপজেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি আশুগঞ্জ উপজেলা গঠনে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। নতুন স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসা এম.পিও ভুক্তিকরণ, পুরনো ও নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ, নতুন নতুন সড়ক, ব্রীজ কালভার্ট নির্মাণে তার অবদান অনস্বীকার্য। যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সুলতানপুর-চিনাইর-আখাউড়া সড়ক, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, জেলা কারাগার প্রভৃতি নির্মাণে তার ভূমিকা ছিল মূখ্য। তিনি নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের নরসিংসার এবং সাদেকপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের মধ্যে বদগনি খালের ওপর পাকা ব্রীজ নির্মাণ করেন। এই ব্রীজটি নির্মাণের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল এবং নবীনগর উপজেলার উত্তর পূর্বাঞ্চলের বড়াইল, বীরগাঁও ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়।
র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ১৯৫৫ সালের ১ মার্চ সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম মোঃ আবদুর রউফ চৌধুরী, মাতার নাম মোছাম্মৎ হালিমা খাতুন চৌধুরী। তিনি ১৯৬৯ সালে মাদ্রাসা-ই আলীয়া, ঢাকা থেকে ফাজিল, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ঢাকা কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সময়েই বঙ্গবন্ধু পুত্র শহীদ শেখ কামালের সাথে তার পরিচয় ঘটে। ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সনে তিনি তদানিন্তন পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে মোকতাদির চৌধুরী বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের (মুজিব বাহিনী) গেরিলা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। প্রথমে তিনি ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার জোন বি-এর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি একজন অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনগণকে সংগঠিত করেন এবং কয়েকটি দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেন। তাঁর যুদ্ধাঞ্চলে তিনি আজও একজন কিংবদন্তি যোদ্ধা হিসেবে জনগণের মাঝে পরিচিত হয়ে আছেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে তিনি যুদ্ধে আহত হয়ে চিকিৎসার জন্যে ভারতে চলে যান। স্বাধীনতা উত্তর সময়ে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ সময়ে তিনি ছাত্রলীগের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র রচনার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ‘ছাত্র সমাজের শিক্ষা কমিশন’ -এর সদস্য মনোনীত হন। এ কমিশন তাদের রিপোর্ট ড.কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের কাছে প্রস্তাব আকারে পেশ করেছিল। ১৯৭৫ সালে তিনি বাকশালের অঙ্গ সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে স্বৈরশাসক ইয়াহিয়ার সামরিক বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি মহামান্য হাইকোটের নির্দেশে মুক্তি লাভ করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়। ২০০৫ সালে তিনি সিভিল সার্ভিসের চাকুরী থেকে পদত্যাগ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণে নিরলস ভাবে কাজ শুরু করেন। ছাত্র জীবনে ও সরকারি চাকুরী কালে তিনি প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সরকারি কাজে শ্রীলংকা, জাপান, জর্দান, ইন্দোনেশিয়া, বেলজিয়াম, পাকিস্তান, বুলগেরিয়া, সিরিয়া, মরক্কো, ভারত, জার্মানি, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, ইরাক, ফিলিপাইন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অষ্ট্রিয়া, কম্পুচিয়া, নেদারল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ১৯৯৬ সালে দিল্লীতে গঙ্গার পানি চুক্তি সম্পাদনের সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন।
তিনি একজন লেখক, প্রবন্ধকার ও সুবক্তা। তার প্রকাশিত গ্রন্থঃ- (১) বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এবং বিবিধ প্রসঙ্গ (২) ইসলাম, সন্ত্রাসবাদ, রাজনীতি, (৩) সময়ের কথকতা (৪) দুরারোগ্য সময় এবং গণতন্ত্রের অভিযাত্রা (৫) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঃ জীবন ও কর্ম (৬) ইসলামের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল (৭) স্বাধীনতা গণতন্ত্র ও সময়ের কতকথা, ৮) অন্যআলোয় জাতির জনক উল্লেখযোগ্য। তিনি পাক্ষিক সাময়িকী ‘মত ও পথ’ এর প্রকাশক ও সম্পাদক।
র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ২০১১ সালের ২৮ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন। পরে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।
বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে ২ লাখ ৬৮হাজার ২৯ ভোট পেয়ে (বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ভোট) দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়নে কাজ করছেন।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১