শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ডেস্ক ২৪ | সোমবার, ১১ জানুয়ারি ২০১৬ | পড়া হয়েছে 616 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

অদ্বৈত মল্লবর্মণের ‘‘তিতাস একটি নদীর নাম’’ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় যেমন, তেমনই তিতাস ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে দেশ বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। জেলার নাসিরনগর থানার চাতলপুর নামক স্থানে নিকটস্থ মেঘনানদী থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্বমুখে প্রবাহিত হয়ে চান্দোরা গ্রামের উত্তরে-পশ্চিমে-দক্ষিণ মুখে অগ্রসরহয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিকট পূর্ব দক্ষিণ মুখে প্রবাহিত হয়ে আখাউড়া রেলজংশনের দক্ষিণে পশ্চিম-উত্তর মুখে গিয়ে নবীনগরের পশ্চিমে লালপুরের নিকটমেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে। নদীটি ইংরেজী বর্ণ এম আকার প্রবাহিত হচ্ছে। চাতলপুর থেকে লালপুরের দূরত্ব ১৬ মাইল হলেও সমগ্র নদীটি প্রায় ১২৫ মাইলদীর্ঘ। আর এই নদীটিই তিতাস নদী নামে পরিচিত। এছাড়া আরো কয়েকটি নদী তিতাসনদী নামে এই এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে। সেগুলি হলো :

(১) নবীনগর থানার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিতকালিগঞ্জ বাজারের উত্তরে মেঘনা নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে একটি ছোট নদী দক্ষিণ মুখে গিয়ে পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে জীবনগঞ্জ বাজারকে বাম পাশে রেখে দরিকান্দি গ্রামের উত্তর পার্শ্ব দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালাইনগরের নিকট দক্ষিণমুখী গতি ধারন করে বাঞ্ছারামপুর থানাকে ডান পাশে রেখে ঘাঘুটিয়ার নিকট তিতাসের আর একটি গতিধারা সঙ্গে মিশ পশ্চিম মুখে গিয়ে উজানচরকে ডানপাশে ও হোমনা থানাকে বামপাশে রেখে শ্রীমদ্দির নিকট মেঘনা নদীতে পড়েছে। এটি তিতাস নদী নামেই পরিচিত। হোমনা থানায় এটি আবার চিতিগঙ্গা নামে পরিচিত।


(২) আবার বাঞ্ছারামপুর থানার দরিকান্দিগ্রামের উত্তর পূর্ব দিক থেকে প্রায় অনুরূপ আকারের একটি নদী দক্ষিণ মুখেপ্রবাহিত হয়ে রামকৃষ্ণপুরে নিকট আরো একটি তিতাস নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েপশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে ঘাঘুটিয়ার নিকট পূর্বোক্ত তিতাসের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এটিও তিতাস নদী নামে পরিচিত।

(৩) কোম্পানীগঞ্জ- নবীনগর সড়কের প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে এবং সড়কের পূর্ব দিকে অবস্থিত পান্ডুগড় গ্রামের নিকট উৎপন্ন হয়ে পূর্বোক্ত সড়ক ভেদ করে পশ্চিম মুখে গিয়ে ধাপতিখোলা ও দীঘির পাড় গ্রামের পাশ দিয়ে গিয়ে পশ্চিম মুখে প্রবাহিত হয়েকামাল্লা গ্রামকে উত্তর পাশে রেখে রামচন্দ্রপুর বাজারের দক্ষিণ দিকে দিয়েউত্তর পশ্চিম মুখী হয়ে বাজারের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চিতিগঙ্গানামক তিতাসের সহিত মিশেছে।

তিতাস একটি প্রাচীন নদী। তিতাস নদীর নামে ‘তিতাস গ্যাস’নামকরণ করা হয়। মানুষের জীবন যাত্রা ও ভূমি গঠনে এ নদীর বিশেষ প্রভাব রয়েছে।তিতাস নদীর ধারা যদিও পরিবর্তিত হয়েছে একাধিক বার। তথাপি এর বিভিন্ন উপ-শাখা নদী চোখে পড়ে। জেলার নদী-তীরবর্তী এলাকাগুলোর মাঝে মাঝেই জেলে সম্প্রদায়ের বাস। তাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন মৎস্য শিকার করা। তাছাড়া কৃষকেরা ও নিজেদের খাদ্যের জন্য বিভিন্ন মৌসুমে খালে-বিলে মাছ ধরে থাকেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রচুর হাওড়, খাল-বিল, জলাশয় থাকায় এখানে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়। জেলায় অনেক ছোট-বড় অনেক পুকুর রয়েছে যেখানে দেশী-বিদেশী প্রচুর মাছ চাষ করা হয়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০