শিরোনাম

বোনের বাসা থেকে রাগ করে বেরিয়ে যাবার দশ বছর পর মায়ের কোলে ফিরলেন লিজিমা

স্টাফ রিপোর্টার : | বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 277 বার

বোনের বাসা থেকে রাগ করে বেরিয়ে যাবার দশ বছর পর মায়ের কোলে ফিরলেন লিজিমা

‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। শিশুর কাছে মায়ের কোল শুধু সুন্দরই না নিরাপদও বটে। সাতক্ষীরা কালীগঞ্জের মৌতলা গ্রামের শিশু শিরিন আক্তার (লিজিমা) এমন সুন্দর নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত প্রায় দশ বছর। সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রওশনারা খাতুন এর সহায়তায় শিশুটি পায় সেই নিরাপদ আশ্রয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বোনের বাড়ি থেকে হারিয়ে যায় লিজিমা। পড়ালেখা নিয়ে বোন ও বোন জামাই কটু কথা বলায় সে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোন খোঁজ ছিলো না। দশ বছর পর শিশুটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারি শিশু পরিবারে এসে তার পরিবারের লোকজনকে দেখতে পায়। আনন্দের জোয়ার রূপ নেয় কান্নায়। এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন শিশুরটির মা।

লিজিমা জানায়, ২০০৯ সালে বোনের বাসা নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় চলে আসে লিজিমা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক নারী তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেয়। কিন্তু সেই নারী স্বামীর আপত্তির মুখে তাকে রাখতে পারেন নি। লিজিমাকে তুলে দেয়া হয় থানা পুলিশের কাছে। সেখান থেকে সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্রে তার ঠাঁই হয়। সেখানে তার কথা হয় সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রওশনারা খাতুনের সঙ্গে। তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে প্রক্রিয়া শেষে তাকে নিয়ে আসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারে।


রওশনারা খাতুন বলেন, একদিন টিভিতে সিনেমা দেখে সুন্দরবন নামটা তার মনে পড়ছে বললো। একদিন সে সাতক্ষীরা নামটাও বললো। সাথে সাথে সেখানকার সমাজ সেবা কার্যালয়ের কর্মচারি রায়হান রানাকে বিষয়টি জানানো হয়। রায়হান রানা লিজিমার পরিবারের সন্ধান দেন। এরপর লিজিমার মা’সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলানো হয়। লিজিমার মা ফজিলা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মন বলছিল মেয়েকে পাবো। আল্লাহ মেয়েকে মিলাইছে। আমি খুব খুশি। মনে হচ্ছিল সব সম্পদ নিয়ে যদি কেউ মেয়েকে দিয়ে দিতো। কাঁদতে কাঁদতে লিজিমা বলেন, রওশনারা ম্যাডামসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ভাবতেও পারিনি পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবো। আমি অনেক খুশি।

লিজিমার ভাই নূর আলম বলেন, প্রায় তিন বছর পর্যন্ত বোনকে খুঁজি। মাইকিং, পোস্টারিং কত কিছু করা হয়। এক সময় আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত বোনকে খোঁজে পেয়ে খুবই খুশি।

লিজিমার বোন জামাই শহিদুল ইসলাম (শিশির) বলেন, পড়া নিয়ে লিজিমাকে কটু কথা বলি। রাতে বাড়ি এসে দেখি সে নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও তাকে পাইনি। পরিবারে সবার কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে হতো যে আমার জন্য নিখোঁজ। আজ নিজেরে অপরাধ মুক্ত মনে হচ্ছে।

সমাজ সেবা অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক মো. মাসুদুল হাসান তাপস বলেন, ওই শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিতে পারছি বলে যে কি পরিমাণ ভালো লাগছে তা ভাষায় বুঝানো যাবে না। ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার লিজিমাকে তার পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়া হয়।

লিজিমা চায় সরকারি শিশু পরিবারেই থেকে অন্তত এস. এস. সি পর্যন্ত পড়তে। পরিবারের লোকজনও এতে রাজি আছে। আপাতত সে ছুটি নিয়ে কিছুদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১