শিরোনাম

লকডাউনের মধ্যে

বেতন পরিশোধ করতে সূর্যমুখী কিন্ডার গার্টেনের নোটিশ ॥ ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

স্টাফ রিপোর্টার | শনিবার, ০৯ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 373 বার

বেতন পরিশোধ করতে সূর্যমুখী কিন্ডার গার্টেনের নোটিশ ॥ ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও বিতর্কিত এক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “সূর্যমুখী কিন্ডার গার্টেন”। স্কুল বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের বেতন আদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ দেয়া হয়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবরোধে গত ১১ এপ্রিল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। নোটিশে এই লকডাউনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের স্কুলে গিয়ে বেতন পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।


স্কুলের অধ্যক্ষ সালমা বারী সাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, আগামী ১০ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত (শুক্রবার ব্যতিত) প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছাত্র/ছাত্রীদের বেতন গ্রহণ করা হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একাধিক কাউন্টারে শুধু অভিভাবকরা এসে বকেয়াসহ মে মাসের বেতন পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংকটকালে স্কুলের এমন নোটিশকে কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। যেখানে মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছেন না, আয়-রোজগার সবকিছু বন্ধ সেখানে বেতন পরিশোধের নোটিশ দেয়ার বিষয়টিকে মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখছেন অভিভাবকরা। নোটিশের বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকেও সমালোচনার ঝড় উঠে।

আশিকুর রহমান মিঠু নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, পরিবারের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বেতন পরিশোধ করা আমার পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব না।

শফিকুল ইসলাম নামে আরেক অভিভাবক জানান, তিনি একটি বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। করোনাভাইরাসের কারণে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। তাই ছেলের স্কুলের বেতন পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন। এ অবস্থায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

হোসনে আরা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিকদের জানান, পরিবারের চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বেতন পরিশোধ করা আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

এ ব্যাপারে সূর্যমুখী কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ সালমা বারী বলেন, অনেক অভিভাবক বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। আমি বলেছি বিচ্ছিন্নভাবে নেব না, যদি কেউ আসেন তাহলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নেব। কিন্তু বেতন দিতেই হবে বিষয়টি এমন না, বেতন না দিলে কোনে শিক্ষার্থীর নাম কাটা হবে না। তিনি আরো বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে আমরা অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছি। নোটিশটি আমরা অনলাইনেই দিয়েছি, বাইরে কোথাও দেইনি।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, সূর্যমুখী কিন্ডার গার্টেনের বেতনের নোটিশের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে বিদ্যালয়ে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্যে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। কেবল মাত্র অনলাইনে ক্লাশ নিতে পারবে। তারা আমাদেরকে বলেছে, নোটিশটি সরিয়ে নেবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি বিদ্যালয় খোলা কিংবা বেতন আদায়ের চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০