শিরোনাম

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও

বিজয়নগরে লিচুর বাম্পার ফলন ॥ প্রতিদিন কোটি টাকা বেচা-কেনা

মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা,ব্রাহ্মণবাড়িয়া | বুধবার, ০৩ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 154 বার

বিজয়নগরে লিচুর বাম্পার ফলন ॥ প্রতিদিন কোটি টাকা বেচা-কেনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিদিন উপজেলার আউলিয়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে প্রায় কোটি টাকার লিচু বেচা-কেনা হচ্ছে।

দেশের অন্যান্য জেলায় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে লিচু বাজারে আসলেও বিজয়নগর উপজেলার লিচু বাজারে আসে মে মাসের প্রথম দিকে। বিজয়নগর উপজেলার লিচু মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় দেশজুড়ে রয়েছে এই লিচুর সুনাম ও খ্যাতি। এ বছর করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বিজয়নগরে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন চাষীরা।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০২ সাল থেকে বিজয়নগরে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ শুরু হয়। কম পরিশ্রমে বেশী লাভ হওয়ায় এখানকার ধানি জমিগুলোকেও লিচু বাগানে পরিনত করতে থাকেন চাষীরা।

বর্তমানে উপজেলার পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, কাঞ্চনপুর, খাটিঙ্গা, কাশিমপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, আদমপুর, কালাছড়া, মেরাশানী, সেজামুড়া, কামালমোড়া, নুরপুর, হরষপুর, মুকুন্দপুর, নোয়াগাঁও, অলিপুর, চান্দপুর, কাশিনগর, ছতুরপুর, রূপা, শান্তামোড়া, কামালপুর, কচুয়ামোড়া, ভিটিদাউপুর এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক লিচুর বাগান রয়েছে। এসব বাগানে দেশী লিচু, এলাচি লিচু, চায়না লিচু, পাটনাই লিচু ও বোম্বাই লিচু চাষ করা হয়। এসব বাগানে মহিলাসহ সব বয়সী লোকজন কাজ করে।

এছাড়াও উপজেলার প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতেই একটি লিচু গাছ আছে। যাদের বাড়িতেই একটু জায়গা আছে, তারা প্রত্যেকেই বাড়িতে অন্যান্য ফলের গাছের সাথে লিচু গাছ লাগান।

এলাকাবাসী ও চাষীরা জানান, লিচু গাছে মুকুল আসার পর থেকে কয়েক দফা বাগান বিক্রি হয়। গাছে মুকুল ও গুটি আসার পর প্রথমে বাগান কিনেন স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলার মহাজনরা। গুটি একটু বড় হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় গাছ বিক্রি হয়। লিচু আকার ধারণ করলে তৃতীয় দফায় বিক্রি হয়। লিচু বড় হলে চতুর্থ দফায় বাগান বিক্রি হয়।

বিজয়নগর উপজেলার সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার হচ্ছে আউলিয়া বাজার। এছাড়াও উপজেলার মেরাশানী, মুকুন্দপুর, কাংকইরা বাজার, চম্পকনগর, সিঙ্গারবিল বাজার, আমতলী বাজারসহ আরো কয়েকটি বাজারে পাইকারীভাবে লিচু বেচা-কেনা হয়।
এসব বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, নোয়াখালী, চাদপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ, ফেনী ও রাজধানী ঢাকার ব্যবসায়ীরা লিচু কিনে বিভিন্ন যানবাহনে করে নিয়ে যায়। এ সব বাজারে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার লিচু বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের আউলিয়া বাজার। এলাকাবাসী ও চাষীরা জানান, অন্যান্য বছর শুধু আউলিয়া বাজারেই প্রতিদিন প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকার লিচু বেচা-কেনা হতো। কিন্তু করোনার কারনে এইবার একটু কম বিক্রি হয়। তবে বেচাকেনা ভাল।

প্রতিদিন গভীর রাতে চাষীরা ও বাগানের মহাজনেরা লিচু নিয়ে বাজারে যান। ভোর রাত চারটা থেকে শুরু হয়ে সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যেই বেচা-কেনা শেষ হয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, উপজেলার আউলিয়া বাজারসহ অন্যান্য বাজারগুলোতে বর্তমানে প্রতি হাজার দেশী লিচু দেড় হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা, প্রতি হাজার এলাচি ও চায়না লিচু ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা, পাটনাই ও বোম্বাই লিচু ২ হাজার ২০০ থেকে ২৫০০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হবিগঞ্জ জেলার ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন জানান, গত তিনদিন ধরে তিনি আউলিয়া বাজারে আসছেন। প্রতিদিন তিনি গড়ে প্রায় লাখ টাকার উপরে লিচু কিনেন। করোনার কারনে গাড়ী নিয়ে আসতে সমস্যা হয়। গাড়ী নিয়ে আসতে হলে রাস্তায় পুলিশকে বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিয়ে আসতে হয়। তিনি বলেন, লাভ একটু কম হলেও এখানকার লিচু অনেক ভালো ও মিষ্টি হওয়ায় চাহিদা থাকে বেশি।

আউলিয়া বাজারের ইজারাদার জসিম উদ্দিন মনা জানান, প্রশাসন থেকে বাজারটি ইজারা নিয়েছি। তাই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিছু টাকা আদায় করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারনে টাকা কম নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে বিজয়নগর উপজেলা কৃষি অফিসার খিজির হোসেন বলেন, এবছর উপজেলায় ৩৭০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে যা গতবছরের তুলনায় ২০ হেক্টর বেশি। তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগীতাসহ সার ও কীটনাশক দিচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহের নিগার বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনাবলি দেয়া আছে যেন কোন ব্যবসায়ীদেরকে হয়রানি না করা হয়। তিনি বলেন, পুলিশ যদি কোন ব্যবসায়ীকে হয়রানি বা টাকা নিয়ে থাকে বা বাজারের ইজারদার যদি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশী টাকা নেয়, কেউ অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১