শিরোনাম

শেখ হাসিনা সড়কের নির্মান কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে

বিজয়নগরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : | বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 203 বার

বিজয়নগরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজনগরের সাথে জেলা সদরের সরাসরি সংযোগ সড়ক ‘শেখ হাসিনা সড়ক’ এর নির্মাণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৪.১২.২০১৭) সকালে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার লম্বা শেখ হাসিনা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। মানববন্ধন চলাকালে বিভিন্ন পয়েন্টে বক্তব্য রাখেন বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডঃ তানবীর ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ বাবুল আক্তার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফয়জুন্নাহার টুনি, পত্তন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান রতন, চম্পকনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হামিদুল হক, ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বকুল, বুধন্তী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিতু মিয়া প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, এ সড়কটি বিজয়নগরবাসীর প্রাণের দাবি। সড়কটি নির্মিত হলে সহজেই ও খুব কম খরচে জেলা সদরে আসা যাবে। সড়ক নির্মাণে কেউ বাঁধার সৃষ্টি করলে তাকে প্রতিরোধ করা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা।

বক্তারা আরো বলেন, যদি কোন কারণে সড়কের কাজ বন্ধ করা হয় তাহলে উপজেলাবাসীকে নিয়ে আমরণ অনশন করা হবে।


মানববন্ধনে উপস্থিত পত্তন ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের হাফেজ মজিবুর রহমান জানান, শেখ হাসিনা সড়কটি আমাদের শত বছরের প্রানের দাবি। বর্তমান সরকারের আমলে স্থানীয় সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর নিরলস প্রচেষ্টায় সড়কটি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সড়কের পাশে আমারও দুই কানি জমি (৬০ শতক) জায়গা আছে। সেখান থেকে সড়কের জন্য মাটি কাট হচ্ছে, তবে এতে তার কোন আপত্তি নাই। তিনি বলেন, আমার ৬০ শতক জায়গার সকল মাটি নিয়ে গেলেও আমি সড়কের নির্মান কাজ বাস্তবায়ন চাই।

মানববন্ধনে আসা পত্তন ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের ৮০ বছর বয়সী ময়দর আলী বলেন, সড়কের প্রয়োজনে আমার জমির যদি অনেক গভীর করেও মাটি আনা হয় তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। আমি চাই রাস্তাটির নির্মান কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হউক। তিনি রাস্তাটির নির্মান কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের টানমনিপাড়া (পত্তন শিবির) এলাকায় সড়কের মাটি ভরাট কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। সড়কের মাটি কাটার কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “ডলি কনস্ট্রাকশন” নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করছে।

উদ্বোধনের পর থেকেই শুরু হয় সড়কে মাটি ফেলার কাজ। প্রায় ১০ কিলোমিটার লম্বা এবং ২৪ফুট প্রস্ত এই সড়কের বর্তমানে প্রায় ৮ কিলোমিটারে মাটি ফেলার কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের দত্তখোলার রাজাপুর এলাকায় মাটি ফেলার কাজ চলছে। ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা জানান, আর মাস তিনেকের মধ্যেই সড়কের মাটি কাটার কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তারা।

সড়কের নির্মান কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই এলাকার জমির দাম বহুগুন বেড়ে গেছে। এক সময় সেখানে এককানি জমি (৩০ শতাংশ) বিক্রি হতো ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে সেসব জমি বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায়। বিজয়নগরের চরাঞ্চলে বেড়ে গেছে জমির দাম। সেখানে উপ-শহর গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন উপজেলাবাসী।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক বলেন, শেখ হাসিনা সড়কটি বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রকল্প। তিনি বলেন, আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে সড়কে মাটি ফেলার কাজ শেষ হবে। তারপর শুরু হবে সড়কের পাশে গাইড ওয়াল ও ব্লক বসানোর কাজ। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই ১১৬ কোটি টাকা ব্যায়ে সড়কে তিনটি ব্রীজের প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ব্রীজ নির্মান কাজের টেন্ডার হবে। তিনি সড়কের গুনগত মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০