শিরোনাম

স্বামী ও পরিবারের নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধি গৃহবধূ নিপা আক্তার ন্যায় বিচারের জন্য দ্বারা দ্বারে ঘুরছে

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে

স্টাফ রিপোর্টার : | সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮ | পড়া হয়েছে 187 বার

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে

ব্যবসা সহ বিভিন্ন উছিলায় ৪ লক্ষ টাকা নগদ যৌতুক এবং স্বর্ণালংকার নেয়ার পরও শারিরীক প্রতিবন্ধি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর পুনরায় ৫ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে সপরিবারে শারিরীক নির্যাতন করে এক বস্ত্রে বাড়ি থেকে বের করে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় স্বামী সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের ছাতিয়াইন কলির বাড়ি নিবাসী মোস্তফা মিয়া, পিতা আহাম্মদ আলী সহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানায় সুবিচার চেয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ এর ১১ (গ)/৩০ ধারায় মামলা নং-৩৯, ১৮/১১/১৭ রুজু করার পাশাপাশি সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং পুলিশ সুপার কর্তৃক আসামী গ্রেফতার সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরও মডেল থানা কর্তৃপক্ষ ও মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার কারণে বাদিনী প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিবরণে প্রকাশ, পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে বুধল ইউনিয়নের ছাতিয়াইন (কলির বাড়ি) এর মোস্তফা মিয়ার সাথে গত ২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর হলফনামা মূলে ৩ লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্যে ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩ লক্ষ টাকা যৌতুকের বিনিময়ে বিয়ে হয় শেরপুর গ্রামের মোঃ লিটন খান এর শারিরীক প্রতিবন্ধি মেয়ে নিপা আক্তার এর। দাম্পত্য জীবন চলাকালে উভয়ের সংসারে ২০১৪ সালের ১০ জুলাই জন্ম নেয় ছেলে সন্তান তানবীর আহম্মদ। বিয়ের কয়েক মাস পর মোস্তফা মিয়া অসহায় প্রতিবন্ধি গৃহবধূ নিপা আক্তার এর পিতার নিকট হতে নেয়া যৌতুকের ৫ ভরি স্বর্ণালংকার বিক্রি করে পরনারীর প্রতি আসক্ত হয়ে এবং মাদক সেবন করে নষ্ট করে ফেলে। মোস্তফা মিয়া সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে স্ত্রী নিপা ও জনপ্রতিনিধির অনুমতি ছাড়াই গত ২০১৭ সালের ২ মার্চ ইউনিয়নের সুতিয়ারা এলাকার মুন্সী বাড়ির আরু মিয়ার মেয়ে রিমা আক্তারকে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এজাহারের অভিযোগে আরও প্রকাশ, একই সালের সেপ্টেম্বর মাস হতে মোস্তফা মিয়া, পিতা আহাম্মদ আলী, মা আমেনা বেগম, ভাই মোশারফ হোসেন ও দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা আক্তারের কু প্ররোচনায় বিদেশ যাবে বলে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক পিত্রালয় হতে নিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে প্রতিবন্ধি নিপা আক্তারকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। গত ২৫ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে অসহায় প্রতিবন্ধি গৃহবধূ নিপা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর তলীর শেরপুরে পিতা মোঃ লিটন খান ও মাতা লাইলী আক্তারকে মোবাইল ফোনে নির্যাতনের বিষয় জানায়, নিপার পিতা মাতা মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে উপস্থিত হওয়া মাত্রই জামাতা এবং তার পিতা মাতা সহ পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিক ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। প্রতিবন্ধি নিপার পিতা মাতা তাদেরকে এই দাবি পরিহার করে মেয়েকে জামাতার জজিয়তে রাখার অনুরোধ করলে জামাতা মোস্তফা মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে টাকার জন্য স্ত্রী নিপাকে খুন করার উদ্দেশ্যে গলা টিপে ধরে মুখে জখম করে। মোস্তফার দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা আক্তার, ভাসুর মোশারফ হোসেন, শ্বশুর আহম্মদ আলী ও শাশুরী আমেনা বেগম সবাই মিলে নিপাকে সারা শরীরে আঘাত করে জখম করে এবং যৌতুকের ৫ লক্ষ টাকা না দিলে মোস্তফা নিপাকে নিয়ে সংসার করবে না বলে হুমকি দিয়ে এক বস্ত্রে ছেলে সন্তান সহ পিতা মাতার সাথে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ মামলায় পুলিশ ৬ নং আসামী মাফুজাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে রাখার আবেদন জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ মিলন মিয়া গত ১৮ নভেম্বর বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চালান দেয়। ১৫ নভেম্বর মোস্তফা মিয়া স্ত্রী ও ছেলে সন্তানের খোরপোষ দিবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। পরে নির্যাতিতা প্রতিবন্ধি নিপা আক্তার সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং পুলিশ সুপারের নিকট প্রতিকার প্রার্থনা করলে তারা কঠোর ভাবে বিষয়টি দেখা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সদর মডেল থানা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলেও পাওয়া যাচ্ছে না অজুহাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্ত ১নং আসামী মোস্তফা মিয়াকে গ্রেফতারে ব্যর্থতা প্রদর্শন করছে। এই ফাঁকে মূল অভিযুক্ত আসামীসহ অপর আসামীগণ হাই কোর্ট ডিভিশনের বিচারক ওবায়দুল হাসান ও কৃষ্ণা দেবনাথকে ভুল বুঝিয়ে গত ৫/১২/২০১৭ হতে ৩০/১/২০১৮ তারিখ পর্যন্ত ৮ সপ্তাহের আগাম জামি মঞ্জুর করিয়ে নেয়। যার মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে যাবার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিলন মিয়া তাদের গ্রেফতার করা হতে বিরত রয়েছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, বুধল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হক বিষয়টির মিমাংসা করবে বলে দায়িত্ব নিয়ে মোস্তফা মিয়া স্ত্রী নিপা আক্তার এবং ছেলে তানবীর আহম্মদকে মাসে নগদ ৫ হাজার টাকা খোরপোষ, ২ শতক জমি দিবে ও খোঁজ খবর রাখবে মর্মে ষ্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি সম্পাদন করে ষ্ট্যাম্প নিজের জিম্মায় রাখেন। পরে সদর থানার ওসি ষ্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি চাইলে তাকে দেন চেয়ারম্যান। কিন্তু পরে অসহায় বাদিনী সদর থানার ওসি’র নিকট লিখিত ষ্ট্যাম্প চুক্তিনামা ফেরত চাইলে কোথায় যেন রেখেছেন, খুঁজে পাচ্ছেন না মর্মে বাদিনীকে জানিয়ে দেন বলে বাদিনী নিপা আক্তার আমাদের প্রতিবেদককে জানান।
উল্লেখিত বিষয়ে ফোনে মোস্তফা মিয়ার সাথে আলাপকালে সে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে বলে স্বীকার করে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১