শিরোনাম

বিচারকদের চাকরি বিধির গেজেট এই সপ্তাহে: আইনমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি : | শনিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 127 বার

বিচারকদের চাকরি বিধির গেজেট এই সপ্তাহে: আইনমন্ত্রী

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশিত হবে এই সপ্তাহেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাড. আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল, রাষ্ট্রপতির দিক-নির্দেশনা ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতিদের সহায়তায় তা দূর করা সম্ভব হয়েছে। আশা করি, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে এই সপ্তাহেই।’ আজ শনিবার (০২.১২.২০১৭) বিচার বিভাগীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিনয়ের সাথে বলতে চাই, রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স (পদমর্যাদাক্রম) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অবস্থান এক নম্বর। সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে কারও সাথে পরামর্শ ছাড়াই তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। সরকারের সব নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হয়। সংবিধানের ৫৫ (৬) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তিনি সরকারের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য বিধিগুলো প্রণয়ন করেন। সেই ক্ষমতাবলে তিনি রুলস অব বিজনেস-১৯৯৬ প্রণয়ন করেছেন।’


আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগবিধি প্রণয়ন করেন এবং তাদের নিয়োগ দেন। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে তাকে শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যিনি বিজ্ঞ বিচারকদের নিয়োগ বিধি প্রণয়ন করেন, বিচারকদের নিয়োগ দেন, তিনিই তাদের শৃঙ্খলা বিধি প্রণয়ন করবেন। এটাই স্বাভাবিক এবং আইন ও বিচার বিভাগ রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা, সিদ্ধান্ত ক্রমে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধির খসড়া প্রণয়ন করে। পরে তা সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।’

নিয়োগ বিধি নিয়ে পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি যে ঝড়-তুফান তুলেছিলেন, তা আপনাদের সবারই জানা আছে। মনে হচ্ছিল, আমার মন্ত্রণালয়ের সচিবের মতো আামাকেও কখন যেন আদালত তলব করে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তাকে কোনোভাবেই বোঝানো যাচ্ছিল না, এটা রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা। এ ক্ষমতা আইন মন্ত্রণালয় প্রধান বিচারপতিকে দিতে পারে না। যাই হোক, আল্লাহর বিশেষ রহমতে সেই অবস্থার অবসান হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। এতে রাষ্ট্রপতি ও আইনমন্ত্রী ছাড়াও অন্যদের মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক।

প্রসঙ্গত, বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের দীর্ঘ টানাপড়েনের পর আইনমন্ত্রী অ্যাড. আনিসুল হক এম.পি বিধিমালার একটি খসড়া সুপ্রিম কোর্টে জমা দিলেও সম্প্রতি পদত্যাগ করা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা তা গ্রহণ না করে কিছু বিষয় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে মতপার্থক্য নিরসনে আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় ডাকেন পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি কিন্তু আইনমন্ত্রী তার ডাকে সাড়া না দিলে বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরই মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর দেশ ছাড়ার পর ১০ নভেম্বর ছুটি শেষে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বিচারপতি সিনহা।

এরপর বিচারকদের চাকরি বিধির বিষয়টি গত ৮ অক্টোবর আপিল বিভাগে উঠলে সে সময় ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। ৫ নভেম্বর বিষয়টি আদালতে এলে অ্যাটর্নি জেনারেল আবারও সময়ের আবেদন করেন। শুনানি শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১