শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির উপদেষ্টা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা তিন মাসের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে পারেন

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | শনিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০১৯ | পড়া হয়েছে 463 বার

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা তিন মাসের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে পারেন

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা তিন মাসের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে পারেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া। তিনি শনিবার ০৫ জানুয়ারি ২০১৯ দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা সবুজবাগের নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন।

উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাাইল-আশুগঞ্জ) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিভিন্ন গোলযোগের কারনে নির্বাচনী এলাকার আশুগঞ্জ উপজেলার তিনটি ভোট কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করায় এই আসনের ফলাফল ঘোষনা করা হয়নি।


উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ১০ হাজার ১৫৯ ভোটে এগিয়ে আছেন। ওই তিনটি ভোট কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ৫৭৪। আগামী ৯ জানুয়ারি স্থগিত হওয়া তিনটি কেন্দ্রে পুনঃ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
স্থগিত হওয়া তিনটি কেন্দ্র হচ্ছে আশুগঞ্জ উপজেলার যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোহাগপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া বলেন, বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা তিন মাসের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে পারেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থগিত হওয়া তিন ভোট কেন্দ্রে মৃত ও প্রবাসীর ভোটারের সংখ্যা ৫৬৩। সেই হিসেবে তিনি ভোটে এগিয়ে থাকবেন। নির্বাচন কমিশন তদন্ত করলে এখানে ভোটেরও প্রয়োজন হবে না।

তিনি বলেন, তিনটি কেন্দ্রের মৃত ও প্রবাসী ভোটারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। যা শিগগিরই রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই আসনের নির্দলীয় প্রার্থী মোঃ মাঈন উদ্দিন মঈন ওই তিন কেন্দ্রের মৃত ও প্রবাসীদের ভোট আগের রাতেই কাস্ট করার ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি বলেন, স্থগিত তিন কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা থেকে মৃত ও প্রবাসী ভোটারদের বাদ দিলে আমার প্রতিপক্ষ নির্দলীয় প্রার্থী থেকে আমি ভোটে বেশি থাকি। যেটি নির্বাচন কমিশন তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নিলে ওই তিন কেন্দ্রে পুনঃভোটের প্রয়োজন হবেনা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে যে, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মৃত ও প্রবাসী ভোটারসহ সব ভোট আগের রাতেই কাস্ট দেখিয়ে আমাকে পরাজিত করা হবে। তিনি বলেন, জনগন ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে সর্বোচ্চ ভোট আমার পক্ষেই পড়বে। তিনি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্নভাবে পুনঃ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই আসনের ১৩২ কেন্দ্রের মধ্যে ১২৯ কেন্দ্রের ফলাফলে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭২৩ ভোট আর আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি – মাঈন উদ্দিন মঈন (কলার ছড়ি) পেয়েছেন ৭২ হাজার ৫৬৪ ভোট। প্রাপ্ত ফলাফলে মোঃ মাঈনউদ্দিন মঈন ১০ হাজার ১৫৯ ভোটে পিছিয়ে আছেন।

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়ার বাড়ি নির্বাচনী এলাকার সরাইল উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামে। অপর দিকে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাঈন উদ্দিনের বাড়ি নির্বাচনী এলাকার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহরে। যে কারনে আশুগঞ্জে রয়েছে মাঈনউদ্দিন মঈনের ব্যাপক জনপ্রিয়তা।পুনঃ নির্বাচনে মাঈন উদ্দিন মঈন জয়ী হবেন বলে আশা করছেন মাঈনউদ্দিনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা।
আশুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নেতা-কর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আশুগঞ্জ থেকে কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। বিষয়টিকে এলাকা ইজম হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন আশুগঞ্জবাসী। প্রেস্টিজ ইস্যুর নির্বাচনে ভোট দিতে প্রবাসীরা দেশে ফিরছেন।

এ ব্যাপারে বিদ্রোহী প্রার্থী মাঈন উদ্দিন মঈনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভোট দেওয়ার জন্য গত তিনদিনে ৭৭জন প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। নির্বাচনের আগে সকল প্রবাসীই দেশে ফিরবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক, সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০