শিরোনাম

‘বানসালি-দীপিকার’ গলা কেটে ফেলা হবে!

বিনোদন ডেস্ক : | শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 168 বার

‘বানসালি-দীপিকার’ গলা কেটে ফেলা হবে!

সঞ্জয়লীলা বানসালির ‘পদ্মাবত’ নিয়ে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। সেটে ভাংচুর, পোস্টার পোড়ানো, বিক্ষোভ, রঙ্গোলি নষ্ট। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত পেয়েছিলেন দীপিকা-বানসালি। এবার দু’জনের গলা কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির এক নেতা।

সম্প্রতি একটি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ঠাকুর অভিষেক সোম নামের এই নেতা বলেন, ‘সঞ্জয়লীলা বানসালি ও দীপিকা পাড়ুকোনকের ‘পদ্মাবত’ যদি মুক্তি পায় তাহলে আমরা চুপ থাকবো না। তাদের গলা কেটে নেওয়া হবে। এজন্য পাঁচ কোটি রুপি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি আমরা। এমনকি ভারত ছেড়ে যেতে হবে দীপিকাকে। স্বয়ং মোদীজি এটি ঠেকাতে পারবেন না।’


তার এই বক্তব্য সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আদেশের পরিপন্থী। এমনটি বলা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময়ই পদ্মাবতীকে নিয়ে ছবি তৈরির বিরোধীতা করে এসেছি, কারণ তিনি আমাদের দেবী। আমাদের পূর্বপুরুষ তার উপাসনা করেছেন, আমরা তার উপাসনা করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তার উপাসনা করবে। আপনি আমাদের আত্মমর্যাদা ও গর্বের বস্তু নিয়ে খেলতে পারেন না। আমরা সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে সম্মান করি, তবে তাদেরও (বিচারক) আমাদের অনুভূতি বোঝা উচিৎ।’

সম্প্রতি ‘পদ্মাবত’ ছবির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়ার জন্য ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন ছবির দুই প্রযোজক অজিত আন্ধারে ও সঞ্জয়লীলা বানসালি। কেননা সেন্সরের ছাড়পত্র পাওয়ার পরও ‘পদ্মাবত’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলো কয়েকটি রাজ্য। এগুলো হলো রাজস্থান, হরিয়ানা, গুজরাত, মধ্য প্রদেশ ও হিমাচল।

বৃহস্পতিবার (১৮.০১.২০১৮) সেই মামলার শুনানি হয়। এসময় সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র জানান, এ ঘটনা সাংবিধানিক বিচারবুদ্ধির ক্ষেত্রে একটি অভিঘাত। সেন্সরের মতো সংস্থা ছাড়পত্র দেওয়ার পর রাজ্যগুলো তাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে না। যে রাজ্যগুলো ইতিমধ্যে ছবিটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তা কার্যকর তো হবেই না, এমনকি নতুন করে কোনও রাজ্য ‘পদ্মাবত’-কে নিষিদ্ধ করতে পারবে না।

দেখে ইউএ সার্টিফিকেট দিয়েছেন ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের প্রধান প্রসূন যোশী, ইতিহাসবিদ অরবিন্দ সিং, চন্দ্রমণি সিং ও কে কে সিং। তবে এর নাম পাল্টে ‘পদ্মাবত’ রাখেন তারা। ১৬শ শতকের কবি মালিক মুহাম্মাদ জায়াসির লেখা একটি কাব্যের নাম এটি।

দীর্ঘ ৭০০ বছর আগের সময়ের চিত্তরের রানি পদ্মিনীর জীবন নিয়ে বিগ বাজেটের এই চলচ্চিত্রটি গত ১ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, গুজরাট, হরিয়ানাসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ করছে নানা ধর্মীয় সংগঠন। নানা জায়গায় বিক্ষোভে কণ্ঠ মিলিয়েছেন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারাও। এমনকি ছবির প্রধান অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের নাক কেটে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন কর্ণি সেনারা।

বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিলো, দিল্লির শাসক আলাউদ্দিন খিলজির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে রাজপুত রানি পদ্মিনী ১৬ হাজার নারীকে নিয়ে চিতায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন। কিন্তু ‘পদ্মাবতী’ সিনেমায় তার সে মর্যাদা ও আত্মত্যাগকে খাটো করা হয়েছে। খিলজির সাথে পদ্মিনীর মুখোমুখি কখনও দেখা না হলেও চলচ্চিত্রের গল্পে তাদের মধ্যে একটি স্বপ্নদৃশ্য রাখা হয়েছে। আর এ নিয়েই ঘটছে নানা ধরনের তাণ্ডব।

‘পদ্মাবত’ এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন। এতে তার সহশিল্পী রণবীর সিং ও শহিদ কাপুর। ২৫ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ছবিটি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১