শিরোনাম

রাত-দিন প্রাইভেট পড়িয়ে ক্লাশে যেয়ে শিক্ষক হন ক্লান্ত

বাঞ্ছারামপুরে রমজানভিত্তিক ‘প্রাইভেট বাণিজ্য’ তুঙ্গে

বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি : | বুধবার, ১৬ মে ২০১৮ | পড়া হয়েছে 230 বার

বাঞ্ছারামপুরে রমজানভিত্তিক ‘প্রাইভেট বাণিজ্য’ তুঙ্গে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রাইভেট বাণিজ্য এখন তুঙ্গে উঠেছে বলে জানা গেছে। কোন শিক্ষকের কাছে পূর্বের চুক্তির টাকায় সিরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান অভিভাবকরা। সে জন্য ২ গুণ থেকে ৩ গুণ বেশী দামে শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়াতে দাম হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আমরা দরিদ্র বলে সারা বছর প্রাইভেট পড়াতে পারি না। চেষ্টা করি রমজান মাসে যেহেতু স্কুল বন্ধ থাকে, সেই একটা মাস প্রাইভেট পড়ে যদি সন্তানরা পড়াশুনায় কিঞ্চিত উন্নতি করতে পারে। কিন্তু, শিক্ষক/ স্যার-রা তো এখন প্রাইভেট ৫শ’ টাকার জায়গায় ১ হাজার টাকা রেট করে ফেলেছে। আমরা অটো চালাই, কেউ ব্যাটারী চালিত রিক্সা, কেউবা তরকারি বিক্রি বা দিনমজুরের কাজ, আমরা এতো টাকা পাবো কোথায়?’


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করেন, বাসায় এসে রমজান মাসে পড়াতে আমি আগে যে শিক্ষককে ২ হাজার টাকা দিতাম, তিনি এ বছর চাচ্ছেন ৫ হাজার টাকা। কি করবো? মাথায় ধরছে না। তা-ও আবার সপ্তাহে ২ দিন পড়াবে রাতে। বাঞ্ছারামপুর এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক, একই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত একজন হিন্দু ধর্মীয় গণিত বিষয়ের শিক্ষক, ইংরেজীর পার্টটাইমার শিক্ষক রয়েছেন যাদের সাথে আমার কথা হয়েছে। তারা বাড়িতে আসতেই চান না। জোর করে একজনকে রাজি করিয়েছি ১০ হাজার টাকায় দুই বিষয় দেখাবে।

বিভিন্ন সূত্র এবং খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের নিয়মিত শিক্ষক, পার্টটাইমার ৩ জন গণিত ও ইংরেজির শিক্ষক প্রতি ব্যাচে ১ হাজার টাকা করে নিয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। প্রতি ব্যাচে থাকে ২০ হতে ২৫জন শিক্ষার্থী। প্রাইভেট শিক্ষকদের ঘন্টা ধরা হয় ঘড়ির কাঁটার ৪০ মিনিটে। ১মিনিট বেশী পড়ানো হয় না। তাতেও সিরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে না। বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার জন এবং এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২শত ৬৫ জন। সেই শিক্ষকরা সকাল ৬ টা হতে প্রাইভেট বাণিজ্য শুরু করেন, শেষ করেন ১০ টায়। ১০টা ১০ মিনিটে স্কুলে হাজির হন ক্লান্ত দেহে। ক্লাশে কিছুক্ষণ টাইম পাস করেন, অনেকে সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে প্রসঙ্গ তুলেন কেউবা ফেসবুকে অমুক টা দেখেছো কি-না? এক সময় ঘড়ি দেখেন সময় হলো কি-না! এসব কথা বলে ৪০ মিনিট শেষ!

জানা গেছে, প্রাইভেট বাণিজ্যে টপ গিয়ারে আছেন বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মুখলেস মাষ্টার, কৃষ্ণা মাষ্টার, তারপর পার্টটাইমার মাষ্টারদের মধ্যে বাদল মাষ্টার, শাহিন মাষ্টার, ফারুক মাষ্টারের নাম রয়েছে। তাদের মাসিক আয় ২ লক্ষাধিক টাকা। এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের টপ গিয়ারে রয়েছেন বলে যাদের নাম শুনা যায়, তারা হলেন যথাক্রমে মতিন মাষ্টার (ইংরেজি), তরিকুল মাষ্টার (গণিত), নিখিল চন্দ্র দাস এবং খলিল মাষ্টার।

কথা বলে জানা গেছে, একেক জন শিক্ষক যারা লেবেল ওয়ান-১ (টপ গিয়ার) বলা হয়, তাদের মাসিক প্রাইভেট বাবদ অর্জিত আয় নূন্যতম লাখ টাকা। লেবেল-২ যারা আছেন তাদের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও রয়েছেন। তাদের রোজগার মাসে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা। লেবেল-৩ যারা হিসাব বিজ্ঞান, বিজ্ঞান, সমাজ, গ্রামার (ইংরেজি ২য় পত্র) তাদের আয় নীট ১ লাখ টাকা।

কেন প্রাইভেট পড়ান, স্কুলে পড়ানো হয় না? এমন প্রশ্নের মুখে জনৈক অভিভাবক বলেন, যদি অমুক স্যারের কাছে প্রাইভেট না পড়াই, তা হলে শিক্ষার্থীকে ক্লাশে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল করা হয়। হয়রানী করা হয় নানা প্রশ্ন করে, পরীক্ষার খাতায় নাম্বার কম দেয়া হয়, সেজন্য প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য হই।

প্রাইভেট শব্দের অর্থ ব্যক্তিগত। ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ৩ হতে ৫ জনকে পড়ানো সম্ভব। কিন্তু তাই বলে কি ২০/২৫ জনকে এক সাথে ? তা হলে এটি রীতিমতো ক্লাশ হয়ে গেলো’ মন্তব্য করে হাসেন সুশীল সমাজের জনৈক অভিভাবক।

এ বিষয়ে কথা বললে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জানলাম। সহকর্মীদের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেবো। তবে, শিক্ষাকে বাণিজ্যের কাতারে নিতে দেবো না’।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০