শিরোনাম

বাঞ্ছারামপুরে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর না দেওয়ায় অধ্যক্ষকে পিটিয়েছেন তিন শিক্ষক

প্রতিনিধি: | রবিবার, ০৬ নভেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 393 বার

বাঞ্ছারামপুরে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর না দেওয়ায় অধ্যক্ষকে পিটিয়েছেন তিন শিক্ষক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অধ্যক্ষ পদত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় সভাপতির নির্দেশে অধ্যক্ষকে পিটিয়েছেন তিন শিক্ষক। গত শনিবার দুপুর ৩ টার দিকে উপজেলার ফরদাবাদে ড. রওশন আলম কলেজে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অধ্যক্ষ নুরুল হক বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামে ড. রওশন আলম কলেজের সাধারণ সভা চলাকালে গত শনিবার দুপুর ৩ টার দিকে সভাপতি ও সাবেক বিএনপি নেতা ড. রওশন আলম অধ্যক্ষ নুরুল হক কে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। অধ্যক্ষ স্বাক্ষর দিতে রাজি না হওয়ায় এই নিয়ে সহকারী অধ্যপক মুফতী কামাল উদ্দিন ভূইয়ার সাথে অধ্যক্ষের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তিন সহযোগী অধ্যাপক মুফতি কামাল উদ্দিন, ফেরদৌস মিয়া ও কে এম কায়সার ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষ নুরুল হককে কিল ঘুষি ও ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় এবং কলেজের রেজুলেশন খাতা কেড়ে নিয়ে সভাপতির নির্দেশে অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করে সহকারী অধ্যাপক নিলয় দেবনাথ কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হয়। এটা রেজুলেশন বইয়ে লেখার সময় অন্য সদস্যদের আপত্তি করেন পরে অন্য সদস্যরা রেজুলেশন খাতা ছিড়ে ফেলেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সভাপতি তড়িগরি করে সভা শেষ করে চলে যান।
এ বিষয়ে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, “প্রিন্সিপাল সাহেবকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে সভাপতি ড. রওশন আলম সাহেব বললে তিনি রাজি না হওয়ায় এক পর্যায়ে মুফতী কামাল, কায়সার ও ফেরদৌস প্রিন্সিপাল স্যারকে কিল ঘুষি মেরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে আমি, শহিদুল্লাহ মাষ্টার, কাদির ভাই গিয়ে প্রিন্সিপাল স্যারকে তাদের হাত থেকে বাঁচাই। বিষয়টা খুবই দুঃখ জনক।”
এব্যাপারে সহকারী অধ্যাপক ফেরদৌস মিয়া বলেন, “অধ্যক্ষ আমাদের শিক্ষকদের বেতন আটকিয়ে রাখায় আমরা শিক্ষকরা মিটিংএ অধ্যক্ষ নুরুল হকের অপসারণ দাবি করি। অপসারণের পক্ষে বেশির ভাগ শিক্ষক থাকায় সভাপতি সাহেব অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করে নিলয় দেবনাথকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন। রেজুলেশন খাতাটি অধ্যক্ষ সাহেব নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমি ও মুফতি কামাল বাধা দেই। অধ্যক্ষের কাছ থেকে খাতাটি কেড়ে এনে সভাপতি সাহেবকে দেই।”
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ নুরুল হক বলেন, “কলেজের মিটিং চলাকালে জোর করে আমাকে সভাপতি সাহেব পদত্যাগ করাতে চান। আমি রাজি না হওয়ায় সভাপতির নির্দেশে মুফতি কামাল উদ্দিন ও ফেরদৌস মিয়া আমার উপর চড়াও হয় এবং রেজুলেশন খাতা কেরে নেয় এবং নীতিমালা ভঙ্গ করে আমাকে বরখাস্ত করতে চেয়েছে। সভাপতির মনগড়া মতো কাজ না করায় তিনি আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হন।”
এব্যাপারে মুফতী কামাল উদ্দিন জানান, “আমি অধ্যক্ষ স্যারকে মারধর করিনি। রেজুলেশন খাতা সভাপতি সাহেবের সামনে থেকে অধ্যক্ষ সাহেব নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমি উনার (অধ্যক্ষ) কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে সভাপতি সাহেবকে দিয়েছি। তাছাড়া অন্য কিছু করি নাই।”
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ড. রওশন আলম বলেন, “অধ্যক্ষ নুরুল হককে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আমরা কমিটি বসে মিটিং করে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছি। নুরুল হক রেজুলেশন খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করিলে মুফতি কামালের সাথে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়। আমার ইশারায় মারধর হয়েছে এই ঘটনা সঠিক না।”
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ অংশু কুমার দেব জানান, “বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান বলেন, “এই সংবাদটি আমাকে ফোনে সভাপতি ড. রওশন আলম সাহেব কিছুটা জানিয়েছে। আরও অন্য মাধ্যমে বিস্তারিত জেনে আমি পুরো বিষয়টি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০