শিরোনাম

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে

বাঞ্ছারামপুরে দিনে দিনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হস্তচালিত তাঁত শিল্প

বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি | শনিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 594 বার

বাঞ্ছারামপুরে দিনে দিনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হস্তচালিত তাঁত শিল্প

বাঞ্ছারামপুরে কাঁচা মালের উর্ধ্বগতি আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দিনে দিনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হস্তচালিত ছোট বড় তাঁত কারখানাগুলো । আর যেগুলো চালু আছে সেগুলোও চলছে কোন রকমে। তাই জীবনের তাগিদে এ শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারা চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়। তবে, ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
তাঁত পল্লী খ্যাত বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের একসময় দিন-রাত চলত অসংখ্য কারখানা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে গেছে অনেকগুলো হস্তচালিত তাঁত কারখানা। বাঞ্ছারামপুর রুপসদী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ছিল হস্তচালিত তাঁত কারখানা। তখন ঐসব এলাকায় দিন-রাত তাঁতের খট খট শব্দে মুখর থাকলেও এখন শুধুই সুনসান নীরবতা। যন্ত্র চালিত পাওয়ার লুমের আধিক্য এবং রং সুতার দাম বাজারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হস্তচালিত তাঁত কারখানা গুলো। কয়েকজন তাঁত শ্রমিক জানান, এখন বাঞ্ছারামপুরে বিভিন্ন ইউনিয়নের সর্বমোট পাঁচ থেকে সাত শ তাঁতি আছেন। বর্তমানে কাজ খুবই কম। আবার অন্যদিকে মহাজনদের বেচা-কেনা কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের তারা আগের মতো কাজ দিতে পারছেন না। তবে বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্বল্প পরিসরে কিছু কারখানা চালু থাকলেও বেড়ে চলেছে লোকসানের বোঝা। আর এখনো যারা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছেন তারা রয়েছেন চরম বিপাকে ও মানবতর জীবন যাপন করছেন। একজন তাঁত মালিক জানান, কাঁচা মাল কেনা আর শ্রমিকের মজুরি দিয়ে সব খরচ মিলিয়ে দেখা যায় যে,  প্রতি এক থান লুঙ্গি ও শাড়ি তৈরী করার পর বাজারে দোকানদার এর কাছে বিক্রি করতে গেলে প্রতি থানে এক শ থেকে দুইশত টাকার মত লোকসান হচ্ছে। তাই লোকসানের বোঝা দিনে দিনে বেড়ে যাওয়ায় বাঞ্ছারামপুর বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য হস্তচালিত তাঁত কারখানা। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন অনেকেই।
ঐতিহ্যবাহী এ তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানালেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত ওসমান। তিনি বলেন, সরকারের এ সংশ্লি¬ষ্ট দপ্তরগুলোতে যোগাযোগ করে অত্র অঞ্চলের এই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। বাঞ্ছারামপুরে তিনটি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি হস্তচালিত তাঁত কারখানা। আমরা কি কারণে তাঁত কল গুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তা মনিটরিং করার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছি। শুধু রুপসদী ইউনিয়নে তিন শ থেকে চারশত কারখানা ছিল। তাদের মূল সমস্যা কি তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১