শিরোনাম

কষ্ট আর সংগ্রাম করে বেচে আছে

বাঞ্ছারাপুরের দুই প্রতিবন্দ্বীর

বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি : | বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | পড়া হয়েছে 390 বার

বাঞ্ছারাপুরের দুই প্রতিবন্দ্বীর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত নগরীরচর গ্রামের প্রতিবন্দ্বী বামুন মো.মাহিউল্লাহ’র ২ কন্যা আর ১ ছেলের মধ্যে ৩জনই প্রতিবন্দ্বী। তারা সবাই বামুন আকৃতির। বড় মেয়ে মাজিয়া আক্তার (২৭) স্বামী পরিত্যাক্তা।
আরেক প্রতিবন্দ্বী ছোট মেয়ে মোকছেনা আক্তার(২০) বহু কষ্টে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হয়। কেবল অর্থাভাবে এক বছর ধরে পড়াশুনা বন্ধ করে বাড়িতে বসে সেলাইয়ের কাজ করে পরিবারের দু-বেলা আহারের ব্যবস্থা করার জন্য দিনরাত শ্রম দিচ্ছে। মোকছেনা জানায়, সংসারে আমার আম্মা গত ১৫ বছর ধরে ডায়াবেটিসে আর বাবার ষ্ট্রোক করে ৫ বছর আগে ঘরে বসা। তার আগে শত প্রতিক’লতা সত্বেও তিনি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকতেন।
পরিবারটির সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৫ সদস্য পরিবারটি চলছে সেলাইয়ের উপর ভর করে। প্রতিবন্দ্বী বামুন আকৃতির দু বোন মোকছেনা আর মাজিয়া দিনরাত সেলাই করে। তারপরও কারো দয়ায় বাঁচতে চায় না প্রতিবন্দ্বী পরিবারটি।
পরিবার কর্তা মাহিউল্লাহ শয্যাশায়ী অবস্থায় ধীরে-ধীরে বলেন,-‘‘আমার ২ বিবাহযোগ্যা মেয়ে আর আমি নিজে বামুন আকৃতির প্রতিবন্দ্বী।এ যাবত কোন সরকারি সহায়তা পাই নাই।প্রতিবন্দ্বী হওয়া সত্বেও সমাজের বাঁকা চোঁখ বা ঠাট্টা পরোয়া না করে মোকছেনা কলেজ অব্দি গিয়েছে। সে মেধাবী। তাকে যদি কেউ একটা চাকুরী দিতো !”
মোকছেনার মা আজমিরী বেগম বলেন, ‘আমার ২ প্রতিবন্দ্বী মেয়েই আমার শক্তি। তাদের ১টি সেলাই মেশিনে কাজ করায়, চুলায় হাড়ি চড়ে।’
এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শওকত ওসমান বলেন, পরিবারটি নিদারুন কষ্ট আর সংগ্রাম করে বেচে আছে। সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালায় তারা। প্রতিবন্দ্বী হওয়া সত্বেও সেলাই মেশিনের সাহায্যে একটি পরিবারের যুদ্ধজয় আর স্বাবলম্বীতার এরচেয়ে বড় উদহারন আর কি হতে পারে ? তার আরেকটি সেলাই মেশিন ও মোকছেনা আর্থিক সাহায্য পেলে কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারতো’।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০