শিরোনাম

বাঞ্চারামপুরে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ॥ ভেঙ্গে পড়েছে রেলিং

বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ | পড়া হয়েছে 76 বার

বাঞ্চারামপুরে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ॥ ভেঙ্গে পড়েছে রেলিং

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে একটি বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল ধরে ভেঙ্গে পড়েছে রেলিং।

গত সোমবার নিম্নমানের কাজের বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


বিদ্যালয়ের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালি ইউনিয়নের তেজখালি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের দরপত্র আহবান করে। ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজটি পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেসার্স জে বি বিল্ডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি জে বি বিল্ডার্স কাজটি পেলেও বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজটি মূলত করছেন ঠিকাদার মোর্শেদুল ইসলাম। কিন্তু ঠিকাদারের অবহেলার কারণে নির্মাণকাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও প্রয়াজনীয় অনুপাতে নির্মাণ উপকরণ না দেওয়ায় এসব কাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রেলিংগুলোতে প্রয়োজনীয় রড না দেওয়ার কারণে সেসব ফেটে ভেঙ্গে পড়েছে। সিমেন্টের পরিমান কম দেওয়ায় পলেস্তরা এখনই খসে পড়ছে।

নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে ত্রুটিগুলো সংশোধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে অনুরোধ জানান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, ২০১৯ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে বিভিন্ন তালবাহানা করে ২ বছরের বেশি সময় পার হলেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। দুই বছরের কাজটি তিন বছরে গড়িয়েছে। একাধিকবার তাগাদা দিয়েও কাজ শেষ করতে ঠিকাদার তালবাহনা করেছেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি খবির বলেন, গত দুইদিন আগে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ও এলাকার লোকজন বিদ্যালয়ের বারান্দার রেলিংয়ে ফাটল দেখতে পান। গত সোমবার কমিটির লোকজন গিয়ে ওই ফাঁটলে ধাক্কা দেন। এতেই বিদ্যালয়ের বারান্দার রেলিং ভেঙ্গে পড়ে। নিম্নমানের কাজের জন্যই এমন হয়েছে। তাই গত সোমবার জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

চারতলা নতুন ভবন নির্মাণের কাজ করা ঠিকাদার মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। করোনার কারণে কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে। তবে নির্মাণকাজের প্রায় ৮০শতাংশই শেষ হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ যদি হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাহলে রেলিং তো ভাঙবেই। ক্ষতিগ্রস্থ অংশ মেরামত করে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোঃ শাহনেওয়াজ বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। বারান্দার রেলিং নির্মাণে চারটির রডের পরিবর্তে দুটি-তিনটি করে রড দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিদ্যালয়ের নিচতলা থেকে চারতলা পর্যন্ত ২৪টি ব্লক আকারের রেলিং রয়েছে। সেগুলো ভাঙ্গার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নতুন করে রেলিং নির্মাণ করা হবে।

এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল আহসান জানান, বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদেরকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণ করা সকল রেলিং ভেঙ্গে নতন করে নির্মাণের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১