শিরোনাম

পয়লা বৈশাখ এবং ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা

নাসিরনগর প্রতিনিধি : | সোমবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৮ | পড়া হয়েছে 190 বার

পয়লা বৈশাখ এবং ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা

বাংলা পঞ্জিকার নিয়ম অনুযায়ী যুগ যুগ ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় গতকাল রবিবার কুলিকুন্ডা গ্রামে জমে উঠে দিনব্যাপী এ শুটকি মেলা। স্থানীয় জনগণের ভাষ্য অনুযায়ী প্রায় দু’শত বছরেরও অধিক সময় ধরে বসছে এ মেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুঁটকি ব্যবসায়ী ছাড়াও বাহারি শুঁটকির আকর্ষণে দূর-দূরান্ত থেকে ভোজন রসিকরা মেলায় আসেন শুটকি কিনতে। পছন্দের শুঁটকি ক্রয় করে তারা তৃপ্ত হন। প্রায় দু’শতাধিক বিভিন্ন জাতের শুঁটকির পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা।


এসব পসরায় বোয়াল, গজার, শোল, বাইম, ছুড়ি, লইট্টা, পুটি ও টেংরাসহ বিভিন্ন জাতের দেশীয় মাছের শুঁটকি। এমন কোন জাতের শুঁটকি নেই যা পাওয়া যায় না। তবে দেশী মাছের শুঁটকির প্রাধান্যই বেশী। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও আমদানি করা বিভিন্ন প্রজাতির শুটকি উঠে। মেলায় নাসিরনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীরা শুঁটকি নিয়ে আসে। সামুদ্রিক অনেক বিরল প্রজাতের মাছের শুঁটকি ছাড়াও ইলিশ ও কার্প জাতীয় বিভিন্ন মাছের ডিমের শুটকি এ মেলায় উঠেছে।

শুঁটকি ছাড়াও এ মেলায় আরেকটি বৈশিষ্ঠ হচ্ছে “বিনিময় প্রথা” অর্থাৎ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য। ভোরে এ মেলা বসার পর সকাল ১০টা পর্যন্ত বিনিময়ের মাধ্যমে বিক্রি চলে। আর এ কারণেই ধারণা করা হয় এই মেলার ইতিহাস অনেক পুরনো। মেলায় শুটকি কিনতে আসা ব্রাহ্মণশাসন গ্রামের রুবেল মিয়া (৬৫) জানান, আমি যখন ছোট তখন বাপ-দাদার সাথে এ মেলায় এসেছি। আর এখনও শুটকি নেয়ার জন্য মেলায় আসছি। কুলিকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা একজন জানান, শত বছরের বেশী সময় ধরে নিয়মিত এ মেলা বসছে।

এখনো বহু পুরনো প্রথা প্রচলন থাকায় আমরা ধারণা করছি, এ মেলা আদিম কালের। আলু, ডাল, সরিষা, পেয়াজ, রসুনসহ এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত নানা পণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি ক্রয় করেন। তবে রীতি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একদিনে লাখ লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়। মেলা আয়োজনের কোন কমিটি নেই। তারপরও মেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে। শুঁটকি বিক্রির লাখ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরে যায়। এছাড়াও মেলায় গৃহস্থালী পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা বিক্রি হয়। এবারের মেলায় প্রায় দু’শতাধিক বিভিন্ন জাতের শুঁটকির পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা। তবে এবার শুটকীর আমদানি বেশী হলেও দাম ছিল চড়া। মেলার পাশাপাশি জুয়াড়ীদের তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। এতে মেলায় আগতদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়দের মতে ব্যতিক্রম ধর্মী শুটকি মেলার পাশাপাশি পণ্যের বিনিময়ে পণ্য যুগ যুগ ধরে চালু রয়েছে। এই মেলা নাসিরনগরের ঐতিহ্যকে প্রদর্শন করে।

এদিকে উপজেলা সদরের লঙ্গণ নদীর তীরেও একই দিনে বসে ‘বিনিময় প্রথা’ অর্থাৎ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য। ভোরে এ মেলা বসার পর সকাল ১০টা পর্যন্ত বিনিময়ের মাধ্যমে বিক্রি চলে। এছাড়াও এখানে সারা দিনব্যাপী চলে আরেকটি মেলা। এখানে বিক্রি হয় মৃৎশিল্পীদের হাতের তৈরি মাটির হাঁড়ি ও তৈজসপত্র। স্থানীয় কুমারদের হাতের তৈরি হাড়িঁ, পাতিল, কলস, ঝাঁঝর, থালা, ঘটি, বদনা, বাটি, পুতুল ও প্রদীপ মেলায় মানুষের নজরকাড়ে। গ্রাম্য মেয়েদের সামান্য পয়সা সংগ্রহের জন্য নানান ডিজাইনের মাটির ব্যাংকও বিক্রি হয় এ মেলায়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১