শিরোনাম

পড়ার টেবিলে বসে বাদশাহ ফাহাদ অন্ধ হয়ে গেল

বিশেষ প্রতিনিধি : | বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 88 বার

পড়ার টেবিলে বসে বাদশাহ ফাহাদ অন্ধ হয়ে গেল

অনেক স্বপ্ন নিয়ে মা-বাবা শিশুটির নাম রাখেন বাদশাহ ফাহাদ। কে জানত অল্প বয়সেই ছেলেকে পাহাড় সমান বিপদের মুখে পড়তে হবে। এরই মধ্যে হঠাৎ একদিন পড়ার টেবিলে দুই চোখের আলো নিভে যায় বাদশাহ ফাহাদের।

এটি বিশ্বের সম্পদশালী রাষ্ট্র সৌদি আরবের সাবেক প্রেসিডেন্ট বাদশাহ ফাহাদের কথা নয়, বলছি অভাব-অনটকে সঙ্গী করে জন্ম নেয়া পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের ছোট শৌলা গ্রামের সাত বছরের শিশু বায়োজিদ ওরফে বাদশাহ ফাহাদের কথা।


দিনমজুর আব্দুল মালেক মল্লিকের দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ের মধ্যে মেজ মেয়ে মাহমুদাকে প্রায় ৯ বছর আগে একই এলাকার আবুল কালামের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে থেকে দিনমজুরের কাজ করতেন কালাম। বিয়ের দুই বছরের মাথায় অভাবের সংসারে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে পুত্রসন্তান।

এক বুক স্বপ্ন আর আদর দিয়ে সৌদি বাদশাহর নাম অনুসারে সন্তানের নাম রাখেন বাদশাহ ফাহাদ। বাদশাহ ফাহাদের জন্মের চার মাসের মাথায় বাবা আবুল কালাম দিনমজুরের কাজ করতে বের হয়ে ট্রাকের নিচে পড়ে মারা যান।

অভাব-অনটনের সংসারে মা মাহমুদা লালন-পালন করে ছয় বছর বয়সে শিশু বাদশাহ ফাহাদকে চট্টগ্রামের নজিরিয়া নইমিয়া মাহমুদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন।

কিছু দিনের মধ্যেই মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্র হিসেবে সবার দৃষ্টিতে আসে শিশু বাদশাহ ফাহাদ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের একদিন হঠাৎ মাদ্রাসার পড়ার টেবিলে বসে দুই চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করে ফাহাদ।

পরে তাকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর এক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, বাদশাহ ফাহাদের দুই চোখের আলো চিরদিনের জন্য নিভে গেছে। এরপর দেশের নামিদামি হাসপাতালে নিলেও ফাহাদের চোখের আলো আর ফেরেনি। ইতোমধ্যে ফাহাদের চিকিৎসার জন্য সব কিছু বিক্রি করে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো খরচ করেছেন মা মাহমুদা ও নানা আব্দুল মালেক মল্লিক।

চিকিৎসকরা বলেছেন, বাদশাহ ফাহাদের চোখের কর্নিয়া নষ্ট হয়ে গেছে। তার চোখ ভালো করতে হলে ভারতের চেন্নাই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হবে। এতে খরচ হবে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এরই মধ্যে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অন্ধ বাদশাহ ফাহাদ খাট থেকে পড়ে গেলে তার বাম হাত ভেঙে যায়। বর্তমানে ভান্ডারিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফাহাদ।

অসহায় বাদশাহ ফাহাদের দুই চোখের আলো ফিরিয়ে তাকে সুন্দর পৃথিবী দেখার সুযোগ করে দেয়ার আকুতি জানিয়ে মা মাহমুদা বলেন, আমার কিছুই নেই যা দিয়ে ফাহাদের চিকিৎসা করাব। এতিম শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমি সহযোগিতা চাই। দয়া করে আপনারা আমার শিশুটিকে বাঁচান।

বাদশাহ ফাহাদের জন্য সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা- মঠবাড়িয়া উপজেলার অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড মিরুখালী শাখার হিসাব নম্বর-০২০০০০৬১৯৭৩২৪, অথবা নানা আব্দুল মালেক মল্লিকের মোবাইল বিকাশ নম্বর (০১৭২৬১৫৬৯৮৯)।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১