শিরোনাম

জায়গা-জমি সংক্রান্ত জের

প্রায় ১০টি পরিবারকে বিভিন্ন প্রকার মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : | সোমবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 262 বার

প্রায় ১০টি পরিবারকে বিভিন্ন প্রকার মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের তেলিনগর গ্রামে জায়গা-জমি সংক্রান্ত জেরে প্রায় ১০টি পরিবারকে একের পর এক বিভিন্ন প্রকার মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ওই ১০টি পরিবারের পক্ষে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর জেলা পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগটি দায়ের করেন মৃত আব্দুল কাদের মিয়ার ছেলে মো. জজ মিয়া। অভিযোগটি ২৭ নভেম্বর সদর থানায় তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে যার স্মারক নং-৩২২১/২য় ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই বংশের মৃত আব্দুল আজিজ মিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম মিয়ার নেতৃত্বে মাত্র বিএস মূলে মালিকানা দাবি করে জায়গা জমি দখলের পায়তারা করে। এরই জেরে গত বছরের ২৫ নভেম্বর আব্দুর রহিম মিয়ার নেতৃত্বে জজ মিয়ার পরিবারের উপর হামলা করা হয়। হামলার পর রহিম মিয়া উল্টো জজ মিয়ার পরিবারের নামে মামলা করেন। অথচ ওই সময় তাদের হামলায় গুরুতর আহত জজ মিয়ার স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন চিকিৎসক। পরে জজ মিয়াও আইনের আশ্রয় নেন। রহিম মিয়ার মামলায় জেল খাটতে হয় জজ মিয়াসহ ভুক্তভোগি ওই ১০ পরিবারের সদস্যদের। পরবর্তীতে রহিম মিয়া শুধু বিএস দিয়ে জজ মিয়ার দাদা আব্দুল মজিদের নিজস্ব মালিকানাধীন ২১ শতক জায়গার উপর মামলা দায়ের করেন। অথচ এই জায়গার মূল মালিক মৃত আব্দুল মজিদের বংশের ১০টি পরিবার। পরিবার গুলো হচ্ছে : মন মিয়ার পরিবার, মৃত মতি মিয়ার পরিবার, মলাই মিয়ার পরিবার, জয়নাল মিয়ার পরিবার, নাসির মিয়ার পরিবার, সালাম মিয়ার পরিবার, নুরু মিয়ার পরিবার, দুলাল মিয়ার পরিবার, হেলাল মিয়ার পরিবার, মহিউদ্দিন মিয়ার পরিবার ও এরশাদ আলীর পরিবার।


মামলার আদেশে নিম্ন আদালত আব্দুর রহিম মিয়ার মামলাটি বাতিল করে দিয়ে উল্টো ক্ষতিগ্রস্তদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেন। এই আদেশ পাওয়ার পর রহিম মিয়া উচ্চ আদালতে আপিল করেন। এর ভিত্তিতে সিনিয়র সহকারী জজ, সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত শান্তি পূর্ণ ভোগদখল বজায়ের নিমিত্তে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। জজ মিয়া ওই বিএস জরিপটি বাতিলের জন্য দলিলপত্র দিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে রহিম মিয়া চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ও ১৭ নভেম্বর তার চাচা আব্দুল হামিদকে দিয়ে আরো দুইটি মিথ্যা মামলা দায়ের করান। এই মামলায় জজ মিয়ার চাচাতো ভাই মন মিয়াকে জেল খাটায়। ১৭ নভেম্বর দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, ১১ নভেম্বর রাত ১০টায় জায়গার পাশের কবরস্থানের দেয়াল ও জায়গার দেয়াল ভাঙ্গা হয়েছে। অথচ মামলার সত্যতা প্রমাণ করতে ২০ নভেম্বর মধ্যরাতে রহিম মিয়ার লোকজনই কবরস্থানের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে।

রহিম মিয়ার মামলা থেকে রক্ষা পায়নি জজ মিয়ার বাড়ির মহিলারাও। অন্যান্য মামলা ছাড়াও কোর্টে ৭ ধারায় রহিম মিয়া ও তার চাচা সুলতান জজ মিয়ার বাড়ির মহিলাদের আসামী করে আরো ৩টি মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ গত ২৪ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বিবাদমান জায়গার গাছপালা উপড়ে নষ্ট করে ফেলে রহিম মিয়ার লোকজন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সে সময় কোন বাধা দেয়নি পুলিশ সদস্যরা।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে অভিযোগকারী জজ মিয়া বলেন, রহিম মিয়া ও তার লোকজনের এসব হয়রানী মূলক মামলা থেকে আমরা নিস্কৃতি চাই। আমরা শান্তি প্রিয় লোক। আমরা কোন প্রকার দেন দরবার চাইনা। আদালতে যে রায় দেবে তা আমরা মেনে নেব। তাদের এই মামলার কারণে বাড়িতে মহিলারাও শান্তিতে থাকতে পারেনা। তাই পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছি যেন তিনি সুদৃষ্টি দিয়ে বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেন।

এ বিষয়ে জানতে রহিম মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১