[count_down]

শিরোনাম

আশুগঞ্জের দুই বিদ্যালয়ের ‘ইউএনও বক্স’ এ ২৫ চিঠি

প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের অগ্রীম প্রশ্নপত্র দেয়া হয়, সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট দাবি

আশুগঞ্জ প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 106 বার

প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের অগ্রীম প্রশ্নপত্র দেয়া হয়, সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার রওশন আরা জলিল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি হাজি আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপন করা ‘ইউএনও বক্স’ এ বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সাথে তারা বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছেন।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ি সপ্তাহের প্রতি বুধবার বাক্স খোলার অংশ হিসেবে গতকাল বাক্স দুটি খুলে এসব অভিযোগ ও পরামর্শ পাওয়া যায়। দুইটি স্কুলের বাক্সে মোট ২৫টি চিঠি পাওয়া যায়।

শিক্ষার্থীদের দেয়া অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, বাড়তি ফি আদায়, শব্দদূষণ, প্রাইভেট শিক্ষার্থীদেরকে অগ্রীম প্রশ্নপত্র সরবরাহ, শিক্ষকদের দুর্ব্যবহার ইত্যাদি। শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিদ্যালয়ের সামনে ফুটওভার ব্রিজ ও স্প্রিডব্রেকার নির্মাণ, বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে অবহিত করতে মা সমাবেশ ইত্যাদি করার পরামর্শ দেন।


গত বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ নাজিমুল হায়দার নিজে ওই দুই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ বাক্সগুলো খোলেন। এ সময় তিনি জানান, বাক্সে যেসব অভিযোগ ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

তিনি জানান, রওশন আরা জলিল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাক্সে ১৯টি ও সরকারি হাজি আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের বাক্সে ছয়টি লেখা পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে ১০টি পরামর্শ ও তিনটি অভিযোগ রয়েছে। বাকিগুলো ইউএনওকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ নাজিমুল হায়দারের উদ্যোগেই আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের রওশন আরা জলিল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি হাজী আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ে দুইটি ‘ইউএনও বক্স’ স্থাপন করা হয়। বাক্সগুলো কাঠ ও কাচ দিয়ে তৈরি।

এ ব্যাপারে রওশন আরা জলিল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল আজাদ বলেন, ‘ইউএনও স্যার নিজেই বক্স স্থাপন করেছেন গেছেন এবং নিজে এসেই শিক্ষার্থীদের লেখাগুলো নিয়ে গেছেন। তবে কি ধরণের অভিযোগ বা পরামর্শ ছিলো সেটা আমরা জানতে পারি নি। এ উদ্যোগটি খুবই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা সরাসরি যেসব বিষয় বলতে পারতেন না সেগুলো বলা তাঁদের জন্য সহজ হবে।

উল্লেখ্য, ভাল রেজাল্টের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মত অপরাধ, নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্লাশ প্রমোশন, সেকশন পরিচালনা, অতিরিক্তি শিক্ষার্থী ভর্তি, বাড়তি ফি আদায়, আর্থিক অনিয়ম, বুলিং, র‌্যাগিং এসব সমস্যা সংক্রান্ত তথ্যগুলো সঠিক সময়ে প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় না। এছাড়া শিক্ষার্থীরা পরিবারের ভয়ে কিংবা শিক্ষকদের সাথে খোলা মেলা কথা বলতে না পরার কারনে অনেক সময় চুপ করে থাকেন। এসব চিন্তা মাথায় রেখেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ নাজিমুল হায়দার এ ধরণের বক্স স্থাপনের উদ্যোগ নেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলা প্রতিটি বিদ্যালয়েই বক্স স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান ইউএনও।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১