শিরোনাম

পৌর পরিষদের দায়িত্ব হস্থান্তর উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে বিদায়ী মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন

বার্তা প্রেরক | মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৬ | পড়া হয়েছে 829 বার

পৌর পরিষদের দায়িত্ব হস্থান্তর উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে বিদায়ী মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পৌর পরিষদের দায়িত্ব হস্থান্তর উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলন গত ১৮ এপ্রিল ২০১৬ রোজ সোমবার সকালে পৌরসভার মাহবুবুল হুদা সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন ও তাঁর পরিষদের বিদায়ী কাউন্সিলরবৃন্দ এবং নব নির্বাচিত মেয়র মিসেস নায়ার কবির ও তাঁর পরিষদের নব নির্বাচিত কাউন্সিলরবৃন্দ। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রেজা, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন জামি, দৈনিক সমতট বার্তা সম্পাদক ও চ্যোনেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি, মনজুরুল আলম, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের পূর্বাঞ্চালীয় ব্যুরো চিফ পীযূষ কান্তি আচার্য, দৈনিক ভোরের ডাকের জেলা প্রতিনিধি স.ম. সিরাজুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ এবং শহরের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিদায়ী মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন একটি উন্নয়ন বঞ্চিত, ঋণগ্রস্থ পৌরসভার উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়ে আমি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম। বিরুপ পরিস্থিতিতে বন্ধ থাকা রি-এসেসমেন্ট সম্পন্ন করে বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে প্রজেক্ট এনে আমরা বিগত পাঁচ বছরে পৌর কমিউনিটি সেন্টার, আধুনিক কিচেন মার্কেট, ভাদুঘর সুপার মার্কেট, পানির অভারহেড ট্যাংক, আর্সেনিক আয়রন দূরিকরণ প্লান্ট, শেখ শাহনেওয়াজ ব্রিজ, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী সড়ক, মেয়র হেলাল উদ্দিন সড়ক সহ প্রায় ১৫৫ টি রাস্তা, ৭৭ টি ড্রেণ, ৩০ কালভার্ট নির্মান ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করেছি। আমাদেও সময়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে, দাপ্তরিক সেবা গ্রহন দ্রুত ও সহজ লভ্য হয়েছে। আমাদের পৌরসভা শতকরা ৮০ ভাগ ডিজিটালাইজ হয়েছে। যেমন পৌরকর, পানির বিল, জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি এখন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পৌরবাসীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। আপনাদের সহযোগিতায় ঋণগ্রস্থ পৌরসভা আজ সাবলম্বী হয়েছে। আমাদের বর্তমান পরিষদ পৌরসভায় কোন ধরনের দায় দেনা রেখে যাচ্ছি না। উপরন্তু বর্তমান সরকার ঘোষিত পে-স্কেল ২০১৫ মোতাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন পরিশোধ সহ বিগত পরিষদের ৭০ ভাগ ঋণ আমরা পরিশোধ করেছি। তিনি বলেন এই পৌরসভার বয়স ১৪৮ বছর। এই দেরশত বছরে কখনই পৌরসভার শতভাগ উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। কারণ দিন দিন পৌরসভার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে বৃদ্ধিপাচ্ছে উন্নয়ন চাহিদা। আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিগত পাঁচ বছরে অতীতের যেকনোসময়ের চেয়ে তুলনা মূলক বেশী উন্নয়ন হয়েছে। তিনি বলেন আগামী পরিষদে আমরা থাকবো না। কিন্তু এই শহরেই আমাদের বসবাস। আমাদের সন্তানেরা এই শহরের আলো-ছায়ায় বড় হবে। তাই আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে হলে আজ থেকে যে নতুন পরিষদ আসছে তাদের সবাইকে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করতে হবে। বিগত পাঁচ বছর পৌর কাউন্সিলর, পৌর কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দ, আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য হয়ে সুখে দুঃখে পৌরসভার উন্নয়ন ও পৌরবাসীর সেবা করেছি। বক্তব্যে তিনি আরো বলেন দলের সিধান্ত মেনে আমি এই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করিনি কিন্তু একজন রাজনীতিবীদ হিসেবে, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে, পৌরবাসীর সন্তান হিসেবে আমি আজীবন পৌরবাসীর সেবায় মানুষের পাশে থাকবো। নিজেকে জনকল্যাণ মুলক কাজে নিয়োজিত রাখবো। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। পরিশেষে তিনি নব নির্বাচিত মেয়র মিসেস নায়ার কবিরের নেতৃত্বে নতুন পরিষদের সকলকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। এসময় এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নব নির্বাচিত মেয়র মিসেস নায়ার কবির বলেন আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রথম মহিলা মেয়র নির্বাচিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়েই আমি এই পৌরসভাকে আরো আধুনিক ও  পৌরবাসীকে আরো উন্নত সেবা প্রধান করেত চেষ্টা করে যাবো। সাবই আমার জন্য দোয়া করবেন আমরা যেন অতিতের যে কোন সব ভেদাভেদ ভুলে, সকলের পরামর্শ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যেতে পারি। সাংবাদিক সম্মেলন সভা পরিচালনা করেন পৌর সচিব মোঃ ইসহাক ভুঞা। পরে বিদায়ী মেয়র নব নির্বাচিত মেয়রের কাছে তার পৌরসভার দায়িত্ব হস্থান্তর করেন। অনুষ্ঠানে সাবেক বর্তমান মেয়র এক অপরকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০