শিরোনাম

পূজার আনন্দ আমার পরিবারে নাই : রসরাজ দাস

অনলাইন ডেস্ক : | শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 293 বার

পূজার আনন্দ আমার পরিবারে নাই : রসরাজ দাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ৩০ অক্টোবর। এই এক বছরে এলাকার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। বদলায়নি কেবল সেই রসরাজের পরিবারের চিত্র। সেদিনের ভয়াবহ তাণ্ডবের স্মৃতি আর মামলা নিয়ে কষ্টের মধ্যে আছে মৎস্যজীবী রসরাজের পরিবার। অনেক চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে রসরাজের বড়ভাই দয়াময়ের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রসরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

রসরাজ জানান, তিনি বুধবার সারারাত বিলে মাছ ধরেছেন। এখন ঘুমাচ্ছেন। রাতে আবার বিলে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলতে যাবেন। আগের মতোই জীবন চলছে। বিলে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। এলাকার পরিবেশ এখন কেমন বা কোনও সমস্যা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রসরাজ বলেন, ‘ভাই, রাত পোহাইলে পূজা (দুর্গা পূজা) কিন্তু মনের মধ্যে ভয়। আমার বিরুদ্ধে মামলা আছে। কী থেকে কী হয়ে যায়। আমি তো কোনও কিছু জানি না। আমারে মারল, আবার আমার নামেই মামলা দিলো। আমার ও আমার পরিবারের কোনও পূজার আনন্দ নাই।’


তিনি আরও বলেন, ‘এখন প্রতি মাসে কোর্টে গিয়ে হাজিরা দিতে হয়। সামনের মাসের দুই তারিখ (০২ অক্টোবর) আবার হাজিরা দিতে যেতে হবে। কোর্টে গিয়ে লাভ হচ্ছে না। উকিল সাহেব বলছে, পুলিশ নাকি কোর্টে কী রিপোর্ট দিবে। ওইটা না দিলে মামলার কোনোকিছু করতে পারবে না। ভাই, আপনারা সরকারের বড় স্যারদের বলে আমারে এই দরবার থেকে মুক্তি দেন!’

রসরাজের মামা ইন্দ্রজিত দাস বলেন,‘ভাগনের মামলা নিয়ে কোর্টে দৌড়াতে দৌড়াতে কূলকিনারা পাচ্ছি না। প্রায় এক বছর হলো। পুলিশ এখন পর্যন্ত মামলার চার্জশিট দিলো না। উকিল সাহেব বলছেন চার্জশিট না দিলে মামলার সুরাহা হবে না। এখন আমরা চার্জশিটের অপেক্ষায় আছি। এই ঝামেলা কবে শেষ হবে এই চিন্তায় আছি। আগে অনেকে খোঁজখবর নিতো। এখন আর কেউ কোনও খোঁজখবর নেয় না।’ এ মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া জানান, ঘটনার প্রায় এক বছর হতে চলেছে, পুলিশ এখনও চার্জশিট দিতে পারেনি। এ ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। আমরা আশা করব দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সঠিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেবেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মো.মফিজ উদ্দিন ভূইয়া জানান, মামলার আলামত সিডির কপি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির হেডকোয়ার্টারে এক্সপার্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের মতামত পেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং পুলিশ সুপারের নির্দেশনা মতো দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হবে। কত দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করে কোনোকিছু বলা যাচ্ছে না।’

রসরাজের ব্যাপারে তদন্তে এখন পর্যন্ত কিছু পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে মফিজ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘রসরাজের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায়নি। যা পাওয়া গেছে তা অস্পষ্ট। তদন্ত রিপোর্ট আসলেই বিস্তারিত জানতে পারবেন।’

গত বছরের ২৯ অক্টোবর ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে অবমানার অভিযোগে নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের দাস পাড়ার বাসিন্দা রসরাজ দাসকে বিল থেকে ধরে এনে একদল যুবক বেধড়ক মারধর করে নাসিরনগর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। ওইদিন রাতেই তথ্য প্রযুক্তির আইনের ৫৭/২ ধারায় রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।কয়েক মাস জেলে থাকার পর আদালতের মাধ্যমে জামিনে জেল থেকে বের হয়ে আসেন রসরাজ।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০