শিরোনাম

পুলিশের খাতায় পলাতক, নিয়মিত পরিষদে আসেন ইউপি মেম্বার

স্টাফ রিপোর্টার | বুধবার, ০৬ অক্টোবর ২০২১ | পড়া হয়েছে 362 বার

পুলিশের খাতায় পলাতক, নিয়মিত পরিষদে আসেন ইউপি মেম্বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে আসছেন এক ইউপি সদস্য। সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের ফরিদ মিয়া ২০১৫সালের একটি হত্যা মামলায় চার্টশিটভুক্ত আসামী। হত্যা মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত হয়েও তিনি রয়েছেন পুলিশের ধরা ছোয়ার বাইরে। সিআইডির দেওয়া চার্টশিটে তাকে পলাতক উল্লেখ্য করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫সালের ১৫মে সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের মৃত আ. লতিফের ছেলে জাহাঙ্গীরের মরদেহ অষ্টগ্রামের একটি খাল থেকে উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি প্রথম অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পুলিশের তদন্তে মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর ১০জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন নিহত জাহাঙ্গীরের মা রাফিয়া বেগম। পরে সিআইডিকে হস্তান্তরের পর তদন্তে শেষে নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য ফরিদ মিয়া সহ ৮জনের বিরুদ্ধে ২০২০সালের ২৭ আগস্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্টশিট দাখিল করেন। ওই চার্টশিটে ফরিদ মিয়া ওরফে ফরিদ মেম্বারকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ্য করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আবেদন করেন সিআইডি। ওই হত্যা মামলা আদালত ফরিদ মেম্বারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ফরিদ মেম্বার ছাড়া অন্যান্য আসামীরা এই মামলায় জামিনে রয়েছেন। আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলেও দীর্ঘদিনেও গ্রেফতার হয়নি ফরিদ মেম্বার। পুলিশের খাতায় পলাতক থাকলেও তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে আসছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সভায় যোগ দিচ্ছেন। ইউনিয়নের পরিষদের সর্বশেষ সভায়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন।


ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মামুনুর রশীদ রতন বলেন, ‘আমি অসুস্থ থাকায় এমনিতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে কম যাই। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে টিকাদান কর্মসূচিতে গিয়েছিলাম। সেদিন ফরিদ মেম্বারকে একটি কক্ষে বসে থাকতে দেখেছি’।

৩নং ওয়ার্ড সদস্য ওলিউর রহমান এই বিষয়ে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদটি ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। তাই প্রতিদিনই ফরিদ মেম্বার সাহেব পরিষদে আসেন এবং খোশগল্প করেন’।

এই বিষয়ে হত্যা মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামী নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য ফরিদ মিয়া সাথে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে, গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামী হয়ে কিভাবে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত আসেন প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি দেখা করার কথা বলেন।

এই বিষয়ে জানতে নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন,’ ফরিদ মিয়া গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামী। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি’।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১