শিরোনাম

পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে শিশুরা ॥ জিপিএ-৫ পাওয়ার স্বপ্ন অভিভাবকদের

স্টাফ রিপোর্টার : | রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 133 বার

পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে শিশুরা ॥ জিপিএ-৫ পাওয়ার স্বপ্ন অভিভাবকদের

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আজ রোববার (১৮.১১.২০১৭) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষার শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় ইংরেজী পরীক্ষা।

পরীক্ষা শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আধঘন্টা আগেই পরীক্ষার্থীরা তাদের কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাথেই ছিল অভিভাবক। শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে দেখা যায় অভিভাবকদের উপচেপড়া ভীড়। বেলা ১১টায় শুরু হয় পরীক্ষা। সন্তানেরা পরীক্ষার হলে পরীক্ষা দিলেও অভিভাবকেরা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। একই অবস্থা গভঃ মডেল গার্লস হাই স্কুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়, সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ সকল কেন্দ্রের সামনে দেখা যায়। অভিভাবকরা কেন্দ্রগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।


অভিভাবক চয়ন বিশ্বাস জানান, ছোট ভাইকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা খুবই ভালো লাগছে। একই কথা জানান, অভিভাবক এমরান উদ্দিন মাসুদ, মাসুমা হোসেন মৌমি। তারা বলেন, পরীক্ষা দেবে সন্তান, কিন্তু তাদের ঘুম হারাম। ভালো ভাবে খাতায় না লিখতে পারলে তাদের সব প্রচেষ্টা ভেস্তে যাবে। ভালো ফলাফল করতে না পারলে (জিপিএ-৫) না পেলে সব পরিশ্রম বৃথা। এই সমাপনী পরীক্ষা কোমলমতি শিক্ষার্থীর উপর (জিপিএÑ৫) পাওয়ার বিষয়টি তাদের উপর চাপ পরছে কিনা? জানতে চাইলে তারা জানান, “আমাদের সময়ে বার্ষিক পরীক্ষা ছিল। এসসি পরীক্ষার মতো এমন কায়দায় পরীক্ষা কখনো হয়নি। তাই বাচ্চাদের উপর চাপতো একটু পরবেই। ভাল ফলাফলতো সব অভিভাবক-ই চায়।
পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসা পরীক্ষার্থী এবং ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষার্থী রোবায়েত ইসলাম রণক, নির্ঝর দাস, মোঃ তাসবী, উনমে হানী-অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান হোসেন হাবিব, আব্দুর রহমান জয়, হুমায়ুন কবীর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রিয়ু দাস জানান, তারা রবিবার ইংরেজী প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষা ভালো হয়েছে বলে তারা জানায়। তারা জিপিএ-৫ পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে। জিপিএ পাঁচ পেতে হবে কেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মা-বাবা বলেছে যে করেই হউক জিপিএ-৫ পেতে হবে ! তাই জিপিএ-৫ পাওয়ার স্বপ্ন নিয়েই পরীক্ষা দিয়েছি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এমন মনোভাব সর্ম্পকে জানতে চাইলে সরকারি অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা নাজমীন জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ পাওয়াটা বাধ্যতামূলক হতে হবে অভিভাবকদের এমন ধারনা সঠিক নয়। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় কিন্তু কোথাও উল্লেখ থাকেনা যে জিপিএ-৫ পেতে হবে। তারা কিন্তু নিজের মেধা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরীক্ষায় উর্ত্তীনহয়। জিপিএ-৫ না পেলে সব শেষ, “কোমলমতি শিক্ষার্থীর উপর এমন ধারনা চাপিয়ে না দিয়ে সন্তানের লেখাপড়ার প্রতি যতœশীল হওয়াটাই সবচেয়ে উত্তম।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত বণিক জানান, এবছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৬৮ হাজার ৭শ ৯জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহন করছে। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্র্যাট দায়িত্ব পালন করেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের আসপাশ এলাকায় প্রতিবছরের ন্যায় ১৪৪ধারা বলবৎ ছিল।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০